Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

ভারত-পাক সম্পর্ক ও বামপন্থী ছলচাতুরি

বামপন্থীরা এখন বলছেন, যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। অথচ তাঁরাই বলেন, ‍‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’। লড়াই আর যুদ্ধের মধ্যে ঠিক কতটা তফাত?

Share Links:

সুদীপনারায়ণ ঘোষ
প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর

কাশ্মীরে হিন্দু পর্যটকদের ধর্মপরিচয় জেনে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে তাঁদের খুন করার ঘটনা সারা পৃথিবীতে নিন্দার ঝড় তুলেছে। ভারত সরকার সার্বভৌম দায়িত্ব পালনে সেসব অপরাধী ও তাদের মদতদাতাদের শনাক্ত করে যথাযথ ভূমিকা পালন করেছে এবং পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ও তার শক্তিমদমত্ততার মিনারগুলিকে ধ্বংস করেছে। কিন্তু যাঁরা ১৯৪২ সাল থেকে পাকিস্তান না হলে স্বাধীনতাকেই মানবেন না বলেছিলেন এবং বীভৎস কলকাতা গণহত্যা, ১৯৪৬ ও নোয়াখালি দাঙ্গা, ১৯৪৬ এবং তার পর ঘটে যাওয়া বহু নারকীয় ঘটনার সামনে নির্মম নীরবতা পালন করেছিলেন, আজ তাঁরা পথে নেমেছেন ভারত কেন পাকিস্তানে নির্দিষ্ট নিশানায় আঘাত হেনেছে, তার প্রতিবাদে। শুধু প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁরা পাকিস্তানের জড়িত থাকাকেই সন্দেহ করছেন। এটা অসহ্য দেশদ্রোহিতা। ওদেশ থেকে আসা তাঁদের এক বিফরসিক ব্রাহ্মণ পদবিধারী প্রশ্ন করেছেন, ‍‘বলছে, জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়েছে। তার প্রমাণ কী? নিজেরাই তো বলছে, জঙ্গির বাড়ির লোকজন মারা গিয়েছে।’ অর্থাৎ অসামরিক মানুষ মারা গিয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, ‍জঙ্গিদের ঘরে তাঁদের লোকজন থাকলে কোল্যাটারেল ড্যামেজ হবে না? সবই জানেন, আপনারা তবুও কেন এ ছলচাতুরি করছেন? আপনারা নিজের মাতৃভূমিকে অপমান করছেন এবং যে ভূমি তার যা আছে, সবই দিচ্ছে, সেই ভূমির প্রতি কৃতঘ্ন হচ্ছেন!’

আর একজন সম্প্রতি অশ্লীলতা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নিজ দল থেকে নিলম্বিত হন। এমনই দলীয় অবস্থা যে, তাঁকেও প্রতিবাদী মিছিলে হাঁটানো হচ্ছে। তাতে আমাদের কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু সেই ব্যক্তি প্রশ্ন করছেন, ‍‘এখানে আদানি ব্যবসা করবেন আর ওখানে সাধারণ মানুষ জল পাবে না?’ আমাদের উত্তর, ‍‘দুটো সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়। দ্বিতীয়ত, আদানি একজন পুঁজিপতি। আর সব দেশে পুঁজিপতিরাই শিল্প-বাণিজ্য চালান। চিন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, সবাই। আপনার দলের মুখ্যমন্ত্রী আদানিকে দিয়ে কেরালার ভিজিনজামে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করিয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে। আর সেটা উদ্বোধন করেছেন যিনি, তাঁর নাম নরেন্দ্র মোদি। সঙ্গে ছিলেন আদানি ও সহাস্যবদন পিনারাই বিজয়ন। শেষ নামটা চেনা লাগছে?’

