সুদীপনারায়ণ ঘোষ

নিঃশব্দে চলে গেলেন বাংলাপ্রেমী ব্রিটিশ লেখক রাদিচে। ইংরেজ হয়েও তিনি বাংলা ভাষার যে উপকার করেছেন, বহু বাঙালিও তা করেননি। অধ্যাপক রাদিচে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত ১০ নভেম্বর লন্ডনে মারা গেলেন। সাহিত্যসেবার জন্য তিনি লোভনীয় চাকরি ছেড়ে বাড়িতে থাকতেন এবং রান্না ও সন্তানদের দেখাশোনা করতেন। তাঁর স্ত্রী চাকরি করতেন। তিনি এতটাই বাংলাকে ভালোবাসতেন যে, কলকাতায় দীর্ঘ সময় থেকেছেন, বাজারে গিয়ে জিনিস কিনতেন বাংলায় কথা বলে।
রাদিচে অনেক বাংলা সাহিত্য ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। তার মধ্যে আছে রবীন্দ্রনাথ ও মধুসূদনের লেখা। রবীন্দ্রনাথের দেবতার গ্রাস কবিতার গল্প নিয়ে তৈরি করেন অপেরা। বাংলার লোকগাথা অনুবাদ করেছিলেন স্টুপিড টাইগার ও অন্যান্য গল্প নামে। ১৯৮৫-তে তিনি রবীন্দ্রনাথের অনেকগুলি ভালো কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ টেগোর: সিলেক্টেড পোয়েমস নামে। এছাড়া তিনি অনুবাদ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প রবীন্দ্রনাথ টেগোর: সিলেক্টেড শর্ট স্টোরিজ, ফায়ার অব বেঙ্গল, ফোর লেকচার্স (চার বক্তৃতার ইংরেজি), টিচ ইয়োরসেল্ফ বেঙ্গলি, হানি সেলার অ্যান্ড আদার স্টোরিজ, বিফোর অ্যান্ড আফটার, দ্য পোস্ট অফিস (ডাকঘরের ইংরেজি), দ্য ওয়ান অ্যান্ড দ্য মেনি রিডিংস ফ্রম টেগোর এবং রবীন্দ্রনাথ টেগোর দ্য জুয়েল দ্যাট ইজ বেস্ট।
এসব লেখা ও অনুবাদ বিশ্বের পাঠকের কাছে রবীন্দ্রনাথকে নতুন করে তুলে ধরেছে। তার পরেই রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গল্প-উপন্যাস অনুবাদের ঢল নেমেছিল, যার ফলে মাঝে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যখ্যাতিতে যে ভাঁটা পড়ার শঙ্কা দেখা গিয়েছিল, তা কেটে যায়। স্বামী বিবেকানন্দ ও হিন্দু ধর্মের আধুনিকীকরণ নিয়েও রাদিচে লিখেছেন। লিখেছেন মিথস অ্যান্ড লিজেন্ডস অব ইন্ডিয়া।
