কাজল মুখার্জি

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের এক অবিস্মরণীয় বিজয়ের দিন। ১৯৭১ সালে এই দিনেই দীর্ঘ ন’মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) আত্মসমর্পণ করে। এই বিজয়ের পিছনে বাংলাদেশের জনগণের ত্যাগ ও সংগ্রামের পাশাপাশি ভারতের বিশেষ ভূমিকা ছিল।
ভারতের সার্বিক অবদান: ১. রাজনৈতিক সমর্থন: মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়। ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত বিভিন্ন দেশকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে, বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রাম করছে।
২. সামরিক সহায়তা: ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের পশ্চিমাঞ্চল আক্রমণ করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে। ভারতের তিন বাহিনী (নৌ, স্থল ও বিমান) সমন্বিত আক্রমণের মাধ্যমে মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়।
৩. শরণার্থী সাহায্য: মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ১ কোটি শরণার্থী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অসম ও মেঘালয়ে আশ্রয় নেয়। ভারত এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে, যা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
৪. মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ: মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং অস্ত্র সরবরাহ করার ক্ষেত্রে ভারতের সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গেরিলা যুদ্ধের কৌশল থেকে শুরু করে সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
৫. আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জন: মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিভিন্ন দেশ সফর করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন। তাতে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চাপ তৈরি হয়।
ভারতের অবদানের মূল্যায়ন: বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের ভূমিকা কেবল সামরিক নয়, তা ছিল মানবিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও। ভারত শুধু প্রতিবেশী হিসাবে নয়, বরং ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়িয়ে এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস শুধু বাংলাদেশের নয়, ভারতেরও। এটি দু’দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক উদ্যাপনের দিন।
