কাজল মুখার্জি

মহাকুম্ভমেলা পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ, যা প্রতি ১২ বছর অন্তর চারটি পবিত্র স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। স্থানগুলি হল, প্রয়াগরাজ (প্রাচীন এলাহাবাদ), হরিদ্বার, উজ্জয়িনীর শিপ্রা নদী ও নাসিকের গোদাবরী নদী। পুরাণ অনুযায়ী, দেবতা ও অসুরদের মধ্যে অমৃতের জন্য সমুদ্রমন্থন চলাকালে অমৃতের কিছু কণা পৃথিবীতে পড়েছিল। সেগুলি যেখানে পড়ে, সেখানেই কুম্ভমেলার আয়োজন হয়। ২০২৫ সালের মহাকুম্ভমেলা এ বছর মহাকুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রয়াগরাজে। এটি শুরু হয়েছে ১০ জানুয়ারি এবং চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই মেলার মূল আকর্ষণ হল শাহী স্নান, যা বিভিন্ন তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। শাহী স্নানে অংশগ্রহণের জন্য লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী এবং সাধুসন্ত প্রয়াগরাজে জড়ো হন। গুরুত্বপূর্ণ স্নান তিথি (২০২৫) ১) ১৪ জানুয়ারি– মকর সংক্রান্তি (প্রথম শাহী স্নান) ২) ২৯ জানুয়ারি– মৌনী অমাবস্যা (দ্বিতীয় শাহী স্নান) ৩) ২ ফেব্রুয়ারি–বসন্ত পঞ্চমী (তৃতীয় শাহী স্নান) ৪) ১৩ ফেব্রুয়ারি– মহাশিবরাত্রি সাধুসন্তদের ভূমিকা মহাকুম্ভমেলায় বিভিন্ন আখড়ার সাধুসন্তরা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাঁদের মধ্যে নাগা সাধুদের স্নান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁরা শরীরে ভস্ম মেখে দণ্ড হাতে নিয়ে শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে শাহী স্নানে অংশগ্রহণ করেন। নাগা সাধুরা ব্রহ্মচর্য এবং কঠোর তপস্যার জন্য সুবিদিত। তাঁদের শাহী স্নান মেলার অন্যতম আকর্ষণ। মেলার ব্যবস্থাপনা মহাকুম্ভমেলার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জটিল এবং সুবিন্যস্ত। নিরাপত্তা ব্যবস্থা: মেলায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধের জন্য পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা: মেলায় বিভিন্ন স্বাস্থ্যশিবির স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে পুণ্যার্থীরা চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। পরিবহণ ও আবাসন: লক্ষাধিক তীর্থযাত্রীর জন্য বিশেষ ট্রেন ও বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে অস্থায়ী তাঁবু ও থাকার জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের অংশগ্রহণ মহাকুম্ভমেলা কেবল ভারতীয়দের জন্য নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এখানে আসতে পারে। বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা এবং ভ্রমণ প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেকেই এই আধ্যাত্মিক উৎসবের মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। অন্য পোস্ট: বিবেকানন্দ আধুনিক বিজ্ঞান যুগের মানুষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মেলার সময় প্রতিদিন নানা ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বৈদিক মন্ত্রপাঠ, ধর্মসভা, যোগ ও ধ্যানের কর্মশালা এবং ভজন-কীর্তনের মতো কার্যক্রম মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রভাব ও গুরুত্ব মহাকুম্ভমেলা শুধু আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে না, এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলে। স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পর্যটন শিল্প এ সময়কালে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হয়। অন্য পোস্ট: বাঁকুড়ার ঐতিহ্য টুসু পরব মানুষের মিলনস্থল মহাকুম্ভমেলা ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্রের মধ্যেও মানুষের ঐক্যের প্রতীক। এই মেলায় অংশগ্রহণকারীরা দৃঢ় বিশ্বাস, মন, প্রাণ ও দেহের শুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক মুক্তির উদ্দেশ্যে স্নান করেন। এটি আত্মবিশুদ্ধি, বিশ্বাস এবং মানবতার মেলবন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ।
