শক্তিকুমার চট্টোপাধ্যায়

প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো উদ্দেশ্য নয়। তবে পাশের ঘরে ঝগড়া, খুনোখুনি চললে প্রতিবেশীরাও ভালো থাকেন না। বাংলাদেশ কোনও দূর সম্পর্কীয় প্রতিবেশী দেশ নয়। বাংলা ভাগ ও ভারত ভাগের আগে বাংলাদেশ ছিল ভারতেরই অঙ্গ। বাংলাদেশের মাটি ছিল ভারতের। ভারতের বহু আত্মীয়ের বাস রয়েছে বাংলাদেশে। তাই বাংলাদেশ আগুনে পুড়লে সেই তাপ ভারতের বুকে লাগে।বাংলাদেশে কেন এমন অশান্তির সৃষ্টি, কারা প্ররোচনা দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইছেন, সেটা বাংলাদেশকে বুঝতে হবে। ভারতকে শত্রুভাবাপন্ন দেশ ভাবিয়ে দিয়ে কারা কল্কেতে টান দিচ্ছেন, সেটা তলিয়ে দেখতেই হবে।
ভারত সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বাংলাদেশও তাই। তবুও বাংলাদেশকে কেন সংখ্যালঘিষ্ঠের মনোনীত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে থাকতে হবে, সেটা বাংলাদেশকে ভাবতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে যাঁরা হত্যা করলেন, তাঁরা ভদ্রলোক, আর ভারত যত নষ্টের গোড়া, এই ভাবনা থেকে বাংলাদেশের ১৬.৭১ কোটি মানুষকে বেরিয়ে আসতেই হবে। অন্য দেশের উসকানিতে দেশে অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ লাগিয়ে রাখার অর্থ নিজেদের দুর্বল করা। বাংলাদেশের মনে রাখা উচিত, পাশের আগ্রাসী দেশের উসকানিতে ভারতের বিরুদ্ধে লেগে ভারতের শক্তি থেকে একটি বালিও খসাতে পারবে না। নিজেরাই বিপদে পড়বে। কোণঠাসা হয়ে যাবে।
বাংলাদেশের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া মানুষটি যে ক্ষমতালোভী, এটা বুঝতে বাংলাদেশের মানুষের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রয়োজন নেই, ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কূটনীতি, সাহস, প্রশাসনিক দক্ষতার ধারেকাছে নোবেল স্যার আসবেন কি না, সন্দেহ থাকছেই। ৮৪.৪ শতাংশ মুসলিমের সবাই হিন্দুবিদ্বেষী নন। তা যদি হতেন, তবে ১০ শতাংশ সংখ্যালঘু হিন্দু ওদেশে বসবাস করতেই পারতেন না। কয়েকজন মস্তান সরকারি মদতে সংখ্যালঘু হিন্দু থেকে সন্ন্যাসীদের ওপর দমন-পীড়ন করছেন, যা ভীষণ উদ্বেগের। তা পৃথিবীর সমস্ত জাতির কাছে লজ্জার। সামাজিক মাধ্যমে নৃশংসতার ছবি ছড়িয়ে ভারতে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ তৈরি করবেন, এমন স্বপ্ন দেখবেন না। সতর্ক হোন। ভারত বুঝে গিয়েছে, বাংলাদেশ কী চায়।
