বরুণ মণ্ডল

পরকীয়া সম্পর্ক কিন্তু নতুন কোনও বিষয় নয়। বর্তমান বিশ্বের পাশাপাশি আমাদের দেশেও এখন এর প্রবণতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরকীয়ার গোপন বাসনা হৃদয়ে পোষণ করে না, এমন মানুষ হয়তো পাওয়া মুশকিল। কিন্তু কেন এই পরকীয়া সম্পর্ক? কেন এটি গড়ে উঠছে? এটাকে রোধ করার উপায়ই বা কী? আসুন, আজ একটি সার্থক আলোচনা করি।
কেন পরকীয়া প্রেম দিন দিন বাড়ছে?
পরকীয়া প্রেম হচ্ছে, বিবাহিত জীবন থাকা স্বত্ত্বেও অন্য কোনও নারী বা পুরুষের সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত প্রেম, যৌন সম্পর্ক ও যৌন কর্মকাণ্ড। বেশির ভাগ পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে নারী বা পুরুষের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা মেটানোর জন্য। এই পরকীয়ার ছোবলে একটি সুন্দর সংসার তছনছ হয়ে যাচ্ছে নিমেষেই। কোনও সন্তান হারায় তার প্রিয় মা/বাবাকে, কোনও স্বামী হারান তাঁর স্ত্রীকে এবং কোনও মা হারান তাঁর সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা একটি পরিবার।
পরকীয়ার অতি সাধারণ, কিন্তু গভীর কারণগুলি হল,
ক) বেশিরভাগ মানুষই লাভ ম্যারেজের সম্পর্ক বেশিদিন আঁকড়ে ধরে রাখতে পারেন না। অতি সামান্য বিষয়ে দাম্পত্য কলহ দেখা দিলেই স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি মনোযোগ বা আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেন। দাম্পত্য সম্পর্ক সুন্দর না হলে একই ছাদের তলায় থাকলেও একসময় মন হাঁপিয়ে ওঠে, যার ফলে তৈরি হয় পরকীয়া সম্পর্ক।
খ) পরকীয়ার কারণ দৈহিক চাহিদাও। বিবাহিত জীবনে শারীরিক চাহিদা প্রধান। শারীরিক সম্পর্ক মানুষের একটি স্বাভাবিক চাহিদা। কিন্তু সব সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী সবার শারীরিক সক্ষমতা এক থাকে না। ফলে সেখানে স্বামী-স্ত্রীর যৌন সম্পর্কে অতৃপ্তি থাকে। আবার যদি স্বামী ও স্ত্রী সমবয়সি হন অথবা স্বামীর চেয়ে স্ত্রী যদি বয়সে বড় হন, তখনও সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে স্বামী বা স্ত্রী বাইরের অন্য কারও সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন।
গ) কম বয়সে বিয়ে বা সাধারণত লাভ ম্যারেজের ক্ষেত্রে পরকীয়ার অনুপ্রবেশ হয়ে থাকে। দেখা যায়, পরিবারের মতামতকে উপেক্ষা করে শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে অনেক ছেলেমেয়ে কম বয়সেই বিয়ে করে ফেলেন। সে সময় ছেলে বা মেয়ের মধ্যে যুক্তির চেয়ে আবেগই বড় হয়ে দেখা দেয়। তার ফলে বিয়ের কিছুদিন পরই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্নরকমের মতবিরোধ তৈরি হয় এবং তাঁরা মানসিক শান্তির খোঁজে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন।
অন্য পোস্ট: প্রেমিক বিভুতিভূষণ তাঁর প্রকৃতিপ্রেমের মতোই আন্তরিক
ঘ) বিয়ের পর প্রত্যেকেই সঙ্গীর কাছ থেকে অনেককিছু আশা করেন। অনেকেই এমন অনেক আশা নিয়ে বিয়ে করেন, যা দাম্পত্য জীবনে পূরণ হয় না। অনেক পুরুষ নিজের জীবনে একজন নারী থাকা সত্ত্বেও অন্য নারীর মধ্যে নতুন স্বাদের সন্ধান করেন। তাছাড়া অনেক সময় সঙ্গীর উদাসীনতার কারণে পরকীয়ায় আগ্রহ বাড়ে।
ঙ) অনেকই আছেন, যাঁরা একঘেয়ে জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন না। প্রতিদিন একই চেহারা, একই আচরণ দেখে তাঁরা একসময় বিরক্তিবোধ করেন। অনেকেই নিজের সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেন।
