কাজল মুখার্জি

গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় সংঘটিত হয়েছে এক জঘন্য সন্ত্রাসবাদী হামলা। পাঁচজন সশস্ত্র জঙ্গি নিরীহ তীর্থযাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল শুধু হিন্দু তীর্থযাত্রীরা। কেবল পুরুষদের হত্যা করা হয়। নারীদের জীবিত রাখা হয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু ঘটে ২৬ জন পর্যটকের। হামলার ভিডিয়ো এবং ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নেমে আসে তীব্র ক্ষোভের ঝড়।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকার দ্রুত প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দেয়। এর ফলস্বরূপ ৭ মে গভীর রাতে যৌথভাবে শুরু হয় পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট সামরিক প্রতিশোধ ‘অপারেশন সিন্দুর’ ।
ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনা যৌথভাবে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ন’টি জঙ্গিঘাঁটিতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ চালায়। অভিযানে মূল লক্ষ্য ছিল লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের ট্রেনিং ক্যাম্প ও অস্ত্রভাণ্ডার। এই অভিযানে ৮০ জনেরও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
অভিযানের পরপরই নিয়ন্ত্রণ রেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সিঁদুর শব্দটি শুধু সামরিক কৌশলের নাম নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীক। পহেলগামের হামলায় ২৬ জন হিন্দু নারী বিধবা হন। বিবাহিত হিন্দু নারীর সিঁথিতে সিঁদুর যেমন একটি আশ্বাসের প্রতীক, তেমনই অপারেশন সিঁদুর যেন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই ছিন্ন আশ্বাস পুনঃস্থাপনের এক দৃঢ় সংকল্প।
অপারেশন সিঁদুর একদিক থেকে ছিল সুপরিকল্পিত সামরিক অভিযান, অন্যদিক থেকে সামাজিক প্রতিশোধের ভাষ্য। ভারত দেখিয়েছে, সে তার নাগরিকদের রক্ষা করতে প্রস্তুত এবং প্রতিক্রিয়া দিতে সক্ষম। জয় হিন্দ। জয় ভারত। জয় জওয়ান।
