ড. গৌতম মুখোপাধ্যায়
সিনিয়র প্রফেসর, ইতিহাস বিভাগ, সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, পুরুলিয়া

উনিশ শতকে বঙ্গের জাতীয়তাবাদী নারীসমাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিল, যা কেবল রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। আলোচ্য শতকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বঙ্গীয় সমাজে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, সেখানে নারীসমাজ বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। বিশেষত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নারী, যাঁরা নবজাগরণের প্রভাবে ঘরোয়া পরিসরে শিক্ষার সুযোগ পান, তাঁরা জাতীয় প্রশ্নে সক্রিয় চিন্তাভাবনায় যুক্ত হন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসে সৃষ্ট বিমলা চরিত্রটি এই অনুষঙ্গেরই ফল। নারীশিক্ষার প্রসার ও বাল্যবিবাহ, সতীদাহ প্রথা, বিধবাবিবাহের মতো সামাজিক প্রশ্নে আন্দোলনে নারীরা সক্রিয় ভূমিকা নেন। এই সামাজিক সংস্কার কার্যক্রম জাতীয় আত্মপরিচয়ের একটি অংশ হয়ে ওঠে। বিদ্যাসাগর ও কেশবচন্দ্র সেনের মতো পুরুষ নেতার পাশাপাশি কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়, স্বর্ণকুমারী দেবী, রাধারানি দেবীর মতো নারীরা সমাজে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনেন।
নারীরা ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকা (১৮৬৩)-র মতো প্রকাশনায় অংশগ্রহণ করে জাতি-সমাজের নানা বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। এই পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন উমেশচন্দ্র দত্ত। পত্রিকার মাধ্যমে মূলত নারীশিক্ষার প্রসার ও নারীসমাজের উন্নতির পরিকল্পনা রচিত হয়। পত্রিকাটি ব্রাহ্মসমাজের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছিল। এই পত্রিকা ছিল একধরনের ‘বুদ্ধিবৃত্তিক মঞ্চ’, যেখানে নারীরা প্রথমবারের মতো জাতি ও সমাজ নিয়ে মতপ্রকাশের অধিকারিণী ছিলেন। সাহিত্যচর্চা ও সংবাদমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে তাঁরা জাতীয়তাবাদীবোধ জাগিয়ে তোলেন।
উনিশ শতকের নারীরা সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিতে না পারলেও তাঁরা পরিবারে সন্তানদের শিক্ষাদান, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের মূল্যবোধ শেখানোর মাধ্যমে একপ্রকার আদর্শ নেতৃত্ব প্রদান করেন। ভবিষ্যতের বিপ্লবীদের প্রস্তুত করতে নারীরা ঘরকে একপ্রকার দেশপ্রেমের পাঠশালায় পরিণত করেন। উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের আলোকে নারীরা কেবল সমাজ সংস্কারে নয়, আত্মপরিচয় নির্মাণেও সচেষ্ট হন। ‘নারী’ যে সমাজের কেবল ভোগ্য নয়, বরং চিন্তাশীল, দায়িত্ববান এবং জাতির জন্য উপযোগী, এই বোধ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও নৈতিক নেতৃত্ব জাতীয়তাবাদী চেতনার পত্তনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তাঁদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব ছিল সমাজে নবচেতনা তৈরি, জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখা এবং নিজস্ব পরিচয় নির্মাণ, যা পরবর্তী শতকের নারীবাদ ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ভিত্তি প্রস্তুত করেছিল।
উনিশ শতকে বঙ্গের জাতীয়তাবাদী নারীসমাজের ঐতিহাসিক দায়িত্ব বিশ্লেষণ করতে গেলে কয়েকজন বিশেষ নারী ব্যক্তিত্ব ও তাঁদের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করা জরুরি। এক্ষেত্রে স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠা ভগিনী এবং একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সম্পাদক। তিনি দীর্ঘদিন ‘বামাবোধিনী পত্রিকা’ সম্পাদনা করেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে নারীদের শিক্ষার গুরুত্ব, জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং নারী স্বাধীনতার ধারণা প্রচার পায়। তিনি নারীসমাজকে ঘরের বাইরে এনে চিন্তাশীল নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। সাহিত্য ও সম্পাদকীয় কাজের মাধ্যমে নারীদের মধ্যে আত্মপরিচয় এবং জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটান।
