সুদীপনারায়ণ ঘোষ

ভারত এমন একটা কাণ্ড ঘটিয়েছে, যা ইজরায়েল ছাড়া আজ পর্যন্ত পৃথিবীর অন্য কোনও দেশ করতে পারেনি। কেন পাকিস্তান ভারতের সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসেছিল, তার নেপথ্য কাহিনি ক্রমশ প্রকাশিত হচ্ছে। কেন আমেরিকা-সহ সব দেশ তড়িঘড়ি ভারতকে অনুনয় বিনয় করেছিল? মেজর জেনারেল রাজীব নারায়ণন বলেছেন, কীভাবে ভারত পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রাগার গুঁড়িয়ে দিয়েছে। যদি সে টানেলে কিছু অবশিষ্ট পড়েও থাকে, তা হলেও কেউ সেখানে পরবর্তী এক হাজার বছর ঢুকতে পারবে না। ভারতের সর্বোত্তম নৌবহর ব্যবস্থা এখন সেই জিপিএসের জনক, যার কম্পাঙ্ক পৃথিবীর অন্য কোনও দেশের কাছে নেই।
পাকিস্তানের সারগোদার কাছে কিরানা পাহাড় আছে। সেখানে নিউক্লিয়ার অস্ত্রের মূল অংশের একটি ভাণ্ডার রাখা আছে। সেখানে রিখটার স্কেলে ৪.০ কম্পাঙ্কের ভূমিকম্প হয়েছে। এটা কোনও প্রাকৃতিক ভূমিকম্প নয়। নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ হলে তার কম্পন পৃথিবীর মাটির নীচের দিকে ধাবিত হয় এবং এক ধরনের ভূকম্পন অনুভূত হয়। সেখানে কিন্তু সে অর্থে কোনও পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটেনি। এই বিস্ফোরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে ইউরেনিয়াম (মোটামুটি ১০-১২ কিলোগ্রাম) রাখতে হয়। বিস্ফোরণ যাতে না ঘটে, তাই এদের দুটো ভাগে পৃথক করে রাখা হয়।
এই বিস্ফোরক তেজস্ক্রিয় পদার্থ একটি বাক্সের মধ্যে দুটো আলাদা ভাগে রাখা হয়। এর চারপাশে বিশেষ অতেজস্ক্রিয় বিস্ফোরক দিয়ে পৃথক করে রাখা থাকে। এই বিস্ফোরকে বাইরে থেকে আঘাত দিলে সেটা ফাটে এবং এদের পৃথক করে রাখা দেওয়াল ভেঙে যায় ও তেজস্ক্রিয় পদার্থের (এখানে ইউরেনিয়াম) দুটো ভাগ জুড়ে গিয়ে ক্রিটিক্যাল মাস বা ভর পেয়ে যায় ও বিস্ফোরণ (ফিউশন) ঘটে। যদি ঠিকঠাক ভর না থাকে, তবে স্থানীয়ভাবে বিকিরণ ঘটে। এটাকে বলে রেডিওলজিক্যাল কুকঅফ। মোদ্দা কথা, পূর্ণ মাত্রায় বিস্ফোরণ না ঘটলেও বড় মাত্রায় বিকিরণ হতে থাকে। এরকম বিকিরণ ক’টি হয়েছে, তা রাজীব নারায়ণ বলতে পারেননি। তবে তিনি আন্দাজ করেছেন যে, কিরানা পাহাড়ে অন্তত ৬-৭টি টানেল আছে। তার মধ্যে কমপক্ষে পাঁচটি টানেলে ভারত ভারী মাত্রায় আঘাত হেনেছে এবং এরকম রেডিওলজিক্যাল কুকঅফ ঘটানো গিয়েছে এক-দু’টি টানেলে। কারণ ভূমিকম্পের (কৃত্রিম) মাত্রা রিখটার স্কেলে ৪.০ হতে গেলে অন্তত একটি কুকঅফ দরকার। এদের সব ক’টির প্রবেশপথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আর যা বেঁচে আছে, তাতে এমন বিকিরণ হতে থাকবে যে, কমপক্ষে হাজার বছর তার ভিতরে কেউ যেতে পারবে না।
এছাড়া জ্যাকোবাবাদের কাছে চাগাই পাহাড় আছে। সেখান থেকে এফ-১৬ বিমানে নিউক্লিয়ার অস্ত্র ছোড়া যেত। চাগাই পাহাড়ের কাছে আরও একটি নিউক্লিয়ার স্থাপনা আছে। সেখানে আর এক পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার আছে। ভারত সেখানেও আঘাত হেনেছে এবং এবার সেই ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫.৭। এটা ঘটেছিল ৯ মে রাত ১১টা থেকে ভোর চারটের মধ্যে। সে সময় ১১টি সামরিক বিমানক্ষেত্র ধ্বংস করা হয়। একেই বলে আকাশপথে আধিপত্য বিস্তার। এ কাজে ইজরায়েল ও রাশিয়ার প্রশিক্ষণ আছে। কিন্তু এখানে চিনের অস্ত্র ও বিমান অকেজো হয়ে গিয়েছে। আমেরিকার অস্ত্র ভোঁতা হয়ে গিয়েছে। আমেরিকার পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন ছিল। সেটাও ব্যর্থ হয়েছে। ভারতের এই বিপুল সাফল্য বুঝতে সময় লাগবে। পাকিস্তান ভাবত যে, তারা আমেরিকার সর্বোন্নত প্রতিরক্ষার ছাতার তলায় আছে। কিন্তু কিছু কাজে লাগেনি। আমেরিকার ট্রাম্পের মাথাব্যথার কারণ সেটাই। ওরা গোলাগুলি ছুড়েছে। সব মিলিয়ে ভারতের নিহতের সংখ্যা সেনা ও অসামরিক ব্যক্তি মিলিয়ে ১৫ থেকে ২৫। আর ওদের যে কত মারা গিয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে দেখা গিয়েছে যে, একটি বিমানক্ষেত্রে ৫২ জন মারা গিয়েছে। আর আগের দিন মারা গিয়েছে ১০০ জন। ওদের কোনও ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার অস্ত্রনীতি নেই। কিন্তু ভারতের আছে। চাগাই আর কিরানা পাহাড়ে কতগুলি কুকঅফ হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। ভারতের যে পারমাণবিক অস্ত্র আছে, তাতে পাকিস্তানকে মুছে ফেলা যাবে বলে এই মেজর জেনারেল মন্তব্য করেছেন।
পাকিস্তান ভয় পেয়ে যায়। ওরা নিশ্চিত ছিল, চিন ও আমেরিকা থেকে আমদানি করা এত উন্নত অস্ত্র আছে যে, কেউ কিছু করতে পারবে না। কিন্তু সময়ে কোনও কাজে লাগেনি। তাই পরদিন সকাল থেকে পাকিস্তান থেকে আসা ফোন বাজতে শুরু করে, ‘ভাইয়া বাঁচা লো’। ফুয়েল নেই, অস্ত্র নেই। ভারত যদি সে সময় পাকিস্তানে ঢুকত, সে দেশ খতম হয়ে যেত। এ দেশের অনেকে বলছেন, ভারতের সেটাই করা উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে, যুদ্ধ হল শেষ অবলম্বন। পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতা চলে গিয়েছে। আর কী বেঁচে আছে!
