মহাশোরগোল প্রতিবেদন: গত ১৫ থেকে ১৭ আগস্ট দিঘা বিদ্যাভবন স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তিন দিনের রাজ্য সফটবল কোচিং ওয়ার্কশপ। রাজ্যের ২০টি জেলা থেকে ১৮০ জন সফটবল খেলোয়াড় আধুনিক কোচিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সফটবল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনায় এবং পূর্ব মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট সফটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এই কোচিং ওয়ার্কশপে হাতেকলমে সফটবলের বিভিন্ন কলাকৌশল শেখানো হয়। একদিকে শিক্ষার্থীদের মাঠে সফটবলের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, অন্যদিকে প্রতিদিন পিপিটি-র মাধ্যমে বিভিন্ন কলেজের অধ্যাপক এবং সফটবলের টেকনিক্যাল ব্যক্তিরা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
১৫ আগস্ট সকালে দিঘা বিদ্যাভবনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান শেষে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে ওয়েস্ট বেঙ্গল সফটবল অ্যাসোসিয়েশনের তিন দিনের কোচিং ওয়ার্কশপের সূচনা করেন সংস্থার সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. জয়ন্তকুমার দেবনাথ, প্রদীমা ২ নং পঞ্চায়েত প্রধান সুশান্ত পাত্র, রাজ্য সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হেমলাল মণ্ডল, অর্গানাইজিং কমিটির সম্পাদক শশধর পাত্র, দিঘা বিদ্যাভবনের প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু করণ এবং শারীরশিক্ষা শিক্ষক বলরাম দাস। স্বাগত ভাষণ দেন মুর্শিদাবাদ জেলার সফটবল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় দাস। তারপর এই কোচিং ওয়ার্কশপের উদ্দেশ্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন ড. জয়ন্তকুমার দেবনাথ।
দিঘা বাঙালির প্রিয় সৈকত শহর। বর্তমানে একে অন্য মাত্রা দিয়েছে নবনির্মিত জগন্নাথদেবের মন্দির। বিভিন্ন জেলা এবং অন্য রাজ্য থেকেও প্রশিক্ষণ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের সমুদ্রস্নান এবং দিঘার এ মন্দির দর্শন করানো হয়। তাই সফটবল কোচিং প্রশিক্ষণের খুঁটিনাটি শেখার পাশাপাশি সৈকত শহর দেখা শিক্ষার্থীদের উপরি পাওনা।
কোচিং ওয়ার্কশপের শেষ দিনে লিখিত এবং প্র্যাকটিকাল পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মান যাচাই করে সবাইকে সফটবল কোচিং শংসাপত্র দেওয়া হয়। এ প্রশিক্ষণ নিয়ে সবাই নিজের নিজের জেলায় গিয়ে সফটবলের কোচিংয়ের মাধ্যমে নতুন নতুন ছেলেমেয়েকে প্রশিক্ষণ দেবেন, যাতে আগামী দিনে রাজ্য, জাতীয় এবং দেশের হয়ে সফটবলে তাঁরা প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। এমনকী অলিম্পিকসেও অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে সফটবল খেলায়।

SGFI-এর অধীনে সারাদেশে বিদ্যালয়ে এবং আন্তঃকলেজ এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্তরেও এ খেলা হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য স্কুল সংস্থা এখনও পর্যন্ত এ খেলাটিকে তাদের তালিকাভুক্ত করেনি। তাই পশ্চিমবঙ্গে এ খেলাটি সেভাবে পরিচিত হচ্ছে না। সফটবল একটি আকর্ষণীয় খেলা। এতে খেলোয়াড়দের সহনশীলতা, গতি, শক্তি ইত্যাদি বৃদ্ধি পাবে এবং এ খেলায় ধারাবাহিকতা থাকলে ক্রমে রাজ্য এবং জাতীয় দলে অংশগ্রহণ করতে পারবেন ছাত্রছাত্রীরা। আবার স্কুল স্তর থেকে পাওয়া যাবে আগামী দিনের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের। তাই আশা করা যায়, রাজ্য শিক্ষা দফতর এ খেলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে স্কুলে অনতিবলম্বে শুরু করবে।
তিন দিনের সফটবলের ওয়ার্কশপ থেকে যেসব কোচ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, বিদ্যালয়গুলি তাঁদের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে। তবেই একদিন পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হতে পারবে। পশ্চিমবঙ্গ বাদে বহু রাজ্য সরকারের সহযোগিতার ফলে খেলাটি যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছে। আমরাও আশাবাদী, আমাদের রাজ্য সরকার গুরুত্ব সহকারে খেলাটির উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সফটবল অ্যাসোসিয়েশনকে সহযোগিতা করবে।
