Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

হিন্দি সিনেমার মহীরুহ ধর্মেন্দ্র 

ধর্মেন্দ্র দেওল ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক অবিনাশী নাম। তিনি এমন এক অভিনেতা, যিনি শক্তি ও সংবেদন, বাস্তবতা ও স্বপ্ন, প্রেম ও কর্তব্য, এসব বিপরীত উপাদানকে একত্র করে নতুন ধরনের নায়ক তৈরি করেছেন। তাঁর চরিত্রের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সমাজ নিজের পরিচয় খুঁজে পেয়েছে। তাই বলিউডের ইতিহাসে ধর্মেন্দ্র কেবল এক সফল নায়ক নন, তিনি এক সাংস্কৃতিক যুগের প্রতীক, যেখানে সিনেমা ছিল জীবনের প্রতিচ্ছবি, আর নায়ক ছিল মানুষের হৃদয়ের প্রতিধ্বনি।

Share Links:

ড. গৌতম মুখোপাধ্যায়
সিনিয়র প্রফেসর, ইতিহাস বিভাগ
সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, পুরুলিয়া

প্রয়াত হলেন ধর্মেন্দ্র কৃষাণ দেওল (৯০)। ২৪ নভেম্বর, সোমবার নিজের বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

ধর্মেন্দ্র বিরল কয়েকজন অভিনেতার মধ্যে অন্যতম। তিনি একাধারে রোমান্টিক নায়ক, অ্যাকশন হিরো, গ্রামীণ জীবনের প্রতীক এবং মধ্যবিত্ত ভারতীয় পুরুষের রূপক চরিত্র। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর ঔপনিবেশিক ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লুধিয়ানা জেলার নাসরালি গ্ৰামে। গ্ৰামে শৈশবকাল কাটার ফলে তাঁর অভিনয়শৈলীতেও গ্ৰাম্য প্রভাব বিরাজমান ছিল। ছয় থেকে আটের দশক পর্যন্ত হিন্দি বাণিজ্যিক সিনেমার ধারাকে তিনি যেভাবে প্রভাবিত করেছেন, তা শুধু সেলুলয়েডের সাফল্য নয়, সে সময়কার সামাজিক মনস্তত্ত্বের প্রতিফলনও। তাঁর অভিনয় নায়ক চরিত্রের সংজ্ঞা ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির কাঠামোতেও পরিবর্তন এনেছিল।

ধর্মেন্দ্র ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ‍‘দিল ভি তেরে হাম ভি তেরে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিনেমা জগতে পা রাখেন। মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি প্রথমদিকে তাঁকে নায়ক হিসাবে গুরুত্ব না দিলেও ধীরে ধীরে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও পরিশ্রম তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করে তোলে। ছয়ের দশকের মাঝামাঝি ‍‘আই মিলন কি বেলা’, ‍‘ফুল অউর পত্থর’, ‍‘আয়ে দিন বাহার কে’-র মতো চলচ্চিত্রগুলির জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি প্রায়ই বলেন, ‍‘I came to Mumbai with a dream in my eyes and honesty in my heart.’

হিন্দি সিনেমার এই ‍‘হি-ম্যান’ ছয়ের দশকের শেষ থেকে আটের দশকের শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সফল হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যেমন, ‍‘আঁখে’, ‍‘শিকার’, ‍‘আয়া সাওন ঝুম কে’, ‍‘জীবন মৃত্যু’, ‍‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‍‘সীতা অউর গীতা’, ‍‘রাজা জানি’, ‍‘জুগনু’, ‍‘ধর্ম বীর’, ‍‘চাচা ভাতিজা’, ‍‘গুলামি’, ‍‘হুকুমত’ প্রভৃতি ছায়াছবিতে তাঁর অভিনয় নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। পাশাপাশি ‍‘আনপড়’, ‍‘বন্দিনী’, ‍‘চুপকে চুপকে’, ‍‘সত্যকাম’, ‍‘দ্য বার্নিং ট্রেন’, ‍‘সমাধি’, ‍‘দিল্লাগি’, ‍‘গজব’, ‍‘নয়া জমানা’ ছবিতে তাঁর অভিনয় উল্লেখযোগ্যভাবে প্রশংসিত হয়। নয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি ‍‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, ‍‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’, ‍‘রকি অউর রানি কি প্রেমকাহানি’র মাধ্যমে দর্শকদের মনোরঞ্জন করেছিলেন।

