ভাস্কর সেনগুপ্ত

নিজের চেহারা, গায়ের রং, অর্থ, বিত্ত, নিজের অস্তিত্ব, নিজের পরিবার প্রভৃতি যা যা আয়াসে প্রয়াসে জন্মসূত্রে প্রাপ্ত, তার জন্য আপশোস রাখবেন না। জেনে রাখুন, আপনার চেয়েও খারাপ অবস্থায়, আপনার চেয়েও অধিক প্রয়াসে ব্যর্থ হয়েছেন, এমন মানুষ বহু রয়েছেন।
জীবনে স্বপ্ন দেখতে হয়। বড় স্বপ্ন। তাহলে কিছুটা অর্জন হয়। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার তথা ইংরেজি সাহিত্যের জনক সেক্সপিয়ারের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল অশ্বপালক হিসাবে। বার্নার্ড শ’কে আমরা চিনি আইরিশ নাট্যকার হিসাবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর পরিচিতি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসাবে। অথচ আমরা কি জানি যে, তিনি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন কত বছর? মাত্র পাঁচ বছর। মাত্র ১৫ বছর বয়সে কেরানির কাজ নেন। কারণ দারিদ্র। তাও বেতন ছিল কত জানেন? আমাদের টাকায় মাসে ৪০। কিন্তু তিনি লেখক হতে চেয়েছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন যে, একদিন একজন বড় লেখক হবেন এবং হয়েছেনও। কীভাবে? তিনি প্রতিদিন লিখতেন। লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে তাঁর সময় লেগেছিল ন’বছর। লেখক জীবনের সেই সময় তাঁর লেখা থেকে আয় হয়েছিল আমাদের টাকার হিসাবে মাত্র ৩০০। কিন্তু পরবর্তী সময় লেখক হিসাবে উপার্জন করেছেন লাখ লাখ টাকা। তাঁর বিশ্বাসই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে ছিল কিছু কৌশল। যখন তাঁর বই সেভাবে বিক্রি হচ্ছিল না, তখন তিনি দোকানে দোকানে যেতেন, আর জিজ্ঞেস করতেন যে, বার্নার্ড শ’র বই রয়েছে কি না। দোকানদাররা বলতেন, বার্নার্ড শ’ আবার কে? তিনি বলতেন, এত বড় লেখককে চেনেন না! বিভিন্ন দোকানে দোকানে গিয়ে এভাবে বলতে থাকতেন।
দোকানদারদের মধ্যেও তো কথা হয়। তাঁরা একজন আর একজনকে জিজ্ঞেস করতেন, একজন এরকম বই খুঁজছেন। আপনার কাছে রয়েছে কি? উত্তর মেলে, নেই, কিন্তু মনে হচ্ছে, এনে রাখা দরকার। দেখা যেত যে, একসপ্তাহের মধ্যে সমস্ত দোকানে বার্নার্ড শ’র বই এবং লোকজনও কেনা শুরু করেছে।
বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীদের অনেকেই অসামান্য মেধা ও অবদান থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনে চরম দুঃখ, মানসিক যন্ত্রণা এবং ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। কেউ গবেষণার বলি হয়েছেন (যেমন, মেরি কুরি, শেলে), কেউ অবহেলিত হয়েছেন (যেমন, টেসলা), আবার কেউ সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক রোগে ভুগেছেন (যেমন, জন ন্যাশ)। আইনস্টাইনেরও ছিল পারিবারিক অশান্তি ও অসুস্থ সন্তানের ভার।
কয়েকজন বিখ্যাত বিজ্ঞানীর দুঃখের জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
নিকোলা টেসলা (Nikola Tesla): আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জনক হলেও টেসলা জীবনের শেষদিকে চরম অর্থকষ্ট ও একাকিত্বে ভুগেছেন। অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD) নামক মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং তাঁর অনেক বৈজ্ঞানিক নথি রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায়। মৃত্যুর আগে তিনি মানুষের অবিশ্বাসের কষ্ট পেয়েছিলেন।