অন্য পোস্ট: চেন্নাইয়ের মৎস্য নারায়ণ মন্দির শিল্প ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অপূর্ব সংমিশ্রণ
অন্য এক বিখ্যাত ও মহিমান্বিত নারী ছিলেন কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৬১-১৯২৩)। তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় মহিলা চিকিৎসক, যিনি পাশ্চাত্য ধাঁচে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ব্রিটিশ আমলে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেন এবং পরে ইংল্যান্ডে উচ্চতর শিক্ষাও নেন। নারীর শিক্ষার সীমাবদ্ধতা ভেঙে তিনি সমাজে নারীর যোগ্যতা ও সক্ষমতার প্রতীক হয়ে ওঠেন। তাঁর পথ অনুসরণ করে আরও বহু নারী শিক্ষার পথে অগ্রসর হন, যা জাতীয় উন্নয়নের অংশ ছিল।
কামিনী রায় (১৮৬৪-১৯৩৩), হেমলতা দেবী (১৮৬৮-১৯৪৩), রাধারানি দেবী (১৯০৩-১৯৮৯) প্রমুখ লেখিকা তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে নারীসমাজকে সচেতন করেন। কামিনী রায় ছিলেন প্রথম মহিলা, যিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন ও সমাজসচেতন কবিতা লেখেন। তাঁদের সাহিত্যকর্মে দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার ও নারীসমাজের স্বাধীনতার বার্তা স্পষ্টভাবেই বিঘোষিত হয়েছিল। ফলে সমাজের অভ্যন্তরে জাতীয়তাবাদী চেতনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রাহ্মসমাজের মতো সামাজিক সংস্কার আন্দোলনে নারীরা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্র সেন নারীদের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁদের পরিবারের নারীরা (যেমন, জ্ঞানদানন্দিনী দেবী) সমাজ সংস্কারের বার্তা ছড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁরা ছিলেন সামাজিক আন্দোলনের ‘ঘরের ভিতরকার সৈনিক’, যাঁরা নতুন সমাজ নির্মাণে মৌলিক ভূমিকা পালন করেন। এসব বিশেষ নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাঁরা কেউ সাহিত্য রচনায়, কেউ শিক্ষায়, আবার কেউ চিকিৎসা ও সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী সমাজের ভিত গড়েছেন। তাঁদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব ছিল সমাজে চেতনা জাগানো এবং জাতীয় চিন্তার ভিত্তিভূমি প্রতিষ্ঠা করে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আন্দোলনের পথ প্রস্তুত করা। এভাবে উনিশ শতকের বঙ্গীয় নারীসমাজ জাতীয়তাবাদের এক অন্তরঙ্গ, কিন্তু মৌলিক স্তম্ভ হয়ে ওঠে।
উনিশ শতক ছিল বঙ্গদেশে এক নতুন জাগরণের যুগ। ওই সময়কালকে বাংলা রেনেসাঁর যুগ বলা হয়ে থাকে। কেবল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধেই নয়, জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণ এবং সমাজে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ওই সময় ছিল ঐতিহাসিক। সে সময় পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও নবজাগরণের অংশ হয়ে ওঠেন। যদিও তাঁদের ভূমিকা অনেকাংশেই পরোক্ষ, তবু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি নির্মাণে বঙ্গীয় নারীসমাজের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তাঁদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব ছিল সমাজে চেতনার সঞ্চার, জাতিগত আত্মপরিচয়ের বীজ বপন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংগ্রামের জন্য একটি আদর্শগত কাঠামো প্রস্তুত করা।
উনিশ শতকে নারীরা কেবল পুরুষের সহধর্মিণী বা কন্যা হিসাবে নয়, সচেতন নাগরিক হিসাবেও আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করেন। সে কারণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সবলা' কবিতায় সওয়াল করেন,
‘নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার
কেন নাহি দিবে অধিকার,
হে বিধাতা?’
রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং একজন ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী ছিলেন। ব্রাহ্মসমাজে নারীদের স্থান এবং তাঁদের মতপ্রকাশের সুযোগ, সবকিছুই নারীদের মধ্যে আত্মজাগরণ ঘটায়। এই আত্মজাগরণ ছিল জাতীয়তাবাদী জাগরণেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কেননা একটি স্বাধীন জাতির জন্য স্বাধীন ও সচেতন নারীসমাজ অপরিহার্য।
অন্য পোস্ট: পাকিস্তানে ভারতের প্রত্যাঘাতে বামপন্থীদের ব্যথা
উনিশ শতকের বঙ্গীয় নারীসমাজ এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। তাঁরা সাহিত্য, শিক্ষা, সমাজসংস্কার ও পারিবারিক পরিবেশে একটি নতুন আদর্শ গড়ে তোলেন, যা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত শক্ত করে তোলে। তাঁদের ভূমিকা ছিল এক অর্থে নীরব বিপ্লবের সমান, যেখানে তাঁরা সমাজের ভিত্তিকে এমনভাবে রূপান্তর করেন, যাতে ভবিষ্যতের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য অনুকূল মানসিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি হয়। বঙ্গীয় নারীসমাজের এই দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
উনিশ শতক বঙ্গের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়চিহ্ন হয়ে আছে। এটি শুধু এক রাজনৈতিক রূপান্তরের যুগ ছিল না, বরং এক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নবজাগরণের যুগ। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের মধ্যেই যখন জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটছিল, তখন বঙ্গের নারীসমাজ ঘরের আড়াল ভেঙে সমাজের মূলধারায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করে। যদিও তাদের এই অংশগ্রহণ রাজনৈতিক মঞ্চে সরাসরি ছিল না, তবে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও নৈতিক ভূমিকা ছিল সুগভীর ও সুদূরপ্রসারী। বঙ্গীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আদর্শ ভিত্তি নির্মাণে নারীসমাজ এক মৌলিক দায়িত্ব পালন করেছে, যা ইতিহাসে অনুপম দৃষ্টান্ত।
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতবর্ষে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রবর্তন, ইংরেজি ভাষার প্রসার এবং খ্রিস্টান মিশনারি কার্যক্রম সমাজে বিভিন্ন চিন্তার দ্বন্দ্ব তৈরি করে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলায় শুরু হয় নবজাগরণ, যেখানে সমাজ সংস্কার, শিক্ষা, নারীর অধিকার এবং জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন ঘিরে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা গড়ে ওঠে। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কেশবচন্দ্র সেন প্রমুখ সমাজ সংস্কারক নারীর শিক্ষার পক্ষে অবস্থান নেন এবং এই সংস্কার আন্দোলনে নারীরাও ধীরে ধীরে নিজেদের যুক্ত করে তোলেন। সে সময় নারীশিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হয়ে ওঠে। নারীশিক্ষার প্রসারকে তখন জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসাবে দেখা হয়। কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় এ ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী নাম।
উনিশ শতকের নারীরা প্রকাশ্যে রাজনীতিতে অংশ নিতে না পারলেও ঘরের মধ্যে তাঁরা এক নতুন সমাজ গঠনের ভিত্তি নির্মাণ করেন। সন্তানদের শিক্ষাদান, চরিত্র গঠন এবং নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি, এসব দায়িত্ব তাঁদের ওপরই বর্তায়। তাঁরা সন্তানদের মধ্যে দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও মানবিক গুণাবলি গড়ে তোলেন। ফলে পরিবারই হয়ে ওঠে একটি ক্ষুদ্র জাতীয়তাবাদী ইউনিট। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন তাঁর মায়ের প্রভাব স্বীকার করেছেন, তেমনই বহু বিপ্লবী, স্বাধীনতা সংগ্রামী পরবর্তীকালে তাঁদের মায়ের প্রভাব ও চেতনার কথা স্মরণ করেছেন। এই ঘরোয়া শিক্ষাই ছিল জাতীয় চেতনার প্রাথমিক পাঠ।
অন্য পোস্ট: আমেরিকার বিদেশনীতি এবং ভারতের কমিউনিস্টরা
উনিশ শতকের বঙ্গীয় নারীসমাজ ব্রাহ্মসমাজ, বেদান্ত সভা এবং অন্যান্য ধর্মীয়-সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজ সংস্কারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সতীদাহ প্রথা বিলুপ্তি, বিধবাবিবাহ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীশিক্ষা, এসব বিষয়ে তাঁরা মতপ্রকাশ করেন এবং পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে অংশ নেন। উদাহরণস্বরূপ জ্ঞানদানন্দিনী দেবী (সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী)-র কথা উল্লেখ্য। তিনি ইউরোপীয় জীবনধারার সঙ্গে বাঙালি নারীদের পরিচয় ঘটান এবং নারীর আত্মসম্মান ও স্বতন্ত্রতার ধারণা প্রচার করেন। তিনি নারীসমাজের পর্দাপ্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে নারীর উপস্থিতিকে স্বাভাবিক করে তুলতে সচেষ্ট হন।
সে সময়কার নারীরা কেবল জাতি গঠনের সহায়ক নয়, বরং নিজেরাও জাতির অঙ্গ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। নারী যে কেবল পরনির্ভর নয়, বরং চিন্তাশীল, সংস্কারমুক্ত ও দায়িত্বশীল নাগরিক, এ বার্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ আত্মপরিচয় গঠনের মাধ্যমে নারীরা জাতীয়তাবাদের প্রকৃত রূপ ধারণ করেন। এই নারীরা হয়তো প্রত্যক্ষভাবে অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত হয়ে যুদ্ধ করেননি, কিন্তু তাঁদের কর্ম ও চিন্তার মাধ্যমে তাঁরা জাতির হৃদয়ে যে আলো প্রজ্বলন করেছেন, তা দীর্ঘকাল আলোকবর্তিকাস্বরূপ পথ দেখিয়েছে। সুতরাং ইতিহাসে বঙ্গের জাতীয়তাবাদী নারীসমাজ কেবল সহায়ক নয়, বরং এক অপরিহার্য শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
