ড. শর্মিষ্ঠা ঘোষ
অধ্যাপিকা, দর্শন বিভাগ, ফকিরচাঁদ কলেজ
১৮৮৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কমলাকান্তের দপ্তর’-এর দ্বিতীয় সংস্করণে সংযোজিত হয় ‘বুড়া বয়সের কথা’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ। সেটি অনুসরণ করেই আমার এই প্রবন্ধের নামকরণ করেছি ‘প্রবীণ বয়সের কথা’। এখানে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বুড়া বয়সের কথা’র নিরিখে প্রবীণ ব্যক্তিদের প্রতি প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও তাঁদের করণীয় কাজ সম্পর্কে আমার নিজস্ব চিন্তাভাবনা আলোচনা করছি।
বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বুড়া বয়সের কথা’ প্রবন্ধে দু’টি দিক দেখতে পাওয়া যায়— ১) নঞর্থক দিক, যা মূলত সমাজে প্রচলিত ধারণাকে ব্যক্ত করেছে এবং ২) সদর্থক দিক, যেখানে তিনি প্রবীণ বয়সকে প্রকৃত কাজের সময় বলেছেন। কেন এই বয়স প্রকৃত কাজের সময় এবং কী কাজ করার সময়, এসব প্রশ্নের উত্তর সুন্দরভাবে দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে একদিকে প্রবীণ ব্যক্তিদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, অন্যদিকে চাকরি সূত্রে সন্তানদের সুদূরে পাড়ি দেওয়া, যৌথ পরিবারের ভাঙন প্রভৃতির ফলে সমাজে প্রবীণ ব্যক্তিদের পরিবার বা সন্তানের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করার সম্ভাবনা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
এই অবস্থায় নিজেদের সুস্থ, সুরক্ষিত রাখা এবং একইসঙ্গে সমাজকে সুস্থ, স্বাভাবিক পথে চালনা করার দায়িত্ব প্রবীণদের ওপরই এসে বর্তাচ্ছে। এরূপ সামাজিক প্রেক্ষাপটে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বুড়া বয়সের কথা’ প্রবন্ধটি, বিশেষ করে দ্বিতীয় অংশটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ‘প্রবীণ বয়সের কথা’ প্রবন্ধে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
শৈশব, যৌবনের মতোই মানব জীবনের একটি অনিবার্য স্তর হল প্রবীণত্ব (এখানে বার্ধক্য, বৃদ্ধ শব্দের সমার্থক শব্দ হিসাবে প্রবীণ, প্রবীণত্ব শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়েছে)। যৌবন অতীতে প্রৌঢ়, তারপরই প্রবীণ বয়স। প্রবীণত্বের সূচক হিসাবে শারীরিক ও মানসিক বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। বয়সেরই ফল হল প্রবীণত্ব। লেখক বলেছেন, “প্রাচীনতা বয়সেরই ফল, আর কিছুরই নহে। ধাতুবিশেষে কিছু তারতম্য হয়। কেহ চল্লিশে বুড়া, কেহ বিয়াল্লিশে যুবা। কিন্তু তুমি কখনো দেখিবে না যে, বয়সের অধিক তারতম্য ঘটে।’’
মানব জীবনের অনিবার্য স্তর হওয়া সত্ত্বেও কেউ মেনে নিতে চান না যে, তিনি বুড়ো হয়েছেন। কারণ বুড়ো হওয়া মানেই শখ-আহ্লাদ, কাজকর্ম শেষ। শুধু মৃত্যুর দিকে চেয়ে বসে থাকা, কখন যমরাজ পরপারের জন্য নিতে চলে আসেন! জীবনের এক দুঃখময় অবস্থা, যেখানে নতুন কিছু চিন্তাভাবনার উদ্ভবের সম্ভাবনা নেই। সন্তান বা পরিবারের ছোট সদস্যদের ওপর নির্ভর করে বাকি জীবন কাটানো।
অন্য পোস্ট: গণতান্ত্রিক ভারতে নির্বাচন ও বাহুবল
‘বুড়া বয়সের কথা’ প্রবন্ধের প্রথম দিকে এই প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। প্রাচীনকালে পঞ্চাশোর্ধ্বর বনে গমনের কথা বলা হত। লেখক এখানে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন, আর বনে যাওয়ার দরকার নেই, গৃহ, অট্টালিকাই বনের সমতুল্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেছেন, “সম্পদকালে কেহই বলিবে না, বুড়া! আজি আমার আনন্দের দিন, তুমি আসিয়া আমাদিগের উৎসব বৃদ্ধি কর! বরং আমোদ আহ্লাদ কালে বলিবে, দেখ ভাই, যেন বুড়া বেটা জানিতে না পারে। তবে আর আরণ্যের বাকি কী? …আমার প্রিয়বন্ধু দাসু মিত্র, যৌবনের রূপে স্ফীতকণ্ঠ কপোতের ন্যায় সগর্বে বেড়াইত। এখন সেই দাসু মিত্র শুষ্ককণ্ঠ, পলিতকেশ, দন্তহীন, লোলচর্ম, শীর্ণকায়। দাসুর একটা ব্রান্ডি আর তিনটা মুরগী জলপানের মধ্যে ছিল। এখন দাসু নামাবলীর ভয়ে কাতর। পাতে ঝোল দিলে পাত মুছিয়া ফেলে। আর অরণ্যের বাকি কী?”
