মনোময় ভট্টাচার্য (সংগীতশিল্পী)
আমি মনে করি, স্বর্ণযুগের গানের যে টেম্পারমেন্ট, তার সঙ্গে আমার অনেক মিল আছে। আসলে আমার ধারণা, যে গান মন ছোঁয় না, শুনলে চোখে জল আসে না, ভাবায় না, যে গানের রেশ থেকে যায় না মনের ভিতরে, সেটা একটা হইহুল্লোড়। চিরকাল থেকে যায় শুধু হৃদয়ের গান।
আমি অতীতের দিকে খুব একটা তাকাই না। তবে পিছন ফিরে তাকালে আমার মন চলে যায় সেই ছোট্ট মনোময়ে। দাঁড়াই তখন সেই ছোট্ট মনে, যার সারাদিন কাটত ফুটবল খেলে, সাঁতার কেটে, খেলাধুলা করে। সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছা করে, কিন্তু পারি না।
এই মনোময় আজ পেশাদার গায়ক হয়েছে, তবে মনটা সেই ছোটবেলার মতোই এখনও আছে। বাবা বলতেন, জীবনে কাউকে কষ্ট দিয়ে, কারও ক্ষতি করে কিছু পাওয়া যায় না। সেটা শিখেছিলাম। এখনও সেই উপদেশ আমার মধ্যে রয়েছে। আমি কারও ক্ষতি করিনি পেশাগত কিংবা ব্যক্তিগত ভাবে।
অন্য পোস্ট: শিক্ষার উন্নয়নের দিশারি দিলীপ ঘোষ
পিছন ফিরে তাকিয়ে আমার মনে হয়, আগে যা ছিলাম, এখনও তাই আছি। মনটা সেই শৈশবের মনোময়েই পড়ে আছে। ঈশ্বর আমাকে আশীর্বাদ করেছেন বলে আমি গান গেয়ে জীবননির্বাহ করতে পারছি। মানুষ আমার গান শুনে খুশি হচ্ছে।
তবে আমার মনে হয়, আমি বেশ কিছু কাজ করেছি, যেগুলো ঠিকমতো প্রচার পায়নি। আমার গাওয়া কিছু ভালো গান সেরকম ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছয়নি। এই আক্ষেপ আমার মনের মধ্যে রয়েছে। তা হলে আমার বহু শ্রুতিমধুর গান আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছত।
স্বর্ণযুগের গানগুলো তো অনেক জনপ্রিয় হত। আজকের দিনে তা অনেক সময় হয় না। আমার মনের মতো গাওয়া গান মানুষের মনের কাছে আরও বেশি পৌঁছে গেলে ভালো লাগবে। এই সময়ের কিছু সংগীত পরিচালক ছাড়াও সেই সময়ের সলিল চৌধুরী, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, নচিকেতা ঘোষের সঙ্গে যদি কাজ করতে পারতাম, তাহলে আমি অনেক মুগ্ধ হতাম, অনেক বেশি নিজেকে ব্যবহার করা যেত।

