শ্রীমন্ত পাঁজা

রঙের উৎসব দোল বাঙালির কাছে বড্ড আপন। তাই এই দিনটির দিকে অধীর আগ্রহে মুখিয়ে থাকে সবাই। তিন-চার দশক আগে পর্যন্ত বাঁশের পিচকারিতেই রঙের খেলা হত। পিকচারির কথা বললে বর্তমান সময়ের বালক-বালিকা থেকে ছেলেছোকরা সকলেই হতবাক হয়ে যায়। সেই বাঁশের পিকচারির কথা আজ লেখার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
সে সময় গ্রামগঞ্জে বেশিরভাগ মানুষই ছিলেন নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের। হাতেগোনা বেশ কয়েকটি সম্ভ্রান্ত বনেদি বাড়ি ছিল। গ্রাম্য পরিবেশে সবুজের আধিক্য বেশি ছিল। তাই প্রায় প্রতিটি পাড়ায় বাঁশবাগানের দেখা মিলত। আর সেই বাঁশ দিয়েই তৈরি করা হত পিচকারি। দোলের প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে পাড়ার ছেলেছোকরারা সরু পাইপ আকৃতির বাঁশ কেটে নিয়ে আসত। তারপর সেই বাঁশ নিপুণ দক্ষতায় কাটারির সাহায্যে মাপমতো কেটে নেওয়া হত। সেই বাঁশটিকে সিরিঞ্জের আকার দেওয়ার জন্য পিচকারির তুলনায় ৬ ইঞ্চি বেশি করে একটি কঞ্চি কেটে নেওয়া হত। সেই কঞ্চির ডগায় কাপড় জড়িয়ে সুতোর সাহায্যে বেঁধে সিরিঞ্জের রূপদান করা হত। সেই সিরিঞ্জের মাধ্যমে কত দূরে জল ছুড়তে পারা যায়, তার জন্য পুকুরগুলিতে চলত মহড়া। সেই মহড়ায় পাশ করলেই তা দোলের দিন রং খেলায় ব্যবহৃত হত। বর্তমানে বাঁশের পিচকারি ইতিহাসের পাতায় অথবা মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে।
আমরা বাঁশের পিচকারি নিয়ে বালতিতে রং গুলে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়তাম পাকা রাস্তার ধারে। পথচলতি মানুষজনকে সেই পিচকারির সাহা্য্যে রং দেওয়া হত এবং গুরুজনদের মিষ্টিমুখ করিয়ে পায়ে আবির মাখানোর রেওয়াজ ছিল। এছাড়াও নাটমন্দিরগুলিতে চলত প্রতিবেশী সকলে মিলে একসঙ্গে আবির খেলার আনন্দ। বসন্তের রঙে নিজেকে এবং অপরকে রাঙিয়ে নেওয়ার উৎসব হল দোল।
