কাজল মুখার্জি

আজ ২৫ মে বিশ্বের নানা প্রান্তে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফুটবল দিবস। এক খেলা, এক বল, এক মাঠ। আর এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আবেগ, স্বপ্ন, লড়াই, গৌরব ও ঐক্যের সুর। ফুটবল শুধুই খেলা নয়, একটি ভাষা, যা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে কথা বলে।
ফুটবলের সূচনা এক বিশাল যাত্রাপথের ইতিহাস। চিন থেকে গ্রিস, মিশর থেকে ইংল্যান্ড, প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন দেশ নানা রূপে ফুটবল নিয়ে খেলেছে। তবে আধুনিক ফুটবলের ভিত্তি গড়ে ওঠে ১৮৬৩ সালে, ইংল্যান্ডে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গঠনের মাধ্যমে। সেখান থেকেই শুরু হয় ‘অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল’ বা সংক্ষেপে ‘সকার’ নামে পরিচিত খেলার বিস্তার।
১৯২৪ সালের ২৫ মে প্যারিস অলিম্পিক গেমসে প্রথমবারের মতো এক পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাতে উরুগুয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই ঘটনাকে স্মরণে রাখতেই জাতিপুঞ্জ ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ মে দিনটিকে ‘World Football Day’ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। উদ্দেশ্য, বিশ্বজুড়ে শান্তি, সংহতি, সামাজিক উন্নয়ন ও যুবসমাজের বিকাশে ফুটবলের প্রভাবকে স্মরণ ও উদ্যাপন করা।
‘সব খেলার রাজা’, এ অভিধা ফুটবলের জন্য একদম যথার্থ। কারণ এটি কেবল মাঠের খেলা নয়, সমাজ বদলে দেওয়ার একটি হাতিয়ার। ব্রাজিলের পেলে, আর্জেন্টিনার মারাদোনা, ইতালির মালদিনি, জিদান থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক মেসি, রোনালডো, এমবাপে, প্রত্যেকে ফুটবলকে নিয়ে গিয়েছেন এক অনন্ত আবেগের প্রতীকে।
এখানে ধনী-দরিদ্র, জাত-ধর্ম, ভাষা বা দেশের সীমা নেই। একটি বল, গোলপোস্ট আর পরিশ্রমের ঘামের মধ্যেই তৈরি হয় ইতিহাস। ফুটবল সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের এক মহাশক্তি। বহু দেশে এটি শিশুদের জন্য শিক্ষার দ্বার খুলে দিয়েছে, যুবসমাজকে রক্ষা করেছে অপরাধ ও মাদকের হাত থেকে এবং শৃঙ্খলা, দলগত কাজ ও সহনশীলতা শিখিয়েছে। বিশ্ব ফুটবল দিবসে এই শক্তিকে স্মরণ করাই আমাদের কর্তব্য।
ভারতে এবং বিশেষ করে বাংলায় ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি সংস্কৃতি। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান, এই তিনটি ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমাদের রক্তে গেঁথে রয়েছে। ১৯১১ সালে মোহনবাগান ব্রিটিশ দল ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জিতেছিল, যা স্বাধীনতাকামী জাতির হৃদয়ে আলোড়ন তুলেছিল।
বিশ্ব ফুটবল দিবসে আমরা শুধু অতীতকে স্মরণ করব না, আগামিদিনের জন্যও প্রতিজ্ঞা করব, ফুটবল যেন হয় শান্তির বার্তা, প্রেরণার উৎস আর বিশ্ব ঐক্যের প্রতীক।
সব খেলার রাজা ফুটবল, এ কথাটি শুধু ছন্দেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিটি গ্রাম, শহর, মাঠ ও হৃদয়ে এর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত। ২৫ মে আমাদের সে ভালোবাসা উদ্যাপনের দিন। একটুখানি ঘাম, একটুখানি হাসি আর অনেকখানি আবেগ, এ হল বিশ্ব ফুটবল দিবসের আসল মেজাজ।