জন ন্যাশ (John Nash): নোবেলজয়ী এই গণিতবিদ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ সময় অবাস্তব কল্পনা ও সন্দেহবাতিক (Paranoia) রোগে ভুগেছেন। তাঁর জীবন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘A Beautiful Mind’ এই মানসিক লড়াই ফুটিয়ে তোলে।
অ্যালবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein): ব্যক্তিগত জীবনে আইনস্টাইন খুব একটা সুখী ছিলেন না। তাঁর প্রথম স্ত্রী মিলেভা মারিচের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং নোবেল পুরস্কারের অর্থ তাঁকে দিতে হয়। তাঁর ছোট ছেলে এডুয়ার্ড মানসিক রোগী ছিলেন।
লুডভিগ বোলৎজমান (Ludwig Boltzmann): বিখ্যাত এই পদার্থবিজ্ঞানী তাঁর কাজ নিয়ে দীর্ঘ বিরোধিতা ও একাকিত্বের কারণে তীব্র হতাশায় ভুগে ১৯০৬ সালে আত্মহত্যা করেন।
আলেকজান্ডার বোগদানভ (Alexander Bogdanov): রুশ বিজ্ঞানী বোগদানভ নিজের শরীরে রক্ত সঞ্চালন পরীক্ষা করতে গিয়ে ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
এই মহান ব্যক্তিরা নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
কাজ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই কি সফলতা আসে? নিশ্চয় না। জীবন যেমন পুষ্পশয্যা নয়, তেমন সফলতাও রাতারাতি ধরা দেয় না। সফলতাকে অর্জন করে নিতে হয়। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজের সঙ্গে লেগে থাকতে হয়। এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে যাঁরা সফল হয়েছেন, তাঁদের সফলতার পিছনে রয়েছে ভাঙা-গড়ার বিরাট ইতিহাস।
পৃথিবীর সফল ব্যক্তিদের সংগ্রাম
সইচিরো হোন্ডা: জীবনযুদ্ধে জয়ী এক সৈনিকের নাম সইচিরো হোন্ডা, যিনি বারবার ব্যর্থতার পরও সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। ছোটবেলা থেকে কলকবজা নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসতেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান, অথচ তাঁর কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। চলে যান রাজধানী শহর টোকিওতে এবং কাজ নেন একটি গ্যারেজে, যেখানে কলকবজা পরিষ্কার ও মালিকের বাচ্চাদের দেখাশোনা করতেন। ইচ্ছে ছিল টয়োটা কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগদান করবেন, কিন্তু সাক্ষাৎকারের পর চাকরিটা জোটেনি। তাই বলে তিনি থেমে যাননি। নিজের ঘরে বসেই বানাতে শুরু করেন স্কুটার। চেষ্টার ত্রুটি না করে রাতের পর রাত নিরলস পরিশ্রম করে যান এবং ১৯৪৬ সালে তৈরি করেন মোটরচালিত সাইকেল এবং ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘হোন্ডা মোটর কোম্পানি’। শ্রম ও সাধনার দৌলতে এ কোম্পানি হয়ে ওঠে বিশ্ববিখ্যাত হোন্ডা কোম্পানি। সফলতা তাঁকে বরণ করে নেয়।
জ্যাক মা: চিনের মাল্টিন্যাশনাল টেকনোলজি কোম্পানি আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা সারা পৃথিবীর ব্যবসায়ী ও উদ্যাক্তাদের কাছে এক অনুপ্রেরণা, আদর্শের নাম। প্রশ্ন হল, জ্যাক মা কি রাতারাতি সফল হয়েছেন? না, রাতারাতি সফল হননি। তাঁর সফলতার পিছনে রয়েছে ব্যর্থতার করুণ ইতিহাস। তিনি বারবার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছেন, কিন্তু কখনও ভেঙে পড়েননি। সফলতার অদম্য ইচ্ছে নিয়ে হেঁটে গিয়েছেন দুর্গম পথে।
