শক্তিকুমার চট্টোপাধ্যায়

সম্প্রতি শীতের সন্ধ্যায় রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত হয়েছিল যাত্রার আসর। যাত্রা আজও মানুষ ভালোবাসে, বাঁকুড়ার রবীন্দ্রভবনে গিয়ে সেটা বোঝা গেল। দর্শকাসন ভর্তি। নির্ধারিত সময়মতো সন্ধ্যা ৬টাতেই যাত্রা শুরু হয়। সময় মেনে সমস্ত কিছুই চলা উচিত। খুব ভালো লেগেছে যাত্রাটি সময়মতো শুরু করায়। শেষ পর্যন্ত একজন দর্শকও আসন ছেড়ে উঠে পালিয়ে যাননি। সামাজিক যাত্রাপালাটিতে কাহিনি সৎ-অসতের সংঘাত নিয়ে ছুটেছিল। সত্যপ্রিয়-রজতদের দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে সৎ পুলিশ অফিসার শুভঙ্কর ও সৎ বিডিও ম্যাডাম পাখির সোচ্চার হওয়ার গল্প নিয়ে এগিয়েছে কাহিনি। লড়াই হয়েছে ভালো-মন্দে। পালাটির স্তম্ভ খল চরিত্রগুলি এবং গান। খল চরিত্রের মধ্যে সত্যপ্রিয় ও রজত দুই প্রধান চরিত্র। তাদের আবার সাঙ্গোপাঙ্গো আছে। শিশুচুরি থেকে সমাজের সমস্ত অপরামূলক কাজকর্মের পান্ডা তারা।
২০ বছর আগের একটি শিশুচুরির ঘটনা নিয়ে গল্প গড়িয়েছে শেষ পর্যন্ত। দৃশ্যের পর দৃশ্যে রহস্য, রোমাঞ্চ এবং টানটান উত্তেজনা। একের পর এক ষড়যন্ত্রে পুলিশ অফিসার, থানার ওসি এবং বিডিও ম্যাডামদের পর্যুদস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। উঠে এসেছে প্রেম ও খুনের দৃশ্য। যাত্রায় রস্ট্রাম এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমি। সেখানে কাহিনির চরিত্ররা ওঠে আর নামে। যাত্রাপালায় কথা ও শারীরী ভঙ্গিমায় দর্শকদের দৃশ্য, স্থান, কাল বুঝিয়ে দিতে হয়, যা খুব জটিল। প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রী চমৎকার ব্যবহার করেছেন রস্ট্রামের সিঁড়ি এবং মঞ্চে ঝোলানো মাইক্রোফোন। শৌখিন যাত্রার শিল্পী বলে কাউকে মনেই হয়নি। মনে হচ্ছিল, কলকাতার পেশাদার কোনও যাত্রাদলের অভিনেতারা অভিনয় করছেন। সবাই নিপুণভাবে অভিনয়ের মাধ্যমে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে সত্যপ্রিয়, রজত, পাখি, মুন্নি, পার্বতী, শুভঙ্কর, পাঁচু, বৃন্দাবন, জীবন গুন্ডা, পিংকি, প্রতীক্ষাকে অসাধারণ লেগেছে। গোটা যাত্রাটির গান সম্পদ। গেয়েছেন গৌতম সিংহ। তাঁর মধুর কণ্ঠ সংগীতের স্বর্ণযুগের ঝলক এনেছিল। অভিনয়ে অংশগ্রহণ করেন পরেশ মণ্ডল (সত্যপ্রিয়), পান্নালাল দে (রজত), কৌশিক চক্রবর্তী (শুভঙ্কর দারোগা), আশিস কর্মকার (পাঁচু), প্রভাত ভট্টাচার্য (গান কাকা), পরেশ লোহার (মহাদেব), সুভাষ ভট্টাচার্য (বৃন্দাবন), সুজয় দে (প্রতীক্ষা), রবীন শর্মা (জীবন গুন্ডা), রাহুল সিংহ (অপূর্ব), অচিন্ত্য ঘোষ(সূর্য), তুলিকা ব্যানার্জি (পাখি), তপতী দত্ত (পার্বতী), বীথিকা মুখার্জি (মুন্নি), মধুমিতা চ্যাটার্জি (পিংকি), গৌতম সিংহ (গায়ক)।
রচনা: মঞ্জিল ব্যানার্জি নির্দেশনা: পরেশ মণ্ডল সহ-নির্দেশনা: কৌশিক চক্রবর্তী প্রযোজনা: আশীর্বাদ নাট্য সংস্থা আলো, শব্দ সংযোজনা, রূপসজ্জা, পোশাক, সুরপার্টি: মা লক্ষ্মী সাজঘর, বুদবুদ

