Mahashorgol.com প্রতিবেদন: ভারতীয় জাতীয় নাট্য দিবস মানে শুধু স্মরণ নয়। গোবরডাঙায় তা পরিণত হল এক জীবন্ত সাংস্কৃতিক আন্দোলনে। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা শহরে খাঁটুরা শিল্পাঙ্গনের নিজস্ব মঞ্চে ইপিটিএ-র সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নাটক, গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে উঠে এল সময়ের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভারতীয় নাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। তারপর পরিবেশিত হয় ভারতভূমি জয়ী একাঙ্ক নাটক, গণনাট্যের গান, পুতুল নাটক ও ভরতনাট্যম নৃত্য। প্রতিটি পরিবেশনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে— নাটক এখনও মানুষের কথা বলে, সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ শাশ্বতী নাথ বলেন, ‘আজ যখন মানুষকে নীরব থাকার অভ্যাস শেখানো হচ্ছে, তখন নাটকই শেখায় কথা বলতে। মঞ্চে উচ্চারিত প্রতিটি সংলাপ আসলে সমাজের জমে থাকা যন্ত্রণার ভাষা।’ তিনি আরও বলেন, ‘নাট্য আন্দোলন আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে। এই শিকড় যত শক্ত হবে, সমাজ তত সহজে ভেঙে পড়বে না।’
ভারতভূমি বিষয়ক আলোচনায় নাটকের সামাজিক ভূমিকা, সাংস্কৃতিক দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। দর্শক সারিতে উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মী ও নাট্যপ্রেমীরা অনুষ্ঠানটিকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
গোবরডাঙার এই নাট্যদিবস উদযাপন ফের প্রমাণ করল, নাটক আজও কেবল মঞ্চের শিল্প নয়, বরং সমাজ বদলের এক নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন।

