অজয় ভট্টাচার্য

সলমন খান ও ক্যাটরিনা কাইফ অভিনীত ‘এক থা টাইগার’ সিনেমা ভারতের গুপ্তচর রবীন্দ্র কৌশিকের জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে। এ দাবি কৌশিকের পরিবারের। তবে ছবির পরিচালক কবির খান বিষয়টি স্বীকার করেননি। ররীন্দ্র কৌশিককে তাঁর কৃতিত্বের জন্য ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ‘দ্য ব্ল্যাক টাইগার’ উপাধি দেন।
রাজস্থানের কলেজ পড়ুয়া রবীন্দ্র কৌশিক ছিলেন যথেষ্ট স্মার্ট এবং বুদ্ধিদীপ্ত। তাঁর ঈশ্বর প্রদত্ত অভিনয় ক্ষমতায় মুগ্ধ সবাই। এমনকী তাঁর প্রতিভা প্রশংসিত ভারতের ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং’-এর তাবড় অফিসারদের কাছে। একসময় তিনি র’-এ নিযুক্ত হন। শুরু হয় অনুশীলন। ধীরে ধীরে ভারতের সমস্ত নথিপত্র থেকে তাঁর পরিচয় মুছে দেওয়া হয়। এমনকী মা-বাবার দেওয়া নামটুকুও। নতুন নাম হয় ‘নবি আহমেদ শাকির’। অনুশীলনের ফলে ইসলামিক রীতিনীতি, আদব-কায়দা সম্পূর্ণরূপে তাঁর করায়ত্ত হয়।
অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ‘ভারতের চোখ’ করে তাঁকে পাঠানো হয় পাকিস্তানে। ভর্তি হন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাফল্যের সঙ্গে ডিগ্রি অর্জন করার পর ঢুকে পড়েন পাক সেনাবাহিনীতে। ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকেন।
একের পর এক পদোন্নতি। বিয়ে করেন এক পাক রমণীকে। সন্তান হয়। এদিকে তিনি ভারতের চোখ হয়ে তথ্য সরবরাহ করে চলেন র’-কে। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু গোল বাধল তার পর। র’-এর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কমে আসায় অফিসাররা তুলনায় অনভিজ্ঞ একজন গুপ্তচরকে নিয়োগ করেন পাকিস্তানে। তাঁর কাজ ছিল রবীন্দ্র কৌশিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। কিন্তু এই দ্বিতীয় ব্যক্তি নজরে পড়ে যান পাক গোয়েন্দা সংস্থার। শুরু হয় তাঁর ওপর অকথ্য অত্যাচার। নির্যাতনের মুখে তিনি ভেঙে পড়েন। স্বীকার করে নেন রবীন্দ্র কৌশিকের নাম। দুঃসাহসিক কাজের জন্য যে রবীন্দ্র কৌশিক একসময় ’ব্ল্যাক টাইগার’ নামে পরিচিত হয়েছিলেন, তাঁর জীবনে নেমে আসে ঘন অন্ধকার। নির্মম অত্যাচারের পর তাঁকে মৃত্যদণ্ড দেওয়া হয়।
সেনাবাহিনীতে সাহসী কাজের জন্য নানারকম পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু গুপ্তচরদের কপালে থাকে শুধুই দুঃখ। তাঁরা যে ভারতীয়, সে পরিচয়টুকুও থাকে না তাঁদের। দেশের স্বার্থে তাঁদের আত্মবলিদানের ইতিহাসটুকুও লেখা হয় না কখনও। তাই তাঁদের নাম ইতিহাসে থাকে না। অথচ তাঁরা ভারতের চোখ হয়ে সর্বত্র বিরাজ করেন। ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। পরমবীর চক্র, অশোক চক্র, কীর্তি চক্র, কোনও কিছুই জোটে না তাঁদের কপালে। শুধুই দেশের জন্য সঁপে দিয়ে যান নিজেকে।
তবে ‘দ্য ব্ল্যাক টাইগার’ বায়োপিকের মাধ্যমে রবীন্দ্র কৌশিকের জীবনের কৃতিত্ব সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার জন্য বলিউডের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক অনুরাগ বসু অবশ্যই ধন্যবাধার্হ্য।

A sad story of a gallant person. Salute to Mr. Kaushik.