ড. গৌতম মুখোপাধ্যায়
প্রফেসর, ইতিহাস বিভাগ, সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, পুরুলিয়া
![]()
পলাশির যুদ্ধজয়কে কাজে লাগিয়ে বক্সারের অপেক্ষাকৃত বড় যুদ্ধে (১৭৬৪) বাজিমাত করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ, বিশেষত লর্ড ক্লাইভ ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে মুঘল বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি অধিকার কবজা করে বাংলাদেশের প্রকৃত শাসকে পর্যবসিত হয়েছিলেন। তার পরের প্রায় দু’শো বছর নির্লজ্জ শোষণ ও লুণ্ঠনের জায়গা হয়ে দাঁড়ায় বাংলা প্রদেশ তথা সমগ্র ভারত। কিন্তু ওই উপনিবেশের সার্বিক সত্তার ওপর আধিপত্যবাদের বাসনা থেকেই তাঁরা বাংলার মেধাস্বত্বের ওপর খবরদারির জন্য পশ্চিমি ভাষা ও সংস্কৃতির রাংতা মোড়া প্রলেপ দিতে উদ্যত হয়েছিলেন, যাতে চাকচিক্যের প্রভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাথা যায় ঘুরে। সেজন্য প্রথমেই বাংলার সমাজ জীবনের বারমাস্যা অনুধাবন করা তাঁদের পক্ষে আবশ্যিক হয়ে দাঁড়ায়। বাংলা ভাষার ওপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপনের জন্য তাঁরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনায় উৎসুক হন।
এ বিষয়ে অনন্ত কাকবা প্রিওলকরের বর্ণনা তুলে ধরা যেতে পারে, ‘In 1772 the East India Company assumed responsibility for the governance of Bengal and the need for learning the language of the governed was felt soon thereafter. Nathaniel Brassey Halhed undertook the task of preparing books for this purpose. In 1768 Halhed met Sir William Jones in London and under the latter’s influence was attracted to the study of Oriental languages. Later he entered the service of the East India Company and came to India. On the advice of Warren Hastings (1774) he published a translation of the ‘Gentoo Code’ from the Persian. During his sojourn in Bengal he learnt Bengali and prepared a Grammar of that language for the use of his compatriots. This was printed in 1778 at Hoogly.’
অন্য পোস্ট: আর জি কর কাণ্ড ও নারী আন্দোলন
জশুয়া মার্শম্যান (Joshua Marshman)-এর গ্রন্থের শেষ ৯ অধ্যায় অবলম্বনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ‘বাঙ্গালার ইতিহাস’ রচনা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছেন যে, মার্শম্যানের গ্রন্থের হুবহু অনুবাদ করেননি, প্রয়োজন অনুযায়ী সংযোজন ও বিয়োজন করেছেন। বাংলায় মুদ্রণযন্ত্রের বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘১৭৭৮ খৃঃ অব্দে বাঙ্গালা অক্ষরে সর্বপ্রথম এক পুস্তক মুদ্রিত হয়। অসাধারণ বুদ্ধিশক্তিসম্পন্ন হালহেড সাহেব সিবিল কর্মে নিযুক্ত হইয়া, ১৭৭০ খৃঃ অব্দে এতদ্দেশে আসিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে আরম্ভ করেন। তিনি যেরূপ শিক্ষা করিয়াছিলেন, পূর্বে কোনও য়ুরোপীয় সেরূপ শিখিতে পারেন নাই। ১৭৭২ খৃঃ অব্দে রাজকার্যনির্বাহের ভার য়ুরোপীয় কর্মচারীদিগের হস্তে অর্পিত হইলে হেষ্টিংস সাহেব বিবেচনা করিলেন, এতদ্দেশীয় ব্যবহারশাস্ত্রে তাঁহাদের জ্ঞান থাকা আবশ্যক। পরে তদীয় আদেশে ও আনুকূল্যে হালহেড সাহেব হিন্দু ও মুসলমানদিগের সমুদয় ব্যবহারশাস্ত্র দৃষ্টে ইংরেজী ভাষায় এক গ্রন্থ সঙ্কলিত করেন। ঐ গ্রন্থ ১৭৭৫ খৃঃ অব্দে মুদ্রিত হয়। তিনি সাতিশয় পরিশ্রম সহকারে বাঙ্গালা ভাষা শিখিয়াছিলেন এবং বোধ হয়, ইংরেজদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই ভাষায় বিশিষ্টরূপ বুৎপন্ন হইয়াছিলেন। ১৭৭৮ খৃঃ অব্দে তিনি বাঙ্গালা ভাষায় এক ব্যাকরণ প্রস্তুত করেন। উহাই সর্বপ্রথম বাঙ্গালা ব্যাকরণ। তৎকালে রাজধানীতে ছাপার যন্ত্র ছিল না; উক্ত গ্রন্থ হুগলীতে মুদ্রিত হইল।’


Please comment on it.
Outstanding