তবে এ সবকিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছিল তাঁর অভিনীত ‍‘শোলে’ চলচ্চিত্রটি। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত ‍‘শোলে’ ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক মাইলফলক এবং ধর্মেন্দ্রর কর্মজীবনের শীর্ষবিন্দু। বীরু চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি ভারতের চলচ্চিত্রে বন্ধুত্ব, বীরত্ব ও হাস্যরসের সমন্বয় ঘটিয়েছিল। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর জুটি (জয়-বীরু) আজও বলিউডের ইতিহাসে সেরা বন্ধুত্বের প্রতীক। বীরুর সংলাপ, তাঁর বাসন্তীকে উদ্দেশ করে আহ্বান কিংবা ডাকু গব্বর সিং (আমজাদ খান)-এর আক্রমণ থেকে গ্রামকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ লড়াই— সবই ধর্মেন্দ্রকে জনপ্রিয় সংস্কৃতির চিরস্থায়ী অংশ করে তুলেছে। শোলের পর ধর্মেন্দ্র হয়ে ওঠেন ‍‘ন্যাশন্যাল আইকন’, যে নায়ক আনন্দে হাসেন, কষ্টে কাঁদেন, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ান না।

ছয়ের দশক ছিল হিন্দি চলচ্চিত্রের সোনালি যুগ। দিলীপ কুমার, দেব আনন্দ ও রাজ কাপুর, এই ত্রয়ী তখন নায়কত্বের তিনরকম প্রতীক স্থাপন করেছে— বিয়োগান্তক নায়ক, চঞ্চল ও চপলমতি কেন্দ্রীয় চরিত্র আর স্বপ্নদ্রষ্টা হিরো। কিন্তু রোমান্টিক ধারায় ধর্মেন্দ্র ছিলেন ব্যতিক্রমী। তাঁর প্রেমভঙ্গি কৃত্রিম ছিল না, বরং সোজাসাপ্টা, দেশজ ও হৃদয়গ্রাহী। ‍‘চুপকে চুপকে’ (১৯৭৫), ‍‘সত্যকাম’ (১৯৬৯),‍ ‍‘গুড্ডি’ (১৯৭১) ও ‍‘শিকড়’ (১৯৬৮)-এর মতো ছবিতে তিনি একদিকে রোমান্টিক আকর্ষণ জাগিয়েছেন, অন্যদিকে চরিত্রের অন্তর্গত নৈতিকতা রক্ষা করেছেন। বিশেষ করে ‍‘সত্যকাম’ ছবিতে হৃষিকেশ মুখার্জি ধর্মেন্দ্রর মধ্যে যে সংবেদনশীল, আদর্শবাদী, সমাজসচেতন মানুষকে প্রকাশ করেছিলেন, তা ভারতীয় সিনেমার এক অনন্য কীর্তি। ‍‘অনুপমা’ (১৯৬৬) ছবিতে হৃষিকেশ মুখার্জি যে সংবেদনশীল নায়ক চরিত্র নির্মাণ করেন, সেখানে ধর্মেন্দ্র এক নিস্তব্ধ ভালোবাসার প্রতীক, যে ভালোবাসা শব্দের নয়, দৃষ্টির। এ ধরনের অভিনয় বলিউডে দুর্লভ ছিল। অনেক সমালোচকই বলেন, ধর্মেন্দ্রর কেরিয়ারের সর্বশ্রেষ্ঠ অভিনয় প্রতিভা ধরা পড়ে এই ছবিতেই।