প্রচলিত এই চিন্তাধারা আজকের নয়, প্রাচীন শাস্ত্রের বহু জায়গায় দেখা যায় বেশ কিছু নঞর্থক চিন্তাধারা। মূলত বিভিন্ন অক্ষমতাকে চিহ্নিত করে মানব জীবনের এই স্তরটিকে দুঃখ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বৌদ্ধদর্শনে আট প্রকার দুঃখের মধ্যে প্রবীণত্ব(জরা)-কে একপ্রকার দুঃখ বলে স্বীকার করা হয়েছে। সমগ্র বৌদ্ধদর্শনে বিভিন্ন সাহিত্যে বিভিন্ন রকম অবক্ষয়ের উল্লেখ করে জরার স্বরূপ উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, বুদ্ধত্ব লাভের পূর্বে সিদ্ধার্থ নগর ভ্রমণ করতে গিয়ে এক জরাগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখে যখন সারথিকে প্রশ্ন করেন, ‘এ ব্যক্তি কে?’ কুমারের প্রশ্নের উত্তরে সারথি বলেন, “ইহা রূপ বিনাশক, বলহানিকর, শোকের আকর, সকল সন্তোষের অপহারক, স্মৃতিনাশক, ইন্দ্রিয়গণের রিপু। ইহার নাম জরা। এই জরা দ্বারাই এই ব্যক্তি জীর্ণ হইয়াছে।”
শুধু বৌদ্ধদর্শনে নয়, মহাভারতে যযাতি পর্বেও প্রবীণত্ব বিষয়ে বিভিন্ন অক্ষমতার উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়। মহাভারতের আদিপর্বে দেখা যায়, শুক্রাচার্যের অভিসম্পাতে রাজা যযাতি প্রবীণ অবস্থা প্রাপ্ত হন। শুক্রাচার্য যযাতিকে বলেন, যযাতি ইচ্ছা করলে এই অবস্থা অন্যের শরীরে দিতে পারবেন। তখন যযাতি তাঁর পাঁচ পুত্রের কাছেই এই জরা (এখানে ‘জরা’ শব্দটি বার্ধক্য বা প্রবীণ ব্যক্তির সূচক) গ্রহণ করার আবেদন করেন। প্রথম চার পুত্র একে একে জরার শারীরিক ও মানসিক অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে জরা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। শেষে পঞ্চম পুত্র পুরু পিতার জরা গ্রহণ করেন। যযাতির বড় পুত্র যদু বলেছিলেন, “জরা হইলে পান, ভোজন প্রভৃতি কার্যে বহুতরে ক্লেশ হইবে। অতএব মহারাজ, আমি আপনার জরা লইব না। ইহাই আমার ইচ্ছা।”
যযাতির চার পুত্র জরা গ্রহণ না করার জন্য এরকম একাধিক অক্ষমতাজনিত কারণের উল্লেখ করেছিলেন। যেমন, বার্ধক্যে রূপের বিনাশ হয়, চুল-দাড়ি সাদা হয়, শরীরে আগের শক্তি থাকে না, দুর্বল হয়ে পড়ে, স্মৃতির বিনাশ হয়, হজমশক্তি কমে যাওয়ায় সবরকম খাদ্যগ্রহণ করতে পারে না প্রভৃতি। প্রাচীনকাল থেকে প্রবীণত্ব সম্পর্কে এসব ধারণাই প্রচলিত হয়ে আসছে এবং এখনও তা বর্তমান সমাজ ও পরিবারে প্রবাহিত।লেখক ‘বুড়া বয়সের কথা’ প্রবন্ধের প্রথম দিকে এই প্রচলিত ধারণার প্রবাহিত দিকটিই তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ লেখক সমাজের প্রকৃত রূপটি তুলে ধরেছেন। কিন্তু ‘বুড়া বয়সের কথা’ প্রবন্ধের মূল বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে প্রবন্ধের শেষের দিকে, যা লেখকের নিজস্ব অনুভূতি। এখানে লেখক বিসমার্ক, মোলটকে, ফ্রেডরিকের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, বুড়া হয়েছেন বলে তাঁরা যদি সব কাজ ছেড়ে মুনিবৃত্তি অবলম্বন করতেন, তবে জার্মানির কী হত! অনুরূপভাবে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যদি বুড়ো হয়েছেন বলে সকল সৃষ্টিমূলক কর্ম করা থেকে