চিনের জাতীয় কলেজে ভর্তির জন্য উত্তীর্ণ হতে জ্যাক মা-র সময় লেগেছে তিন বছর। যেখানে বছরে মাত্র একবার সুযোগ দেওয়া হয়, সেখানে জ্যাক মা-র লেগেছে তৃতীয় চান্স। হাভার্ডে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন দশবার, কিন্তু প্রতিবারই তাঁকে প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছে। হোঁচট খেতে হয়েছে চাকরি বাজারেও। ছোট-বড় প্রায় ৩০টি কোম্পানিতে আবেদন করেও কোনও সুফল আসেনি। বরাবরের মতো প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছে। পুলিশের চাকরিতে আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছেন, এমনকী তাঁর শহরে কেএফসি চালু হলে সেখানেও আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছেন। আলিবাবার সফলতার আগে আরও দুটো উদ্যোগে খুব খারাপভাবে ব্যর্থ হন। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। সফলতার স্বপ্ন দেখেছেন দিনের পর দিন। তাই তো আলিবাবা বর্তমানে বিজনেস টু বিজনেস, বিজনেস টু কাস্টমার, কাস্টমার টু কাস্টমার সার্ভিস দেওয়া কয়েকশো বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। ফোর্বসের ‘রিয়েল টাইম নেট ওর্থ’-এর হিসাব অনুযায়ী, জ্যাক মা-র বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার।
বিল গেটস: মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস একাটানা ১৩ বছর পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি ছিলেন। পড়াশোনার পাঠ শেষ করতে না পারা বিল গেটস কীভাবে শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হন, তা নিশ্চয় ভাবার বিষয়। হাভার্ড ছেড়ে তিনি শুরু করেন ব্যবসা। তবে সফল হতে পারেননি প্রথম ব্যবসা ট্রাফ ও ডাটায়। তাতে ভেঙে পড়েননি, বরং দ্বিগুণ উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে শুরু করেন মাইক্রোসফট নামে নতুন প্রতিষ্ঠান। মাইক্রোসফট শুরু করার পর থেকে তাঁকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
হারল্যান্ড ডেভিড স্যান্ডার্স: খাবারের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কেএফসির কথা কে না জানে! এও সবাই জানে, কেএফসির প্রতিষ্ঠাতা হারল্যান্ড ডেভিড স্যান্ডার্স একজন সফল ব্যক্তি। কিন্তু তাঁর সফলতার পিছনের গল্প জানা আছে কি? বারবার ব্যর্থ হয়েছেন ডেভিড স্যান্ডার্স। তিনি রেলওয়ের শ্রমিক, বিমাকর্মী হিসাবে কাজ করেন, কিন্তু কোনওটাতেই মন বসেনি। ১৯২০ সালে নিজের কিছু জমানো টাকা দিয়ে বোট কোম্পানি খোলেন। তারপর যোগ দেন ইন্ডিয়ানার চেম্বার অব কমার্সে। সেখানেও মন বসেনি তাঁর। সেখানকার চাকরি ছেড়ে দিয়ে কেন্টাকিতে একটি টায়ার নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যানের কাজে নিযুক্ত হন। কিন্তু সে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় ১৯২৪ সালে। তারপর কেন্টাকির স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানির ম্যানেজারের সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে একটি সার্ভিস স্টেশনে চাকরি পান। কিন্তু কথায় আছে, অভাগা যেদিকে যায়, সাগর শুকায়ে যায়। ওই কোম্পানিও দেউলিয়া হয়ে যায় ১৯৩০ সালে। ৪০ বছর বয়সে বেকার হয়ে পড়েন হারল্যান্ড ডেভিড স্যান্ডার্স। তবুও থেমে যাননি।
