মহাশোরগোল প্রতিবেদন: পারিবারিক নাম ছিল নিভাননী। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তাঁর নতুন নামকরণ করেন। নিভাননীর নাম হয় চিত্রনিভা। শৈশবেই বাবাকে হারান। ১৯২৭ সালে বিয়ে হয় নিরঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে। শ্বশুরবাড়ির উৎসাহে শান্তিনিকেতনের কলাভবনে ভর্তি হয়ে নন্দলাল বসুর কাছে ছবি আঁকা শিখতে শুরু করেন। পাশাপাশি তাঁর সামগ্রিক পড়াশোনার ভার নেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং। কবির নির্দেশে শান্তিনিকেতনের আশপাশের গ্রামে গিয়ে সেখানকার মেয়েদের লেখাপড়া এবং হাতের কাজ শেখাতে শুরু করেন চিত্রনিভা। তিনিই ছিলেন কলাভবনের প্রথম অধ্যাপিকা।
চিত্রনিভা চৌধুরীর ১১১তম জন্মদিন পালিত হল গত ২৭ নভেম্বর চারুবাসনার উপেন্দ্রকিশোর সভাঘরে। তাঁর কন্যা বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী চিত্রলেখা এবং নাতনি পত্রলেখা চৌধুরী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আশিস গিরি, দেবাশিস মহলানবিশ, পঙ্কজ পানোয়ার প্রমুখ। এরপর সংগীত পরিবেশন করেন অনুশীলা বসু, গোপাল পাত্র, অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রদীপ দত্ত, সমন্বিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবমাল্য চট্টোপাধ্যায়, অরিজিৎ মৈত্র প্রমুখ। পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে স্মৃতিচারণ করেন বিশিষ্ট আলপনাশিল্পী সৌরভ ঘোষ। আবৃত্তির কোলাজ নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানান কথামালার বাচিকশিল্পীরা।
‘শুধু যাওয়া আশা স্রোতে ভাষা’ গানটি গেয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন চিত্রনিভা চৌধুরীর কন্যা ও নাতনি পত্রলেখা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পীদের হাতে পুষ্পস্তবক এবং রাজ্য চারুকলা পর্ষদ প্রকাশিত বই ‘চিত্রনিভা চৌধুরী-স্মৃতিকথা’ তুলে দিয়ে সম্মান জানান চিত্রলেখা চৌধুরী এবং পত্রলেখা চৌধুরী।