সাতের দশকে যখন সমাজের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুবসমাজের বিক্ষোভ সিনেমায় প্রতিফলিত হতে শুরু করে, তখন ধর্মেন্দ্রর অ্যাকশন ইমেজ দর্শকের মানসিক মুক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে। ‍‘ইয়াদোঁ কি বরাত’ (১৯৭৩), ‍‘জুগনু’ (১৯৭৩), ‍‘চরস’ (১৯৭৬) এবং ‍‘শোলে’ (১৯৭৫) এই ধারার শীর্ষবিন্দু। বিশেষ করে শোলের বীরু চরিত্র ধর্মেন্দ্রকে অমর করে তোলে। জয় (অমিতাভ বচ্চন) ও বীরুর যুগলবন্ধন ভারতীয় পুরুষ বন্ধুত্বের এক চিরন্তন প্রতীক। বীরুর সংলাপ ‍‘বাসন্তী ইন কুত্তোঁ কে সামনে মত নাচ’ এক সাংস্কৃতিক অভিঘাতের প্রতীক হয়ে ওঠে, যা পরে জনপ্রিয় সংস্কৃতির অভিধানেও স্থান পায়। অ্যাকশন ও হাস্যরসের অনবদ্য মিশ্রণে ধর্মেন্দ্র ছিলেন বলিউডের এক অনন্য মুখ।

পরদাজীবনে নারী চরিত্রের প্রতি ধর্মেন্দ্রর আচরণ সর্বদা শ্রদ্ধাভাজন। তিনি কখনও নায়িকাকে অবমাননার প্রতীক হিসাবে দেখাননি। তাঁর চরিত্ররা প্রেমে দৃঢ়, কিন্তু সম্মানজনক। হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর পরদার কেমিস্ট্রি (বিশেষত ‍‘সীতা অউর গীতা’, ‍‘ড্রিম গার্ল’, ‍‘শোলে’) ছিল মধুর ও ঐন্দ্রজালিক। বাস্তব জীবনেও হেমা মালিনী পরিণত হন তাঁর সঙ্গিনীতে। এই যুগল বলিউডের ‘গোল্ডেন কাপল’ হিসাবে পরিচিতি পায়, যাদের প্রেম ও বন্ধন সিনেমার বাইরেও ভারতীয় মধ্যবিত্ত স্বপ্নের প্রতীক হয়ে ওঠে। ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তা কেবল শহরে সীমাবদ্ধ ছিল না। গ্রামাঞ্চল, ছোট শহর, এমনকী উত্তর ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তিনি ছিলেন ‘জনতার নয়নের মণি’। তাঁর ভাষা, দেহভঙ্গি ও ন্যায়বোধ সাধারণ মানুষের সঙ্গেই মিশে গিয়েছিল। অনেক সমাজবিজ্ঞানী ধর্মেন্দ্রকে বলেন ‍‘India’s first subaltern superstar’। তিনি ছিলেন বস্তির শ্রমিক থেকে কৃষক— সব শ্রেণির মানুষের নায়ক।

সরলতা ও সততার সংমিশ্রণে ধর্মেন্দ্রর অভিনয়শৈলীতে কোনও কৃত্রিমতা ছিল না। তাঁর সংলাপ উচ্চারণ ছিল স্বাভাবিক, চোখের ভাষা স্পষ্ট, আর মুখভঙ্গি প্রাণবন্ত। তিনি কখনও অতিনাটকীয়তায় ভরসা রাখেননি। তাঁর অভিনয়কে সমালোচকরা বলেন ‍‘the poetry of honesty’। অ্যাকশন দৃশ্যে তাঁর দৈহিক পৌরুষ যতটা শক্তিশালী, সংবেদনশীল দৃশ্যে তাঁর আবেগ ততটাই সূক্ষ্ম।

