শক্তিকুমার চট্টোপাধ্যায়

প্রতিবছরের মতো এ বছরও বাঁকুড়া ড্যান্স ফোরামের উদ্যোগে পালিত হল বিশিষ্ট নাট্যবক্তিত্ব তথা শ্রমিক নেতা গৌরগোপাল মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন। ২৩ আগস্ট বাঁকুড়ার রবীন্দ্রভবনে তাঁর ৯১তম জন্মদিন উদ্যাপিত হল। তাঁর ছেলে সত্যপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাঁকুড়া ড্যান্স ফোরামের সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতিমনস্ক নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাবাকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা দুই ভাই আমি ও দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায় এবং আমার সংস্থা বাঁকুড়া ড্যান্স ফোরাম প্রতিবছর এমন উদ্যোগ নিই।’
পাঁচদিন ধরে চলা এই অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রথম তিনদিন ছিল মাচানতলার গোধূলি লজে বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রনৃত্য বিশেষজ্ঞ গুরু বসন্ত মুখোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে নৃত্য কর্মশালা। এই কর্মশালা শেষে রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত হয় রবীন্দ্রনৃত্য এবং কিংবদন্তি সুরকার সলিল চৌধুরীর প্রতি নৃত্যগীতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান। ছিল গুণীজন সংবর্ধনা ও অন্যান্য অনুষ্ঠান। বক্তব্য রাখেন বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী, প্রাক্তন পুরপিতা মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত, সংস্থার সভাপতি প্রণতি সেনগুপ্ত, কার্যকরী সভাপতি ডা. জিতেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, নৃত্যগুরু বসন্ত মুখোপাধ্যায় প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তি। সকলেই নাট্যব্যক্তিত্ব গৌরগোপাল মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণা করেন। অরূপ চক্রবর্তী বাঁকুড়া ড্যান্স ফোরামের ঘর নির্মাণের জন্য অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

বহু বিশিষ্টজনের মধ্যে শখের যাত্রাদল আটচালা সংস্থার তিন অভিনেতা শাশ্বতী হালদার, নিতু পাল এবং নবাব চ্যাটার্জিকে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। ২৪ আগস্ট ‘লালন ফকির’ যাত্রাপালার মধ্য দিয়ে পাঁচদিনের অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
রবীন্দ্রভবনের রঙিন আলোয় সুসজ্জিত মঞ্চে উপস্থাপিত বিভিন্ন নৃত্যাঞ্জলি দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে। প্রত্যেক অতিথির হাতে উপহার, মিষ্টি তুলে দেওয়া হয় বাঁকুড়া ড্যান্স ফোরামের পক্ষ থেকে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সংহিতা মিত্র।

A very good report of an enriched cultural program of Bankura.