স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি। খাবার তৈরি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সরবরাহ শুরু করলেন। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, হুমকি সহ্য করেও টিকে গিয়েছেন। ১৯৫২ সালে তিনি বাণিজ্যিকভাবে নিয়ে আসেন তাঁর অনেক সাধনার রেসিপি— ‘কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন’। শেলবিভিলেতে নতুন একটি রেস্তোরাঁ খোলেন, যেখানে শুধু ফ্রায়েড চিকেনের এই ডিশটাই পাওয়া যেত। লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে নতুন এই আইটেম চেখে দেখতে। সবার পছন্দও হয়। বিক্রি করে কুলোতে পারছিলেন না কর্নেল স্যান্ডার্স। বিভিন্ন শহরে কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেনের শাখা খোলা শুরু করেন। প্রথমে আমেরিকা, তারপর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে কেএফসি।
১৯৫৫-’৬৫ সালে চিন, কানাডা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কেএফসির ছ’শোর বেশি শাখা খোলা হয়েছিল। রমরমা ব্যবসা চলছিল। এতদিনে দেখা দেওয়া সাফল্যের তরি চলা শুরু করে মাতাল গতিতে।
জে কে রাউলিং: লেখালেখি করে পৃথিবীতে বিলিয়নেয়ার বনে যাওয়া প্রথম লেখিকা জে কে রাউলিং। রাতারাতি জনপ্রিয়তা পাওয়া এই লেখিকার কেরিয়ারের শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। প্রথমবার তিনি যখন ‘হ্যারি পটারের’ পাণ্ডুলিপি নিয়ে একটি প্রকাশনীতে যান, মালিক তো হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁকে এবং তাঁর সৃষ্টিকর্মকে।
রাউলিং অন্যের কথায় কান না দিয়ে নিজের ওপর বিশ্বাস অটুট রেখে বিভিন্ন প্রকাশনীর দ্বারে দ্বারে পাণ্ডুলিপি নিয়ে হাজির হয়েছেন। কিন্তু হায়! ১৩ জন প্রকাশকের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন তিনি। তার পরেও থেমে যাননি। পুনরায় নতুন উদ্যমে কাজ করে গিয়েছেন বলেই হ্যারি পটার সিরিজ প্রকাশ হওয়ার পর সাহিত্য জগতের সর্বোচ্চ আসন থেকে কেউ তাঁকে সরাতে পারেননি।
১৯৯৭ সালে বই প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান এই লেখিকা। সারা পৃথিবীতে বইটির মিলিয়ন মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। হ্যারি পটার সিরিজ শুধু বই হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা নিয়ে সিনেমা হয়েছে এবং বহু মানুষের হৃদয় জয় করেছেন জে কে রাউলিং। পেয়েছেন অনেক পুরস্কারও।
ছোটবেলায় নবকল্লোল পত্রিকার পুজো সংখ্যায় বিমল মিত্রর একটি উপন্যাস পড়েছিলাম। নাম ‘স্রোত যায় না থেমে’। সেখানে লেখক দেখিয়েছিলেন, উপন্যাসের নায়ক কেমন কাস্টমস অফিসার হয়ে উন্নতির চরম শিখরে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। বহু মাফিযার কুচক্র ধ্বংস করেছিলেন। জীবনে কখনও একপয়সাও ঘুষ নেননি। এক মাফিয়া তাঁর পিছনে একটি লাস্যময়ী নারীকে লাগিয়ে দিলেন। নায়কের পতন শুরু হল। ঘুষ নিয়ে ধরা পড়ে জেল হল। দশ বছর কারাবাসের পর তিনি যখন নতুন সূর্য দেখলেন, তখন জগৎ তাঁকে লাঞ্ছনা-বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই দিল না। ভিক্ষেও জোটেনি। পেটের দায়ে আশ্রয় নিলেন এক আশ্রমে। সততা ও উদ্যোগ তাঁর মজ্জায় মজ্জায়। স্বামীজির নজরে পড়লেন। নতুন জীবন শুরু হল। আরও বিশ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। একদিন দেখা করতে এলেন সেই নারী, যিনি তখন বৃদ্ধা, পথের ভিখারি। নবদিগন্ত প্রাপ্ত সেই কাস্টমস অফিসার আশ্রমের মহন্ত। বহু গরিব-দুঃখীর আশ্রয়দাতা। বললেন, আপনি আর আমাকে স্পর্শও করতে পারবেন না। কিন্তু আমি আপনাকে এই আশ্রমে আশ্রয় দেব। আপনি আমাকে সমাজচ্যুত না করলে এই সমাজ পেতাম না। জীবনের স্রোত কখনও থেমে থাকে না।
