অধ্যাপক ড. জয়ন্তকুমার দেবনাথ

বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটে দেশের হয়ে খেলার জন্য খেলোয়াড়দের যে লোভনীয় টাকা দেওয়া হয়, ১৯৭৭ সালের আগে তা কিন্তু দেওয়া হত না। প্রতিটি দেশের ক্রিকেট বোর্ড সামান্যতম টাকা দিয়ে তাদের দেশের জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের টেস্ট ম্যাচ খেলাত। তখন খেলোয়াড়দের দেশের জন্য খেলাটাই ছিল বড়। কিন্তু যে টাকা বা ডলার তাঁরা পেতেন, তাতে তাঁদের জীবনযাপন ছিল সাধারণ মানের। অস্ট্রেলিয়ার বিজনেস টাইকুন কেরি পেকারের সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের টিভি স্বত্ব নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের বিবাদ বাধে। তারপরেই তিনি ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি গোপনে বিভিন্ন দেশের নামী-দামি ক্রিকেটারদের উচ্চ দামে চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন। ফলে বিশ্ব ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব আনার ক্ষেত্রে তাঁর নাম একবাক্যে সবাইকে স্বীকার করতে হবে। তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার চ্যানেল নাইনের মালিক। ১৯৭৭ সালে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট সিরিজ শুরু করেছিলেন। তার সূদুরপ্রসারী ফল আজকের দিনের ক্রিকেটাররা ভোগ করছেন।
ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট সিরিজ শুরুর মূলে ছিল ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং তাঁদের জীবনকে সুরক্ষিত করা। কারণ সে সময় ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব আসেনি। কেরি প্যাকার প্রথম ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব নিয়ে আসেন। তিনি কালার টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্রিকেট দর্শকদের মধ্যে বেশি করে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। ক্রিকেটের চিরাচরিত সাদা পোশাকের বদলে রঙিন, লাল লেদার বলের পরিবর্তে সাদা বল, হেলমেটের ব্যবহার এবং রাতের ক্রিকেট ম্যাচের তিনি উদ্ভাবক।
কেরি পেকার কতটা দূরদর্শী ছিলেন, আজকের দিনের ক্রিকেটই তার প্রমাণ। তিনি চেয়েছিলেন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের ব্রডকাস্টিংয়ের অধিকার নিয়ে ক্রিকেটকে পেশাদারিত্বের মোড়কে আনতে। কিন্তু তখন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের ব্রডকাস্টিং রাইট ছিল সেদেশের অবাণিজ্যিক সরকারি অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কমিশনের।
১৯৭৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচের ব্রডকাস্টিং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড চ্যানেল নাইনকে দিতে অস্বীকার করে। কেরি প্যাকার তখন নিজেই নিজের গোল সেট করেন। তিনি চার দলের একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু করেন। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার তখনকার দিনের সেরা ক্রিকেটারদের গোপনে ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জন্য চুক্তিবদ্ধ করেন। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক টনি গ্রেগ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড, অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল প্রমুখ তৎকালীন বিশ্ব ক্রিকেটের তুখোড় ক্রিকেটারদের নিয়ে চারটি দল গড়ে শুরু করেছিলেন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট সিরিজ।
অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ইয়ান চ্যাপেল বলেছিলেন, এই সিরিজ হবে অত্যন্ত কঠিন, কারণ তখনকার দিনের বিশ্ব ক্রিকেটের তাবড় ক্রিকেটারদের নিয়েছিলেন কেরি প্যাকার। চারটি দল নিয়ে শুরু হয়েছিল কেরি প্যাকারের ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট সিরিজ। যেমন, অস্ট্রেলিয়া একাদশ, কেভেলিয়ার একাদশ, অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ। ক্রিকেটারদের বিশাল অর্থের বিনিময়ে তিনি চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন। সে সময়ের বিশ্ব ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের টনি গ্রেগকে তিন বছরের জন্য ৯০,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন। প্রত্যেক ক্রিকেটারকে তিনি বিশাল অঙ্কের টাকা দিয়ে চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, যাঁরা অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতেন, তাঁদের অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হত। ১৯৭৭-’৭৮ সালের প্রথম ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটের পুরস্কারমূল্য ছিল এক লক্ষ মার্কিন ডলার। খেলোয়াড়দের জন্য কেরি পেকার যাঁদের চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন, তাঁদের সেদেশের ক্রিকেট বোর্ড যে টাকা দিত, তিনি তার দ্বিগুণ অর্থ দিতেন। এর প্রভাব টেস্টে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের ওপর পড়েছিল। এভাবে আজকের দিনের ক্রিকেটে কোটি কোটি ডলার খরচ করা হয়।
আইসিসি পরিচালিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পুরস্কারে আর্থিক মূল্য থাকে না। কিন্তু ২০২৬ সালে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আইসিসির কোনও আর্থিক পুরস্কার না থাকলেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ভারতীয় ক্রিকেটার-সহ দলের সব সদস্যের জন্য ৭.৫ কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তাই আজ ভারতীয় ক্রিকেটকে বিশ্বের অন্যান্য দল সমীহ করে চলে।

cenforce 150mg
cenforce 150mg
orlistat 60mg alli
orlistat 60mg alli
tadalafil kidneys
tadalafil kidneys