ধর্মেন্দ্র অভিনীত ছবিগুলি তাঁর অভিনয়ের মাধুর্যকে শাশ্বত করে রেখেছে। তাঁর পরদাচিত্র এক বিশেষ ‘Indian masculinity’-র প্রতীক। তিনি ছিলেন শক্তিমান, কিন্তু নম্র, বীর, কিন্তু মানবিক, আবেগপ্রবণ, অথচ নৈতিক। যেখানে হলিউডের নায়করা আগ্রাসনের মাধ্যমে নায়কত্ব প্রকাশ করতেন, সেখানে ধর্মেন্দ্র তা প্রকাশ করেছেন সততা ও প্রেমের মধ্য দিয়ে। তাঁর নায়ক চরিত্র ‘মাতৃভূমি’র প্রতি অনুরাগ ও সৎ কর্মের প্রতীক, যা ভারতীয় পুরুষের মনোজগতে এক আদর্শ নির্মাণ করে। ধর্মেন্দ্রর অভিনয় শুধু বিনোদন নয়, ভারতের মধ্যবিত্ত মননের নান্দনিক প্রতিফলন। তাঁর চরিত্রের দেশপ্রেম, নৈতিকতা, প্রেম ও পরিবারবোধের সংমিশ্রণ ভারতীয় সমাজের মূল সত্তাকে তুলে ধরে। শোলের বীরু যেমন হাসির মধ্যে বীরত্বের প্রতীক, সত্যকামের সত্যকাম তেমন সত্যের জন্য আত্মবিসর্জনের। এই দুই মেরুর মধ্যে ধর্মেন্দ্র ভারতীয় পুরুষের মানসিক মানচিত্র আঁকেন, যেখানে প্রেম ও কর্তব্য, আবেগ ও নৈতিকতা, হাসি ও সংগ্রাম একই সঙ্গে অবস্থান করে।

তাই ধর্মেন্দ্র দেওল শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি এক যুগের মানসিক আয়না। তাঁর মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্র পেয়েছে এক মানবিক মুখ, এক শক্তিমান হৃদয়। যে মানুষ মাঠের মাটিতে জন্ম নিয়ে পরদায় কোটি হৃদয়ের রাজা হয়েছেন, তিনি প্রমাণ করেছেন, নায়কত্ব জন্মগত নয়, অর্জিত। বলিউডের ইতিহাসে যদি সত্যিকারের ‘জননায়ক’-এর নাম খুঁজতে হয়, তবে ধর্মেন্দ্র দেওল শীর্ষ আসনে থাকবেন। তাঁর জীবন ও কর্ম এক অনবদ্য সংমিশ্রণ— রোমান্স ও বীরত্ব, দেশপ্রেম ও মানবিকতার। তিনি কেবল সিনেমা নয়, ভারতীয় পুরুষত্বের এক সাংস্কৃতিক প্রতীক। তাঁর অবদান হিন্দি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রকে কেবল অর্থনৈতিক নয়, নৈতিক ও মানবিক মাত্রা দিয়েছে। যুগের পর যুগ পেরিয়ে আজও ধর্মেন্দ্রর নাম উচ্চারিত হয় ভালোবাসার সঙ্গে, কারণ তিনি আমাদের চোখে এক ‍‘প্রকৃত নায়ক’, যিনি শক্তির মধ্যেও ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছিলেন। তাঁর সংলাপ ও ভঙ্গিতে ছিল এক ‘মাটির মানুষ’-এর স্বীকারোক্তি, যা শহুরে মধ্যবিত্তের মনেও নিরাপত্তাবোধ তৈরি করত। ধর্মেন্দ্র তাই শুধু পরদার হিরো নন, সমকালীন সময়ের সাধারণ মানুষের স্বপ্নের নায়ক।

