সনৎ ঘোষ

বসন্ত পাতা ঝরার ঋতু। তবে কেবলই ঝরার নয়, গাছে গাছে নতুন পাতা গজানোরও ঋতু। আবার সে রঙেরও। সব মিলিয়ে তাই সে ঋতুরাজ।
বসন্ত একটি সন্ধিক্ষণের ঋতু, সে ঋতুচক্রের সর্বশেষ। বছর শেষ ও শুরুর সন্ধিক্ষণ। বাংলা বছরের শেষ ও নতুনের শুরু। আর পর্ণমোচী উদ্ভিদ তার পাতা ঝরানোর মধ্য দিয়ে এই বার্তা দেয়, যা কিছু পুরোনো, মলিন, তাকে বিদায় দিয়ে নতুনেরে আহ্বান করতে হয়। যেহেতু বাংলা নববর্ষের সূচনার মাস বৈশাখ, কবি তাই তাকে আহ্বানের মধ্য দিয়ে একটি বছরেরই আহ্বান করেছেন ‘এসো, হে বৈশাখ’ বলে।
প্রকৃতি বার্তা দিয়ে যায়, বসন্তে পাতা ঝরা ও নতুন পাতা গজানোর মধ্য দিয়ে আবাহন ও বিসর্জনের ক্ষেত্রটাকেই তুলে ধরা হয়েছে। আসলে তা প্রকৃতির শিক্ষা। প্রকৃতিতে রং লাগে। একাধারে কচি সবুজ পাতা, অন্যদিকে কৃষ্ণচূড়ার লাল-হলুদ রং রাঙিয়ে দেয়। মূলত বসন্ত চেনা যায় কোকিলের ডাকের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ একাধারে রং, অন্যদিকে সুরের মেলবন্ধন। আবার সময়টা নয় শীত, নয় তীব্র গরম। বয় দক্ষিণা বাতাস। সব মিলিয়ে মনোরম প্রকৃতি।
আর ছ’টি ঋতু প্রকৃতিতে থাকলেও উৎসবের তকমায় দু’টিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। শরতে শারদোৎসব আর বসন্তে বসন্তোৎসব। অথচ বাকি ঋতুগুলিতেও থাকে বিভিন্ন পার্বণ ও উৎসব। সেখানে ঋতুযোগের উল্লেখ থাকে না। বলা হয় না, গ্ৰীষ্ম, বর্ষা, শীত কিংবা হেমন্তের উৎসব। গ্ৰীষ্মের তীব্র দাবদাহের পর বর্ষার জলে গাছপালা যখন সবুজ হয়ে ওঠে, প্রকৃতি সেজে ওঠে নানাভাবে, তখন বর্ষাকে ঋতুর রাজা মনে হলেও তা থেকে যায় রানি হয়ে। আর বসন্ত ঋতুরাজ তকমায়। তাকে রঙিন করে তোলা হয়েছে নানা রঙে। বসন্ত যেন প্রেমের প্রতীক।