চ) অনেক স্বামীই চাকরি সূত্রে স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে থাকেন। তখন শুধু যৌন সম্পর্ক নয়, বরং তাঁদের মধ্যে শুধু যোগাযোগও ঠিকমতো হয়ে ওঠে না। আবার সন্তান হওয়ার পর অনেক মেয়ে সৌন্দর্যহীন হয়ে যান। তাতে স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে অনেক স্বামীর। সংসার নামক বন্দি জীবনে একটুখানি বৈচিত্রের ছোঁয়া পেতে তখনই তাঁরা পরকীয়ার পথে পা বাড়ান।
ছ) প্রিয় মানুষ প্রচণ্ড কষ্ট দিলে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েন। এই খারাপ অবস্থায় তাঁরা একটি মানসিক আশ্রয়ের খোঁজ করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই আশ্রয়ের সন্ধান মেলে তৃতীয় পক্ষের কাছে, যে কারণে সঙ্গীর অগোচরেই পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে যান আর একজন। কখনও দেখা যায়, স্বামী বা স্ত্রী রেগে গিয়ে জেদের বশে অথবা শুধু সঙ্গীকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
জ) আধুনিক মনোবিদরা বলছেন, যাঁদের মধ্যে বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার আছে, তাঁদের পরকীয়া সম্পর্কে জড়ানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কারণ তাঁরা কোনও কিছুর মধ্যে স্থিরতা খুঁজে পান না।
ঝ) পরকীয়ার কারণ হিসাবে অনেক ক্ষেত্রেই দাম্পত্য কলহ অন্যতম দায়ী। পরকীয়া সম্পর্কের কারণগুলির মধ্যে সংসারের ঝগড়া-বিবাদ অন্যতম। সংসার জীবন সব সময় মধুর হয় না। দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি হয়েই থাকে, কিন্তু সেজন্য ভালোবাসা কমিয়ে দেওয়া বা কেয়ার না করা মোটেও ভালো কাজ নয়। সামান্য ঝগড়া থেকে শুরু করে মাঝেমধ্যে যখন গায়ে হাত তোলার ঘটনা ঘটে, তখনই সম্পর্কের অবনতি হয়। মানসিক শান্তির জন্য অনেক সময় স্বামী বা স্ত্রী চেষ্টা করেন অন্য পুরুষ বা নারীকে নিজের প্রতি আকর্ষণ করানোর।
ঞ)নিজের পরিবারের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে পরিবারের একজন বা দু’জনই ছোটাছুটি করেন। দিনের শেষে দেখা যায়, অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে গিয়ে নিজেদের সময় দিতে পারেন না তাঁরা। পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অনেক অশান্তি তৈরি হয়। বলা হয়, ‘আউট অব সাইট, আউট অব মাইন্ড’। মানতেই হবে যে, দূরত্ব একটি মজবুত সম্পর্ককে দুর্বল করে দিতে পারে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় তৃতীয় পক্ষ এসে থাকে। আর অবস্থা বেশি খারাপের দিকে যেতে থাকলে পরকীয়া থেকে মাঝেমধ্যে তা বিচ্ছেদ পর্যন্তও গড়িয়ে যায়।
ট) অনেকের অভ্যাস থাকে বিয়ের আগে একাধিকজনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার। একাধিক সম্পর্ককে বয়ে নিয়ে চলার টেকনিকে অনেকেই মাস্টার পিস। অনেকের মধ্যে এই বদ অভ্যাস বিয়ের পরও থেকে যায়। তখন তাঁরা অভ্যাসবশত বা অনেকে শখ থেকেও পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান।
অন্য পোস্ট: রোবট: কল্পবিজ্ঞান ও বাস্তব
ঠ) “নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস,/ ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।” মানুষ নিজের অবস্থানে খুশি নয়। মানুষের মনের এই অবস্থা পরকীয়ার জন্য অনেকটা দায়ী। নিজের লাইফ পার্টনার খারাপ এবং দূরের কোনও ব্যক্তি তাঁকে আরও সুখ এবং শান্তি দেবেন, এই ভ্রান্ত ধারণা থেকেও মানুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে যান।
ড) সামাজিকভাবে দেখাশোনা করা বিয়েতে অনেক সময় অভিভাবকরা ভালো-মন্দ না দেখে শুনে তাড়াহুড়ো করেই তাঁদের সন্তানদের বিয়ে দিয়ে দেন। ফলে ভবিষ্যতে তাঁদের ছেলেমেয়েদের বিবাহিত জীবন সুখের হয় না। অপছন্দের ব্যক্তির সঙ্গে থাকতে থাকতে তাঁরা পরকীয়ায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন।
