কাজল মুখার্জি

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নিষ্ঠুর সন্ত্রাসবাদী হত্যাকাণ্ড ফের আমাদের মনে করিয়ে দিল, সন্ত্রাসবাদ এখনও নিঃশেষ হয়নি, বরং ছায়ার মতো লেগে আছে আমাদের প্রিয় ভূখণ্ডে। যে জমি একসময় পর্যটনের স্বর্গ বলে পরিচিত ছিল, সেই পবিত্র ভূমিতেই আজ বারবার রক্ত ঝরছে সাধারণ মানুষের, নিরীহ প্রাণের।
এ ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড নয়, এটা বিস্তৃত, গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, যা কাশ্মীর উপত্যকার শান্তিকে বারবার বিঘ্নিত করছে এবং গোটা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। আজ আর ‘আলোচনা’র ভরসায় বসে থাকার সময় নেই। প্রয়োজন পরিকল্পিত, দায়িত্বপূর্ণ এবং দৃঢ় প্রতিরোধ। কূটনীতি, মানবিকতা, সংবেদনশীলতা, এই সবকিছুর জায়গা অবশ্যই আছে, কিন্তু তার আগে চাই নিশ্চিত নিরাপত্তা, অটুট রাষ্ট্রীয় মনোভাব এবং একটি সতর্ক, শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো।
ভারতের বিরুদ্ধে চালানো এই সন্ত্রাসবাদ কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত নয়, এটি আদতে মানবতার বিরুদ্ধেও এক ঘৃণ্য অপরাধ। এটি আমাদের নাগরিক সমাজের নিরাপত্তা, বিশ্বাস ও ভবিষ্যতের প্রতি সরাসরি আঘাত। এমন অপরাধের জবাব শুধু নিন্দা নয়, প্রতিরোধ দিয়েই দিতে হবে আইন, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সেনা-প্রশাসনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি দৃঢ় প্রতিরক্ষা বলয়ে।
আমরা জানি, অহিংসা আমাদের ঐতিহ্য, কিন্তু প্রতিরক্ষা হল অস্তিত্বের অপরিহার্য শর্ত। অহিংসা কেবল তখনই অর্থবহ, যখন অন্য পক্ষেও মানবিকতা থাকে। কিন্তু যারা নিরীহদের রক্ত ঝরাতে পিছপা হয় না, তাদের সঙ্গে অহিংস আলোচনার স্বপ্ন দেখা নেহাতই আত্মপ্রবঞ্চনা।
এই সন্ত্রাসবাদ কেবল বাহ্যিক আক্রমণ নয়, এটি আমাদের আত্মবিশ্বাসকে চূর্ণ করার চেষ্টা। তাই এখন সময় এসেছে ভয়কে ভাঙার, রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা জাগিয়ে তোলার এবং স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার, ভারত তার শত্রুদের চিনে ফেলেছে এবং তার জবাব দিতে জানে।
কাশ্মীর নিশ্চিতভাবে আমাদের। কাশ্মীরিদের রক্ষা করা, সমস্ত ভারতবাসীকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। আজকের প্রতিরোধ ভবিষ্যতের শান্তিকে সুনিশ্চিত করতে পারে এবং সে প্রতিরোধ হোক সংগঠিত, বুদ্ধিদীপ্ত এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ।
