Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

মহাকুম্ভ ও মৌনী অমাবস্যার মাহাত্ম্য

Share Links:

কাজল মুখার্জি

মৌনী অমাবস্যা হল হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি, যা মাসের অমাবস্যা তিথিতে উদযাপিত হয়। মৌনী শব্দের অর্থ নীরবতা বা মৌন থাকা এবং অমাবস্যা মানে চাঁদের অনুপস্থিতি। এই দিনে উপাসনার একটি বিশেষ রূপ হল মৌনব্রত পালন করা, যেখানে ভক্তরা সারাদিন কথা না বলে ধ্যান ও প্রার্থনায় নিযুক্ত থাকেন। বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনে গঙ্গায় স্নান করলে পাপমোচন হয় এবং আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।

শাস্ত্র অনুযায়ী, এই দিনে মহর্ষি মনুর জন্ম হয়েছিল, তাই এই দিনটি মনু অমাবস্যা নামেও পরিচিত। স্কন্দপুরাণ ও অন্যান্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, এই দিনে গঙ্গাস্নান হাজার গুণ বেশি পুণ্য প্রদান করে।

এ বছর মহাকুম্ভ প্রয়াগরাজে হচ্ছে। মহাকুম্ভ হল ১২ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হওয়া হিন্দু ধর্মের বৃহত্তম সমাবেশ, যেখানে কোটি কোটি ভক্ত, সাধুসন্ত ও তপস্বী সমবেত হন। এবারের মহাকুম্ভ আরও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ১৪৪ বছর পর এই যোগ পড়েছে।

মৌনী অমাবস্যা হল মহাকুম্ভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্নান তিথিগুলির মধ্যে একটি। কারণ এই দিনে স্নান করাকে রাজযোগ স্নান বলা হয়, যা আত্মশুদ্ধি ও মোক্ষলাভের জন্য অত্যন্ত শুভ। বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর সংযোগস্থলে (ত্রিবেণী সঙ্গমে) স্নান করলে সমস্ত পাপ দূর হয় এবং জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন কাটিয়ে মুক্তিলাভ করা সম্ভব।

এই দিন ভোরবেলা তীর্থস্থানগুলিতে গঙ্গাস্নান করা হয়। ভক্তরা সারাদিন নীরব থেকে ধ্যান ও জপ করেন। এই দিনে দান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়, বিশেষ করে দরিদ্রদের খাদ্য, বস্ত্র দেওয়া এবং গরুকে খাওয়ানো। সাধুসন্ত ও আশ্রমগুলিতে যজ্ঞ-হোম ও বিভিন্ন পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

মৌনী অমাবস্যা শুধু একটি ধর্মীয় তিথি নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, ধ্যান ও সেবার এক মহৎ উপলক্ষ। বিশেষত এ বছরের মহাকুম্ভে এই দিনের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ এটি আধ্যাত্মিক উন্নতির এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে। কোটি কোটি ভক্তের মিলন, গঙ্গাস্নান ও পবিত্র ব্রতপালনে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা কুম্ভমেলার মূল বার্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

এই বিভাগে

সফলতা কাকে বলে

বিশ্ব ক্রিকেটের উত্তরণে কেরি প্যাকারের ভূমিকা

যুগে যুগে তখন এখন (পর্ব ৮)

পথেঘাটে নাকে আঙুল সমাজের নগ্ন সত্য

ভারতীয় চলচ্চিত্রে চিরভাস্বর বাঙালি প্রতিভার আলো

আমরা দেশি কুকুরকে অবহেলা করেছি

যুগে যুগে তখন এখন (পর্ব ৭)

বাংলা সাহিত্যে নদী

ভারতীয় ক্রিকেট দল পারলে অন্যান্য খেলায় দেশ পিছিয়ে কেন 

क्या स्कूल के पाठ्यक्रम में थिएटर को शामिल किया जाना चाहिए