ড. গৌতম মুখোপাধ্যায়
প্রফেসর, ইতিহাস বিভাগ, সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, পুরুলিয়া
![]()
ইসলাম তথা ফার্সি-আরবি সংস্কৃতির আগমনের সুবাদে বাংলায় মধ্যযুগের সূত্রপাত হয়। মুসলমান শাসনকে তিরোহিত(replace) করে খ্রিস্টান সভ্যতার জয়ধ্বজা উড্ডীন হয়েছিল। ব্রিটিশ যুগে মুদ্রণযন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বাঙালি তথা ভারতীয়দের নতুন শক্তির উদ্বোধনের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হয়। সাহিত্যের জগতে মনোনিবেশকারী ও নিবেদিতপ্রাণ প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় এই সময়কালটিকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন— ‘দ্বাদশ শতকের শেষে তুর্কি-ইসলাম ভারতে প্রবেশ করে। ৫০ বছরের মধ্যে ভারতের পনেরো-আনি তাদের দখলে আসে।
১৫২৬ অব্দে মুঘলরা ভারত জয় করে, কিন্তু সাম্রাজ্যের পত্তন হয় আকবরের সময় ১৫৫৬ অব্দে। ইতিমধ্যে পোর্তুগিজরা এসে গিয়েছে ভারতের উপকূলে। রাজ্যেরও পত্তন করেছে গোয়ায়। ১৬৫৭ অব্দে ঔরঙ্গজেব ভারতের বাদশা হন সমস্ত ভারতের একেশ্বর হয়ে। ১৭০৭ অব্দে দক্ষিণ-ভারতে মৃত্যু হয় তাঁর। সাম্রাজ্যের অবস্থা এমন হয়েছিল যে, তাঁর মৃত্যুর ৩০ বছরের মধ্যে পারস্যের দস্যুসর্দার নাদিরশাহ এসে দিল্লি মহানগর তছনছ করে দিল। তাকে কেউ রুখতে পারেনি। তারপর ২০ বছর যেতে না যেতে ১৭৫৭ অব্দে বাংলাদেশের গঙ্গাতীরে পলাশিগ্রামের কাছে সামান্য একটা যুদ্ধে বাংলার নবাব সিরাজ একটি বিদেশি কোম্পানির ফৌজের কাছে হার স্বীকার করেন। বাংলা সুবা পদানত হন এক বিদেশি সাহসিকের কাছে।
অন্য পোস্ট : চিরকাল থেকে যায় শুধু হৃদয়ের গান
ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার ইংরেজদের এই নতুন বিজয় সম্পর্কে লিখেছেন, ‘In June 1757 we crossed the frontier and entered into a great new world to which a strange destiny had led Bengal.’ পলাশীর যুদ্ধজয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পরিপুষ্টিকরণে একটি বড় ধাপ রচনা করেছিল। সপ্তদশ শতকে ব্রিটেনে ‘ভূমিবেষ্টনী আন্দোলন’ (Enclosure Movement) সমাপ্ত হওয়ায় সেদেশে শিল্পবিপ্লবের পথ সুগম হয়েছিল। ফিলিস ডিন (Phyllis Deane) তাঁর ‘The First Industrial Revolution’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, কীভাবে ‘ভূমিবেষ্টনী আন্দোলন’ ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবে প্রাথমিক লক্ষ্যপূরণ করেছিল। ওই আন্দোলন সম্পর্কে কয়েকটি বাক্য পেশ করা জরুরি। ব্রিটেনে যে অসংখ্য ক্ষুদ্র জমি আল দিয়ে ঘেরা থাকত, সেগুলির বেশকিছু একত্রিত করে বৃহৎ জোত তৈরি করা হয় এবং সেগুলিকে বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। উল্লেখ্য, ওই নব বেষ্টনীকৃত জোতে চিরাচরিত কৃষিকাজ শুরু হয়নি। সেখানে ব্যাপকভাবে ভেড়াপালন শুরু হয়। ওই নতুন ফার্মিং দু’দিক থেকে অর্থ উপার্জনের পথ দেখায়। একদিকে ভেড়ার মাংসের উৎপাদনজনিত আয়, অন্যদিকে ভেড়ার লোম শিল্পক্ষেত্রে জোগানের দ্বারা আয়। ধনবান ভূম্যধিকারী সম্প্রদায় কৃষিক্ষেত্রে আয় সংকোচনের কারণে ধীরে ধীরে শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে শুরু করে। এরই ফলশ্রুতিতে বস্ত্রবয়ন শিল্প (Textile Industry)-কে কেন্দ্র করে ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লব আরম্ভ হয়। সমগ্র অষ্টাদশ শতকে ব্রিটেন সেদেশের অর্থনৈতিক বিপ্লবের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। শিল্পবিপ্লবের ‘উড্ডয়ন কাল’ (take off) বিষয়ে টয়েনবি, নেফ, রস্তো প্রমুখ অর্থনৈতিক ইতিহাসবেত্তার বিতর্ক সে কথাই প্রমাণ করে। একদিকে শিল্পবিপ্লবের সামূহিক প্রস্তুতি, অন্যদিকে উৎপাদিত দ্রব্যের বাজার দখলের পরিকল্পনায় পলাশীর যুদ্ধ ছিল একটি মাইলফলক। কেননা ভারতের মতো একটি জনবহুল দেশের বাজার দখলের প্রথম ধাপ ছিল ওই যুদ্ধ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কৌশলী কূটনীতিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ওই সংগ্রামে সফল হয়েছিল।
ঐতিহাসিক স্যার যদুনাথ সরকার লিখেছেন, ‘Thursday the 23rd of June, 1757 exactly one year and two days after the Nawab’s capture of Calcutta, witnessed a battle which was destined to revolutionise the life of India, and indirectly and slowly that of the eastern hemisphere, though when judged as a trial of arms military critics are apt to slight it as a mere skirmish or distant cannonade.’

Great 👍
Comments on it
Valo laglo pore sir, amar mone ache takeoff period of industrial revolution apni khub jotno kore poriyechilen amader