অশোক বসু

আর জি কর কাণ্ড সম্পর্কে জনগণ মোটামুটিভাবে ওয়াকিবহাল হলেও আসলে কিন্তু অনেক কিছুই রহস্যাবৃত হয়ে রয়েছে। যেমন, অভয়ার খুনি কি মাত্র একজন? আর তিনি কি সঞ্জয় রায়ই?
পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অন্তত এটা বুঝে গিয়েছে যে, এই খুনের পিছনে প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ লুকিয়ে রয়েছে। এজন্য অনেক কিছুই করা হয়েছে, যা আইনের চোখে দণ্ডনীয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এসব ঘৃণ্য কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে যাঁদের বিরুদ্ধে, তাঁরা সরাসরি আইনব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত। যেমন, টালা থানার প্রাক্তন ওসি এখন জেলে, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। থানার ওসি-রা আইনরক্ষক। তাই তাঁরা যখন নিজেরাই আইনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কাজ করেন, তখন সেটা প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ হিসাবেই গণ্য হয়।
এখন প্রশ্ন হল, ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত সঞ্জয় যখন ধরা পড়েছে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে, তখন বাড়তি করে তা লোপাটের আবার কী দরকার? মনে রাখতে হবে, সঞ্জয়কে রাজ্য পুলিশই গ্রেফতার করেছিল। সিবিআই আবার তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট ইতিমধ্যে দিয়েছে। এখন তাঁর বিচারপর্ব চলছে।
একটু গভীরভাবে ভাবলে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, আর জি করের আসল কাণ্ড নিয়ে আমাদের অনেক কিছুই অজানা রয়ে গিয়েছে। খুনি বা খুনিরা আসলে কে বা কারা, সে কথা এখনও সঠিকভাবে জানা গেল না। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, সরকার ও তার পুলিশ এবং সিবিআই পুরো বিষয়টা সঞ্জয়ের ঘাড়ের ওপর দিয়েই চালাতে চাইছে! কিন্তু কেন? নাম বেরিয়ে পড়লে কি রাঘববোয়ালরা ধরা পড়ে যাবেন? তাঁরা কারা? তাঁদের সঙ্গে সরকারের কী সম্পর্ক? এসব প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এখনও অজানা থেকে গেল।
জনগণ যাতে সবকিছু জানতে পারে, সরকারের উচিত সেইমতো ব্যবস্থা করা। কিন্তু এখানে উলটোটাই ঘটেছে। এর উত্তরে হয়তো বলা হতে পারে, আর জি কর কাণ্ড নিয়ে তো রাজ্য সরকার ও তার পুলিশ নয়, তদন্ত করেছে সিবিআই। কিন্তু সিবিআইয়ের কর্মদক্ষতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখন হতাশ। বিভিন্ন দুর্নীতিতে অভিযুক্তরা একে একে জামিন পেয়ে যাচ্ছেন। হয়তো আর জি কর কাণ্ডে যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা সবাই জামিন পেয়ে যাবেন! কিন্তু অভয়া ধর্ষণ-খুনে দোষীদের শাস্তি কি হবে? এর উত্তর একমাত্র দিতে পারে সিবিআই ও সরকার।

বিচার যত দেরী হবে, দুষ্কৃতীরা সক্রিয় হবে তত বেশি।