মৌবনি সরকার (অভিনেত্রী)
আমি নিজেকে শুধু একজন নায়িকা বা অভিনেত্রী মনে করি না, একজন শিল্পী মনে করি। অভিনয়ের শুরু নেই, শেষও নেই। এর কোনও গ্রাফ নেই। যত দূর নিয়ে যেতে চাইব, তত দূর নিয়ে যেতে পারব। একজন সৎ, যথার্থ শিল্পী হওয়াই আমার স্বপ্ন।
স্টেজে ম্যাজিক দেখাতে দেখাতে যখন সময় এল পেশা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, তখন ভেবেছিলাম, ম্যাজিকই করব। কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে আমাকে দেখে পরিচালকরা বলতেন অভিনয় করতে। আমি মডেলিং করতাম। একটা কাগজে আমার ছবি দেখে পরিচালক দেবাংশু সেনগুপ্ত বাবাকে (জাদুকর পি সি সরকার জুনিয়র) ফোন করে আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি আমাদের বাড়িতে এসে আমার সঙ্গে কথা বলেন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দালিয়া’ গল্প নিয়ে যে টেলিফিল্ম বানানোর কথা ভাবছিলেন, তাতে একজন মুসলিম রাজকুমারীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আমাকে নির্বাচিত করেন। তারপর বড়পর্দায় প্রথম অভিনয় করি পিন্টু চট্টোপাধ্যায়ের একটি নাগপুরি ছবিতে। নাম ‘জুগনি’। তাতে আমার দুটো চরিত্র ছিল। তারপর অভিনয় করি ভোজপুরি ছবি ‘পিস্তল এগো প্রেম কাহানি’-তে।
আর বাংলায় আমার প্রথম অভিনয় ‘বদলা’ ছবিতে। বুম্বাদা আমাকে এক জায়গায় দেখে বলেছিলেন, ‘এই মেয়েটা ভালো কাজ করবে।’ পরে পরিচালক অনুপ সেনগুপ্ত আমাকে বুম্বাদার বিপরীতে অভিনয় করার সুযোগ করে দেন। এটা আমার জীবনে একটা বড় ব্রেক। তারপর এগিয়ে চলেছে আমার অভিনয় জীবন।
তবে আমি ছবিও আঁকি। ওডিশি নৃত্য করি। ‘প্রতিভা’ নামে একটি নাচের স্কুল করেছি। সারা বছরই নাচের অনুষ্ঠান চলতে থাকে। এই প্রত্যেকটি সত্তাই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ছোটবেলাতেই আমার ছবি আঁকা শুরু। রঙের প্রতি বরাবরই আমার ইন্টারেস্ট ছিল। ছোটবেলায় আঁকা দেখে বাবার মনে হয়েছিল, আমার মধ্যে আঁকার সত্তা রয়েছে। আসলে আঁকতে আমার খুব ভালো লাগে। আঁকাটা আমার মনে হয়, সোর্স অব এনার্জি। আমি যখন আঁকি, তখন খুব খুশি থাকি। আঁকার মধ্যে একটা পরিতৃপ্তি থাকে।
অন্য পোস্ট: নেতাজি ও ডাক্তারজি: আদর্শের দুই ভিন্ন রূপ
আমার ছোটবেলায় আমি প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ছবি এঁকে তাঁকে পাঠিয়েছিলাম। তারপর চিঠি দিয়ে তিনি আমার প্রশংসা করেছিলেন। ওই অল্প বয়সে তাঁর মতো এক ব্যক্তিত্বের তারিফ পেয়ে খুব খুশি হয়েছিলাম।
বড় হয়ে আমি অনেকেরই পোর্ট্রেট এঁকেছি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চার্লি চ্যাপলিন, হৃত্বিক রোশন, এপিজে আবদুল কালাম, অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রমুখ। ইন্ডিয়া-আমেরিকা মৈত্রীর ওপর ভিত্তি করে আমি ক্লিনটন ও বাজপেয়ীর একসঙ্গে ছবি এঁকেছি।
আমি মানুষের শুধু নাক, কান, গলা, চোখ, মুখ এঁকেই থেমে থাকতে চাই না। চাই আমার ছবিতে তাদের মনটাকেও তুলে ধরতে। মানুষের আবেগকে ছবির মধ্যে ফুটিয়ে তুলতে চাই।একজন মানুষের শরীর ছাড়াও যে অদৃশ্য একটি বিষয় রয়েছে, যা নিয়ত পরিবর্তনশীল, সেটাও আমি ছবিতে তুলে ধরতে চাই।
আর ছোটবেলায় মা আমাকে নাচের স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। নিয়ে গিয়েছিলেন মুরলীধর মাঝির কাছে। মঞ্চে আমি মায়ের নাচের বিভিন্ন কম্পোজিশন দেখে মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত হতাম। মা আমার ভাব বুঝতে পেরে আমাকে ওডিশি নৃত্য শেখানোর ব্যবস্থা করেন। আমাদের নাচের একটা ধারা রয়েছে। সেটা আমি রক্ষা করার চেষ্টা করি। আমি ওডিশি নাচের জন্য নতুন কিছু করতে চাই। আমার নাচের স্কুলে আমি বাছাই করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করি। স্কুলটা ছোট, কিন্তু আমি চাই যত্ন সহকারে শেখাতে। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার নাচ দেখে ভি বালসারা মুগ্ধ হয়েছিলেন। প্রশংসা করেছিলেন আমার বাবার কাছে। বলেছিলেন, ‘ও অনেকদূর যাবে। নাচের জগতে ও একটা অ্যাসেট।’
