অধ্যাপক ড. জয়ন্তকুমার দেবনাথ

একবছর পূর্ণ হল অযোধ্যায় রামমন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠার। গত বছর ২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাম জন্মভূমিতে রামলালার মন্দির প্রতিষ্ঠা করে বলেন, ‘আজকের দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, একটি মাইলফলকও বটে। আজ থেকে কালচক্র শুরু হল। এটাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সঠিক সময়, সামনের দিকে তাকানোর সময়। ৩১ বছরের দীর্ঘ আইনি এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর আজ তা সফলতা পেল।’
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নানারকম আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে অযোধ্যায় রামমন্দিরের ধ্বজা এখন পতপত করে উড়ছে। গত একবছরে কোনও অশান্তি হয়নি। ৩১ বছরের আইনি জটিলতার একটি সুষ্ঠু সমাধান দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা যে রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে বাবরি মসজিদের নীচে রাম-সীতার মূর্তি পাওয়া যায়। তা নিয়ে জনসংঘ এবং ওয়াকফ বোর্ডের মধ্যে দীর্ঘদিন টানাপোড়েন চলেছিল। সে সময় ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের হাজার হাজার করসেবক বাবরি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভারতীয় রাজনীতি। সেই বাবরি মসজিদ ভাঙা নিয়ে যে আইনি প্রক্রিয়া চলেছিল, তারই সবদিক বিবেচনা করে সুষ্ঠু সমাধান করেছিল সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির তৈরির নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি বাবরি মসজিদ বানানোর জায়গাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধান হয়েছে।
১৫২৮-’২৯ সালে তৈরি বাবরি মসজিদ ১৯৯২ সালে করসেবকরা ভেঙে দেন। সে সময় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে। সেই স্থান নিয়ে দীর্ঘদিন টানাপোড়েন চলার পর ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে ডিভিশন বেঞ্চ বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির তৈরির নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি বাবরি মসজিদের জন্য অযোধ্যার ধানিপুরের নিকটবর্তী কোনও স্থানে জায়গা চিহ্নিত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেয়। রামমন্দিরের জন্য বিতর্কিত স্থানে ২.৭৭ একর জমি এবং ৫ একর জমি মুসলিম সম্প্রদায়ের পছন্দমতো জায়গায় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ২০২০ সালের ৫ আগস্ট রাম জন্মভূমিতে মন্দিরের ভিতপুজো করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপর ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি ভারতের লক্ষ লক্ষ সনাতনী হিন্দুর ইচ্ছাপূরণের মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয় বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে। মোদি ছিলেন রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার যজমান।
গত একবছরে লক্ষ লক্ষ মানুষ রামমন্দির দেখতে গিয়েছেন, পুজো দিয়েছেন। এখন অযোধ্যার রামমন্দির হয়ে উঠেছে ভারতের বড় একটি তীর্থস্থানে। প্রতিদিন গড়ে ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ রামমন্দির দর্শনে যাচ্ছেন। এই মন্দির আর শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, এটা পরিণত হয়েছে এক পর্যটনস্থলে। রামমন্দির ঘিরে হাজার হাজার মানুষ রুজিরোজগারের পথ খুঁজে পেয়েছেন। এটা কম বড় বিষয় নয়।