ধর্মেন্দ্রর অভিনয়কে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি কখনও অতিনাটকীয়তায় যাননি। তাঁর মুখাবয়বে এক আন্তরিকতা, চোখে এক মানবিক উজ্জ্বলতা। তিনি সংলাপ বলতেন অত্যন্ত প্রাকৃতিক ভঙ্গিতে, যেন বাস্তব জীবনের কথা বলছেন। তাঁর শরীরী ভাষা ও হাসির মধ্যেই ছিল আবেগের অনুরণন। এ কারণেই তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে বিশ্বাস জাগাত। দিলীপ কুমারের মতো বেদনাময়, রাজেশ খান্নার মতো নরম বা অমিতাভ বচ্চনের মতো বিদ্রোহী না হয়েও ধর্মেন্দ্র নিজের এক স্বতন্ত্র স্থান গড়ে তুলেছিলেন— মানবিক, সত্যনিষ্ঠ, সাহসী ভারতীয় পুরুষের প্রতীক হিসাবে ভারতীয় সমাজে পৌরুষ মানে কেবল শারীরিক শক্তি নয়, বরং নৈতিকতা ও সুরক্ষাবোধ। ধর্মেন্দ্র এই ধারণাকে চলচ্চিত্রে জীবন্ত করেছিলেন। তাঁর নায়ক ‘protective masculinity’-এর প্রতীক, যিনি পরিবার, প্রেমিকা, সমাজ ও মাতৃভূমির রক্ষক। তাঁর অভিনীত চরিত্রে আগ্রাসনের বদলে ছিল আত্মসম্মান। তিনি কখনও নারীকে দমন করেননি, বরং রক্ষা করেন। এ কারণে তাঁর পৌরুষ দর্শকের কাছে ‘ভয়ংকর’ নয়, ‘বিশ্বাসযোগ্য’। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, ধর্মেন্দ্র ভারতীয় পুরুষত্বকে পশ্চিমা আগ্রাসনের বিপরীতে এক নৈতিক সংজ্ঞা দিয়েছেন।

ধর্মেন্দ্র দেওল ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক অবিনাশী নাম। তিনি এমন এক অভিনেতা, যিনি শক্তি ও সংবেদন, বাস্তবতা ও স্বপ্ন, প্রেম ও কর্তব্য, এসব বিপরীত উপাদানকে একত্র করে নতুন ধরনের নায়ক তৈরি করেছেন। তাঁর চরিত্রের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সমাজ নিজের পরিচয় খুঁজে পেয়েছে। তাই বলিউডের ইতিহাসে ধর্মেন্দ্র কেবল এক সফল নায়ক নন, তিনি এক সাংস্কৃতিক যুগের প্রতীক, যেখানে সিনেমা ছিল জীবনের প্রতিচ্ছবি, আর নায়ক ছিল মানুষের হৃদয়ের প্রতিধ্বনি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ধ্রুপদী বীরের বীরত্বগাথায় শিহরিত হয়েছে। একটি যুগের নৈতিক আবেগের স্পন্দন হলেন ধরম পা জি, যাঁর নিষ্পাপ হাসির মধ্যে জনতা একাত্ম হয়ে স্বপ্নজগতে পাড়ি জমায়। তাই ধর্মেন্দ্র হিন্দি সিনেমার বেতাজ বাদশা।

5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

এই বিভাগে

সফলতা কাকে বলে

বিশ্ব ক্রিকেটের উত্তরণে কেরি প্যাকারের ভূমিকা

লিটল ভয়েস বিগ ড্রিম— এক কিশোর প্রতিভার সুরেলা উদযাপন

যুগে যুগে তখন এখন (পর্ব ৮)

কলির কেলোবাজি

পথেঘাটে নাকে আঙুল সমাজের নগ্ন সত্য

ভারতীয় চলচ্চিত্রে চিরভাস্বর বাঙালি প্রতিভার আলো

আমরা দেশি কুকুরকে অবহেলা করেছি

যুগে যুগে তখন এখন (পর্ব ৭)

বাংলা সাহিত্যে নদী