সৈকত মিত্র (সংগীতশিল্পী)
যখন কিছু সৃষ্টির ভাবনা বা সুযোগ আসে, তখন মনে হয়, খুব মনোযোগ দিয়ে শ্রেষ্ঠ কর্মটি করব। হয়তো সবাই এরকমই ভাবেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরে মনে হয়, আরও ভালো হতে পারত। আমার মধ্যে এখনও সেই অতৃপ্তিটা রয়েছে। আমার মনে হয়, যদি পরিতৃপ্তি চলে আসে, তবে ভালো কিছু করার খিদেটা থাকবে না, ইচ্ছাটাও মরে যাবে। এখনও পর্যন্ত সেটা হয়নি।
নিজেকে আপডেট করার প্রচেষ্টা আমার মধ্যে সব সময়ই ছিল। আমার মতানুসারে যেগুলি ভালো, সেগুলি করার চেষ্টা করি। যেগুলি না হলেও চলবে, যেমন, পরের সমালোচনা করা ইত্যাদি এড়িয়ে চলি।
ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল, ক্রিকেটার হব। সংগীত জগতে আসব ভাবিনি। কিন্তু যখন এসেছি, বলা যেতে পারে, এসে পড়েছি, তখন এটা নিয়ে এগিয়ে চলার পথ ধরেছি। কিন্তু শুরু থেকে যে উদ্দমটা থাকার প্রয়োজন ছিল, সেটা মনে হয়, আমার মধ্যে ছিল না ।
অন্য পোস্ট: মনস্কামনা পূর্ণ হয় শৈবতীর্থ শিবতলায়
শুরুতে তো বাবার সঙ্গে হঠাৎ করেই গাওয়া রবীন্দ্রসদনে কুমার শচীন দেববর্মনের স্মরণ অনুষ্ঠানে। সেখানে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, সুপ্রভা সরকার, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট শিল্পীদের প্রশংসা আমার জীবনের একটা বিশেষ মুহূর্ত, যা আমার ভাবনাকে এলোমেলো করে দিয়ে সংগীতই আমার জীবন ও পেশা হবে, সেদিকে বয়ে নিয়ে যায়।
বিখ্যাত পিতার উত্তরসূরি হওয়ার সূত্রে শুরুতেই একটি বড় প্ল্যাটফর্ম আমি পেয়েছিলাম। সে কারণে এরকম একটি মঞ্চে আমার গাওয়া শুরু। কিন্তু তারপর থেকে শুরু হয়ে আজ পর্যন্ত চলছে পিতা ও পুত্রের তুলনা করা। এর থেকে নিস্তার নেই। ভালো হলে ‘বাপ কা বেটা’, আর একটুও বেসুরো হলে ‘ওই বাবার এই ছেলে!
স্বভাবগতভাবেই আমি একটু উদাসীন। এ বিষয় নিয়ে সিরিয়াসনেস আমার মধ্যে কমই আছে। গায়ক হব, এটা শুরু থেকে ভাবলে আমার পক্ষে অনেক ভালো হত। আমি যেটুকু শিখেছি, সেজন্য প্রথাগত সংগীতের তালিম নিয়েছি আমার প্রথম গুরু পণ্ডিত প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তারপর উমা দে এবং খুব অল্প সময়ের জন্য গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কাছে। তবে এই তালিম নেওয়া শুরু হয় পেশাগতভাবে গান গাওয়া শুরু করার এবং আমার বাবার মৃত্যুর পরে। তাই মাঝেমধ্যে ভাবি, আরও গুছিয়ে তৈরি করাটা হয়তো আমার হয়নি। তা হলে হয়তো আরও তৈরি হয়ে পেশায় আসতে পারতাম। মাত্র ২৩ বছর বয়সে বাবার মৃত্যুর পরে অনুষ্ঠান করে জীবিকানির্বাহ করাই একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছিল। ওই একটা সময় ভাবতে হয়েছে, কাল কী খাব!
আজ দেখি, ছেলেমেয়ের বাবা-মায়েরা কত জায়গায় তাদের নিয়ে যাচ্ছেন, সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমি তা পাইনি, যদিও আমার বাবা বড় সংগীতজ্ঞ ছিলেন এবং সেই সুবাদে আমারও নিজের নিজেকে গড়ে তোলার রাস্তা ছিল। সে রাস্তায় আমার হাঁটা হয়নি। বাবারও সে বিষয়ে তেমন কোনও আগ্রহ ছিল না। যতটুকু করতে পেরেছি আমার চেষ্টাতেই হয়েছে।
শুধু গান নয়, আমি সিনেমা প্রযোজনাও করেছি। আগামিদিনে পরিচালনার ইচ্ছাটাও রয়েছে। নিজের কাজটা মন দিয়ে করে যেতে চাই।
সুযোগ ঠিকমতো পেয়েছি কি না, তা নিয়ে ভাবি না। তবে সুযোগ পেলে নিজের দক্ষতার সদ্ব্যবহার করব, এটা নিশ্চিত করতে পারি।