আর এক মহিলা, নাম জানি না, তাঁকে দিয়ে প্রশ্ন করানো হচ্ছে, ‍‘কোনও প্রমাণ পেয়েছেন যে, পাকিস্তান জড়িত?’ রাষ্ট্রপুঞ্জের নিন্দাসূচক সংকল্পপত্রে পাকিস্তান একটি অনুচ্ছেদ ঢুকিয়ে দিতে সফল হয় যে, ‍‘সন্ত্রাসবাদীরা ধর্ম জিজ্ঞাসা করে খুন করেনি।’  এটা পাকিস্তানকে করতে সাহায্য করেছেন দেশদ্রোহীরা। পাকিস্তান এক ডজন বিরোধী নেতার টুইট ও ভিডিয়ো দেখিয়েছে। তার মধ্যে আছে কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র পবন খেরা ও সুপ্রিয়া শ্রীনেত, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, কংগ্রেসের বড় নেতা কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং বাম-সহ অন্য নেতাদের বক্তব্য। তার পরে চিন তার ভেটো প্রয়োগ করে ‍‘মুসলিম সন্ত্রাসবাদীরা ধর্ম জিজ্ঞাসা করে খুন করেছিল’, এ অনুচ্ছেদ বাতিল করায়।  ভাবুন, কতটা হীন, প্রতারক ও দেশদ্রোহী বাম-সহ এই বিরোধীরা।

বামেরা যা যা করেছে:
১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা
১৯৩৯-’৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ আনুগত্য
১৯৪৬ সালে বলেছে, ‍‘পাকিস্তানের দাবি মানতে হবে, তবেই ভারত স্বাধীন হবে’
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‍‘তোজোর কুকুর’ বলে অপমান
১৯৬২ সালে ভারত-চিন যুদ্ধে ভারতের বিরোধিতা করে চিনকে সমর্থন
১৯৭১ সালে নকশাল আন্দোলনের মতো বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড
১৯৯৮ সালে ‍‘স্মাইলিং বুদ্ধ’ পরমাণু পরীক্ষার বিরোধিতা করা
পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যে ৬৪ হাজার কারখানা বন্ধ করা
দেশে তোষণবাদকে সমর্থন করা ও অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাংক বানানো এবং আরও বহু অপকর্ম

বামপন্থীরা এখন বলছেন, যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। অথচ তাঁরাই বলেন, ‍‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’। লড়াই আর যুদ্ধের মধ্যে ঠিক কতটা তফাত? ‍‘জনগণের দাবি না মিটিয়ে পাকিস্তানের মানুষকে কেন মারা হবে?’ এটা তাঁদের প্রশ্ন। আমাদের প্রশ্ন, আপনাদের এত পাকিস্তান প্রেম কেন? রবীন্দ্রনাথ একবার ব্যক্তিগত চিঠিতে লিখেছিলেন, ‍‘বাইরের ল্যাজটা তো কেটে দিলুম, ভিতরের ল্যাজটা কাটব কী করে?’ আমাদেরও সেটাই প্রশ্ন। চিনে বৃষ্টি হলে কমিউনিস্টরা ছাতা ধরেন, আর এখন তাঁরা পাকিস্তানে কিছু হলে টিস্যু পেপার খোঁজেন। তাঁদের জন্য অপারেশন ইঁদুর চাই। পহেলগাম বা মুর্শিদাবাদ কাণ্ডের সময় তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের ঘটনায় তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না।

2 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

এই বিভাগে

সফলতা কাকে বলে

বিশ্ব ক্রিকেটের উত্তরণে কেরি প্যাকারের ভূমিকা

যুগে যুগে তখন এখন (পর্ব ৮)

পথেঘাটে নাকে আঙুল সমাজের নগ্ন সত্য

ভারতীয় চলচ্চিত্রে চিরভাস্বর বাঙালি প্রতিভার আলো

আমরা দেশি কুকুরকে অবহেলা করেছি

যুগে যুগে তখন এখন (পর্ব ৭)

বাংলা সাহিত্যে নদী

ভারতীয় ক্রিকেট দল পারলে অন্যান্য খেলায় দেশ পিছিয়ে কেন 

क्या स्कूल के पाठ्यक्रम में थिएटर को शामिल किया जाना चाहिए