পার্থপ্রতিম বিশ্বাস
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র সুষ্ঠু নির্বাচন। অথচ তা নিয়েই বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক ভারতে যত হ্যাপা। কোথাও ভোটযন্ত্রের গঠনতন্ত্র নিয়ে অভিযোগ তো, অন্যখানে ছাপ্পা, রিগিং, বুথ দখলের মাধ্যমে ক্ষমতায়নের ক্যামেরাবন্দি দৃশ্যায়ন প্রকৃত জনমতের প্রকৃতিকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।
আসলে ক্ষমতা যাঁদের থাকে, তাঁরাই ক্ষমতা দখল করেন। Survival of the fittest, অর্থাৎ যোগ্যতমের উদ্বর্তন তো বৈজ্ঞানিক সত্য। তবে সেটা প্রতিযোগিতা। কিন্তু আজকের দিনে দুর্বলকে পিষে মারাটাই সবলের দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কেবল বল থাকলেই বিপন্নতার কবল থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আবার যাঁরা আর্ত, পীড়িত, অসহায়, দরিদ্র, সহায়-সম্বলহীন মানুষের সেবা করেন, তাঁরা তো ক্ষমতাবান বটেই। আর জনস্বার্থে সাধ্যমতো নিজেকে নিয়োজিত করার সাধ থাকে বলেই এটা করতে পারেন। তাই তাঁরা আরও ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠেন। কারণ জনতা তাঁদের পাশে থাকে।
তবে ক্ষমতার রকমফের আছে। The power of love is boundless. প্রেমের ক্ষমতা অসীম। গণতন্ত্রে এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেউ ক্ষমতাসীন হলে তাঁকে তো ভগবান, আল্লা, গডের দূত বলাই সমীচীন। কিন্তু দুর্বলের ওপর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে যে মন্ত্রীগিরি, তা কি বরদাস্তযোগ্য? অস্ত্র দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিরস্ত করা কি করণীয়? কখনওই নয়। কিন্তু ক্ষমতাকামী কোন দলের বাহুবলে অনীহা? সবার আগে তো সব দলকেই দুর্বৃত্তদের বৃত্তের বাইরে আসতে হবে! সেটা কি সম্ভব?
যদি ধরেই নিই, কোনও একটি রাজ্যে ক্ষমতার জোরে শাসকদল ক্ষমতা দখল করেছে বা করবে, সেক্ষেত্রে এটা তো ঠিক যে, বিরোধীদের পক্ষে জনসমর্থন সেই জায়গায় পৌঁছয়নি বলেই তা সম্ভব হয়েছে বা হবে। শুধু গুটিকয়েক দুষ্কৃতীর সাহায্যে গণতন্ত্রের মসনদে বসা তো অসম্ভব। আর নির্বাচনে শাসকদল যদি একটুও বাহুবল না প্রয়োগ করে, তাহলে বিরোধীরা কি নিশ্চয়তা দিতে পারবেন যে, ভোটে আর কারও গায়ে একটুও চোট লাগবে না, কোনও দলে একজনও দুষ্কৃতী থাকবে না, অবৈধ অস্ত্রের দাপাদাপি থাকবে না, বারুদ ব্যবহৃত হবে শুধু দেশলাইয়ের কাঠিতে আর তাঁরা চুপিচুপিও কোনও কারচুপি করবেন না? যদি তা হয়, তাহলে তো আরাম রাজত্ব এল বলে।