বিরত থাকতেন, তাহলে তাঁর শেষজীবনের মূল্যবান রচনাগুলি (যেমন, শেষলেখা, আরোগ্য, জন্মদিনে প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ) কখনও সৃষ্টি হত না। লেখক তাই যেন বলেছেন, “প্রাচীন বয়সই বিষয়ৈষার সময়।” যদিও প্রাচীন বয়স বলতে অতি প্রবীণ ব্যক্তিদের কথা তিনি বলেননি। তিনি লিখেছেন, “আমি অন্ত্র-দন্তহীন ত্রিকালের বুড়ার কথা বলিতেছি না। তাঁহারা দ্বিতীয় শৈশবে উপস্থিত। যাঁহারা আর যুবা নাই বলিয়াই বুড়া, আমি তাঁহাদিগের কথা বলিতেছি।”
অন্য পোস্ট: আধুনিক বাংলা সাহিত্যে হাসি নেই
প্রবীণ বয়সে বিষয়চিন্তা ত্যাগ না করার কারণ রূপে তিনি বলেছেন, “যৌবন কর্মের সময় বটে, কিন্তু তখন কাজ ভালো হয় না। একে বুদ্ধি অপরিপক্ব, তাহাতে আবার রাগ-দ্বেষ, ভোগাসক্তি এবং স্ত্রীগণের অনুসন্ধানে তাহা সতত হীনপ্রভ; এজন্য মনুষ্য যৌবনে সচরাচর কার্যক্ষম হয় না। যৌবন অতীতে মনুষ্য বহুদর্শী, স্থিরবুদ্ধি, লব্ধপ্রতিষ্ঠ এবং ভোগাসক্তির অনধীন। এজন্য সেই কার্যকারিতার সময়। এই জন্য আমার পরামর্শ যে, বুড়া হইয়াছি বলিয়া কেহ স্বকার্য পরিত্যাগ করিয়া মুনিবৃত্তির ভান করিবে না। বার্ধক্যেও বিষয়চিন্তা করিবে।”
প্রবীণ বয়সের মূলধন হল অভিজ্ঞতা। এ সময় সাংসারিক প্রতিযোগিতা ও আকর্ষণ কমে আসে। তাই প্রবীণ ব্যক্তিদের লব্ধ অভিজ্ঞতাকে পরার্থে (স্বদেশ, সমাজের যে কোনও সেবামূলক কাজে, জাগতিক বিকাশের কাজে) সেবামূলক কাজে লাগানোর এটি যথার্থ সময়। এ প্রসঙ্গে লেখক বলেছেন, “যৌবনে যে কাজ করিয়াছি, সে আপনার জন্য; তার পর যৌবন গেলে যত কাজ করিবে, পরের জন্য। ইহাই আমার পরামর্শ। ভাবিও না যে, আজিও আপনার কাজ করিয়া উঠিতে পারিলাম না, পরের কাজ করিব কী? আপনার কাজ ফুরায় না। যদি মনুষ্য জীবন লক্ষ বর্ষ পরিমিত হইত, তবু আপনার কাজ ফুরাইত না। মনুষ্যের স্বার্থপরতার সীমা নাই, অন্ত নাই। তাই বলি, বার্ধক্যে আপনার কাজ ফুরাইয়াছে বিবেচনা করিয়া পরহিতে রত হও। এই মুনিবৃত্তি যথার্থ মুনিবৃত্তি। এই মুনিবৃত্তি অবলম্বন কর।”
প্রবীণ ব্যক্তিরা একথা শুনলে বলবেন, প্রবীণ বয়সে কর্মক্ষমতা কমে যায়। তার ফলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়তে হয়। একাকিত্ব গ্রাস করে। এ সময় রাষ্ট্র, সমগ্র সমাজ, পরিবারের অন্য ছোট সদস্যদেরই প্রবীণ মানুষদের দেখাশোনা করা উচিত। কারণ এতদিন এই মানুষগুলোই (প্রবীণ হওয়ার আগে যৌবনে) সমাজ ও পরিবারের জন্য করে এসেছেন। এখনও তাঁরাই প্রবীণ বয়সে পরার্থে কাজ করবেন? এর উত্তর লেখক অনেকাংশে দিয়েছেন যে, যৌবনে যে কাজ করা হয়, তা মূলত নিজের প্রয়োজনে (সংসার, প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রভৃতি কারণে), যৌবন অতীতে অভিজ্ঞতা দ্বারা সঞ্চিত ব্যক্তি কাজ করবেন পরার্থে, অপরের জন্য, সমাজের স্বার্থে। এছাড়াও পরার্থে কাজের মধ্য দিয়ে নিজেদেরও স্বার্থ রক্ষিত হয়, প্রবীণ ব্যক্তিরা অনাসক্ত এই কর্মে রত হয়ে নিজেদের সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার পথের সন্ধান পেতে পারেন।
