মহাশোরগোল প্রতিবেদন: ৪ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ধনধন্য প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠানিক সূচনা হল ৩০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের পরিবর্তে আলিপুরে নবনির্মিত ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে এবারের চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করা হল। অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, বর্ষীয়ান চিত্রনির্মাতা গিরিশ কসরাভলি, মুনমুন সেন, আর্জেন্টিনার পরিচালক পাবলো সিজার-সহ আরও অনেকে। প্রদীপ প্রজ্বলন করে ৩০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা করেন প্রবীণ অভিনেতা ও সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা।
উৎসবের চেয়ারম্যান তথা চিত্রনির্মাতা গৌতম ঘোষ তাঁর স্বাগত ভাষণে বলেন চলচ্চিত্র শিল্প সম্পর্কে শহরের মানুষের আগ্রহের কথা। উদ্বোধনের দিন প্রদর্শিত হয় তপন সিংহ পরিচালিত ছবি ‘গল্প হলেও সত্যি’। পরের দিন থেকেই কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে জমজমাট নন্দন-রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গণ। সেখানকার প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহে সকাল ৯টা থেকে ছবি দেখানো শুরু হচ্ছে। এবারে বিভিন্ন দেশের মোট ১৭৫টি ছবি দেখানো হবে নন্দন-সহ শহরের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে।
৫ ডিসেম্বর অর্থাৎ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে উদ্বোধন করা হল তিনটি প্রদর্শনীর। পরিচালক তপন সিংহের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নন্দন-২ ফ্লোরে আয়োজিত হয়েছে এক বিশেষ প্রদর্শনীর। এর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, শতাব্দী রায়, রাজা সেন, গৌতম ঘোষ, সোনালি গুপ্ত, তপন সিংহর পুত্র অনিন্দ্য সিংহ ও পুত্রবধূ কাকলি মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায় আর একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়, যেখানে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে মারলেন ব্র্যান্ডো, হরিসাধন দাশগুপ্ত এবং অরুন্ধতী দেবীকে। অন্য একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের তিন দশকের ইতিহাসকে।







রবীন্দ্রসদনের একতারা মঞ্চে প্রতিদিনই বসছে চলচ্চিত্র সংক্রান্ত আড্ডা। এবারের উৎসবে স্মারকগ্রন্থের পাশাপাশি নন্দন থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘শতবর্ষে তপন সিংহ’ শীর্ষক একটি গ্রন্থ।

উৎসবে ছবি দেখানোর পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে একগুচ্ছ আলোচনাচক্রের। এর মধ্যে রয়েছে ‘পার্সেপশন চেঞ্জ ইন সিনেমা উইথ চেঞ্জেস ইন টেকনোলজি’, ‘ইনটোলারেন্স, গ্লোবাল জাস্টিস অ্যান্ড দ্য মিডিয়া’, ‘হোয়াট ইজ ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সিনেমা?’, ‘এক্সপ্লোশন অব শর্টস অ্যান্ড ডকুমেন্টস ইন দ্য ডিজিটাল এরা’, ‘ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল: দেন অ্যান্ড নাও’, ‘ইমেজেস টু মুভিং ইমেজেস ফিল্ম বাই আর্টিস্টস’, ‘শতবর্ষের শ্রদ্ধা: তপন সিংহ’। এবারের সত্যজিৎ রায় স্মারক বক্তৃতা দেন আর বালকি। অন্য একটি অনুষ্ঠানে সিনেমা নিয়ে বিদ্যা বালানের মুখোমুখি আলোচনা করেন সংগীতা দত্ত।
