অধ্যাপক ড. জয়ন্তকুমার দেবনাথ

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার সমাজের ১১৩ জন বিশিষ্ট মানুষকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করার কথা ঘোষণা করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ৯ জন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাঁরাও সম্মানিত হবেন। আধ্যাত্মিকতা বিভাগে এই সম্মান পাচ্ছেন বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ। তিনি কার্তিক মহারাজ নামেই খ্যাত।
বেলডাঙায় একটি ভারত সেবাশ্রম সংঘের শাখা রয়েছে। তাদের পরিচালিত একটি স্কুলও আছে, যেখানে বেলডাঙার বহু ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। আদিবাসী ছাত্রছাত্রী, সমাজের পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েরাও সেখানে পড়াশোনা করে। ভারত সেবাশ্রম সংঘের শাখা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে। তারা বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করে। মানুষের সেবা করে। মুর্শিদাবাদ জেলার হিন্দুরা ভরসা করেন বেলডাঙার কার্তিক মহারাজকে।
অতীতে এই সরকার কাজি মাসুম আখতারকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেছে। তিনি সাহিত্যে অবদানের জন্য এই সম্মান পান। করিমুল হককে সমাজসেবার জন্য পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। তিনি তাঁর মোটোরবাইকে করে চা-বাগানের অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতেন। তাঁকে ২০১৭ সালে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। রতন কাহারকে লোকসংগীতে সৃষ্টিশীলতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘বড়লোকের বেটি লো’ বাংলায় সুপরিচিত একটি গান। তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল গত বছর (২০২৪)।
আধ্যাতিকতায় পদ্মশ্রী নতুন নয়। এর আগেও ভারত সরকার আধ্যাত্মকিতায় পদ্মশ্রী পুরস্কার দিয়েছে। কিন্তু কার্তিক মহারাজ এমন একটি সংগঠনের সন্ন্যাসী, যারা সারা বছর ধরে মানুষের সেবা করে চলেছে। মুর্শিদাবাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অনেক সমস্যার মধ্যে থাকেন। সেখানে কার্তিক মহারাজের মতো নির্ভীক একজন সন্ন্যাসী আছেন বলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অনেকটা নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারেন।
একথা অনস্বীকার্য, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার গত দশ বছরে বহু কৃতি মানুষকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেছে। যেমন, বর্ধমানের সুজিত চট্টোপাধ্যায় শিক্ষাব্রতী হিসাবে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। তিনি দু’টাকার বিনিময়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়াতেন। তাঁর হাত ধরে হাজার হাজার দুস্থ, পিছিয়ে পড়া, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রী জীবন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছে। আবার একটাকার ডাক্তার নামে পরিচিত সুশোভন ব্যানার্জি ২০২০ সালে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। তিনি একসময় বোলপুর কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক ছিলেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেসও করেছেন। কিন্তু সেই দলও তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। এছাড়া শেষ বয়সে বিশিষ্ট লেখক নারায়ণ দেবনাথকেও কেন্দ্রীয় সরকার পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করেছিল। পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। তিনবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এসব ব্যক্তি নিজ নিজ ক্ষেত্রে এক একজন নক্ষত্র স্থানীয়। তাঁদের নিয়ে সমালোচনা করার জায়গা নেই। গত দশ বছরে এমন অনেক মানুষকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয় হয়েছে, যাঁরা প্রচারের আলোয় ছিলেন না। পুরস্কৃত হওয়ার পর সমাজে তাঁদের অসামান্য কাজের কথা সাধারণ মানুষ জানতে পেরেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার হোক বা কেন্দ্রীয় সরকার কিংবা নোবেল পুরস্কার কমিটি, কেউই কোনওদিন ১০০ শতাংশ মানুষকে খুশি করতে পারেনি।