স্বামীজি বলেছেন, “পরার্থে এতটুকু কাজ করলে ভিতরের শক্তি জেগে ওঠে। পরের জন্য এতটুকু ভাবলে ক্রমে হৃদয়ে সিংহবলের সঞ্চার হয়।” প্রবীণ বয়সে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য এই শক্তির খুবই প্রয়োজন এবং এখানেই নিজের স্বার্থ জড়িত।
অন্য পোস্ট: ভগবান মানি কেন
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বুড়া বয়সের কথা’ প্রবন্ধে যৌবন অতীতে পরার্থে কাজ করার কথা বলেছেন। তাতে শুধু সমাজ, পরিবার বা অপর ব্যক্তি নয়, প্রবীণ ব্যক্তি নিজেও বহুবিধ সুফল লাভ করবেন। ১) প্রবীণ বয়সের সবচেয়ে বড় সমস্যা একাকিত্ব, হতাশা। যখন কোনও ব্যক্তি নিঃস্বার্থভাবে পরার্থে কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তখন সমাজ বা পরিবারের কাছে তিনি নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে করবেন না। নতুন নতুন চিন্তাভাবনার উদ্ভব ঘটবে। একইসঙ্গে কাজের মধ্যে থাকার জন্য একাকিত্ব বা হতাশা গ্রাস করবে না এবং নতুন এক জীবনের সন্ধান পাওয়া যাবে। ২) পরার্থে কাজ করলে মনে একপ্রকার প্রশান্তি আসে, যা প্রবীণ বয়সে জীবনের প্রতি সদর্থক চিন্তাভাবনা ও শক্তি জোগায়। ৩) প্রবীণ বয়সের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল শারীরিক অক্ষমতা। বর্তমানে সকলেই প্রায় জানে, শরীর ও মন অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। মন ভালো থাকলে শরীর অনেকাংশে ভালো থাকে। কারণ পরার্থে সেবামূলক কাজে পাওয়া যায় প্রশান্তি। এছাড়া যে ব্যক্তি অপরের জন্য নিঃস্বার্থভাবে সেবামূলক কাজ করছেন, শারীরিক অসুস্থতার সময় শুধু পরিবার ছাড়াও অনেক বেশি মানুষকে তাঁরা পাশে পাবেন। ৪) অপর একটি বড় বিষয় হল প্রবীণ ব্যক্তিদের এতদিনের অভিজ্ঞতালব্ধ পূর্ণতা, যা সমাজের যে কোনও কাজের ক্ষেত্রে অতি মূল্যবান। তাই বার্ধক্যে মুনিবৃত্তি সমাজ ও ব্যক্তিগত কোনও ক্ষেত্রেই কাম্য নয়।
১৯৪৬ সালে ‘হরিজন’ পত্রিকায় গান্ধীজির একটি কথার সঙ্গে লেখকের চিন্তাভাবনার সামঞ্জস্য দেখতে পাওয়া যায়। গান্ধীজি বলেছেন, “ভোগের জন্য নয়, সেবার উদ্দেশ্যেই নরদেহের সৃষ্টি। সুখী জীবনের গোপন রহস্য হচ্ছে ত্যাগ। ত্যাগই জীবন। ভোগের পরিণাম মৃত্যু। সুতরাং অনাসক্ত কর্মে রত অবস্থায় প্রত্যেকেরই ১২৫ বছর বাঁচার অধিকার আছে এবং এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা হওয়া উচিত।”
পরার্থে অনাসক্তরূপে সেবামূলক কাজের মধ্য দিয়েই সম্ভব সুস্থ, স্বাভাবিক এক দীর্ঘজীবন লাভ। বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, নিজের সুস্থতা, নিজের বিকাশ, নিজের ভালো থাকা নিজেরই দায়িত্ব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এস আতিকুর রহমান বলেছেন, “আমার বার্ধক্য আমার, এটা সবাইকে চিন্তা করতে হবে।” বর্তমান সময়ে এই সত্যটিকে অনুভব করতে হবে। তাই নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে। মুনিবৃত্তি অবলম্বন করে বেঁচে থাকা নয়, বরং আগামিদিনে প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছে পরার্থে সেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে সচল, সুস্থ রাখাই মূলমন্ত্র হয়ে উঠুক।


