কার্তিকচন্দ্র সাহা
‘আমাদের অন্তরের প্রাকৃতিক শক্তিগুলিই রোগ নিরাময়ের প্রকৃত চিকিৎসক।’ …Hippocrates
চিনের মানুষদের সম্পর্কে আমাদের সাধারণ ধারণা, তারা কৌশলী, লোভী ও শঠ। এরূপ ধারণার ঐতিহাসিক ভিত্তি হল, উত্তর-পূর্ব ভারতে বিভিন্ন পার্বত্যপথ দিয়ে আসা একসময়ের চৈনিক ব্যবসায়ীদের আচরণ। কিন্তু চাক্ষুস করলে বোঝা যায়, চিনের বহু নাগরিক অধ্যবসায়ী, কর্মঠ, সামাজিক সিদ্ধান্ত মেনে চলা, প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু জাগতিক নিয়মের অনুসারী। শিল্পের আকাশছোঁয়া উন্নতি হলেও তাঁরা তাঁদের পরম্পরাগত চিকিৎসা বা জীবনচর্যা পদ্ধতির সাহায্যই প্রথম নেন।
যে সর্বজনীন নিয়মগুলি চিনের নাগরিকরা মেনে চলেন
একটি চিরন্তন সত্যকে তাঁরা মেনে চলেন, যার মূল ভিত্তি হল, মানুষের স্বাস্থ্য কেবল রোগের চিকিৎসার জন্য নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা। মানুষের শরীর ও মন প্রকৃতিরই একটি অংশ, তাই দিনরাত্রির পরিবর্তন, ঋতুচক্র, খাদ্যাভ্যাস ও আচরণ যদি এই প্রাকৃতিক নিয়মের সঙ্গে সুর মিলিয়ে চলে, তবেই প্রকৃত সুস্থতা বজায় থাকে। এখানে রোগকে কোনও আকস্মিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয় না, বরং তা হল অন্তরের ও বাহ্যিক জীবনের অসামঞ্জস্যের ফল। যখন শরীরের ভিতরের ছন্দ ও পারিপার্শিক প্রকৃতির ছন্দের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখনই অসুস্থতা জন্ম নেয়। একইভাবে দীর্ঘায়ু হওয়া কোনও কাকতালীয় বিষয় নয়। এটি আসে নিয়মিত জীবনযাপন, সংযম, এবং ছন্দময় অভ্যাসের মধ্য দিয়ে। যে ব্যক্তি নিজের ইন্দ্রিয়, খাদ্য, ঘুম ও চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রকৃতির ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে, তার জীবনে স্বাভাবিকভাবেই একধরনের সুরেলা সামঞ্জস্য গড়ে ওঠে, আর সেটাই তাকে সুস্থ, স্থিতিশীল ও দীর্ঘ জীবন দান করে।