ঢ) বিয়ের পর একটি সন্তান পরিবারে আসার পর মূলত সন্তানের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সন্তান নিয়ে অতি ব্যস্ত থাকার কারণে স্বামী-স্ত্রী কেউই একে অপরকে সময় দিতে পারেন না, যে কারণে আগের মতো ভালোবাসা থাকে না। আর তখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পরবর্তীতে তাঁরা পরকীয়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।
ণ) ভারতের অধিকাংশ সংসারে সন্তান কৈশোর অবধি বাবা-মার সঙ্গে একই বিছানায় থাকে। তার ফলে সন্তান জন্মানোর পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক মিলনে প্রভূত সমস্যা হয়। এভাবেই ধীরে ধীরে স্বামী-স্ত্রী সুযোগ বুঝে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়েন।
ত) দেখা যায়, কোনও কোনও পুরুষ বা নারী পেশায় দ্রুত প্রোমোশনের জন্য তাঁদের অফিসের কর্মকর্তার পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত হন। তাঁরা মনে করেন, তাতে চাকরিতে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
থ) কর্মক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির সঙ্গে প্রতিনিয়ত সময় কাটানো, বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার, সুখ-দুঃখের কথা শেয়ার করা ইত্যাদির মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সেটাও পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার একটি কারণ।
অন্য পোস্ট: নেতাজি ও ডাক্তারজি: আদর্শের দুই ভিন্ন রূপ
এবার আসি পরকীয়া সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নিয়ে আলোচনায়। বিদেশের মতো আমাদের দেশেও যেহেতু এই সমস্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে, সুতরাং এগুলির দ্রুত প্রতিকার করতে হবে। একমাত্র মানুষ নিজেই পারে এই সমস্যার সমাধান করতে। আবেগ দিয়ে নয়, বরং বিবেক দিয়ে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরকীয়া এমন একটি সম্পর্ক, যেখানে বেশি অলীক স্বপ্ন ভাসমান, কিন্তু তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতি অনেক বেশি হয়। যাঁরা পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে আছেন, ক্ষতি শুধু তাঁদের নয়, তাঁরা নিকট আত্মীয়দের সামাজিক-অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে চলেন। তাই পরকীয়া থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কয়েকটি উপায় আলোচনা করা যাক।
১) পরকীয়া সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসতে হলে সবার আগে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন। আপনাকে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি সত্যিই সম্পর্ক শেষ করতে চান, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা করুন। চাইছেন, অথচ বারবার ফিরে এসে সময় নষ্ট করছেন, এমনটা হলে কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তাই দেরি না করে আপনার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিন।
২) পরকীয়া সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে প্রথমেই সেই পুরুষ বা মহিলার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করুন। যে কোনও সম্পর্ক শেষ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হল সরাসরি কথা বলা। যদি সরাসরি জানাতে না পারেন, তাহলে ফোনে বা মেসেজে লিখে বিনীতভাবে জানান। তাঁকে বুঝিয়ে বলুন, যাতে তিনি আপনার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার চেষ্টা করেন। পালিয়ে গিয়ে বা দোষারোপ করে সম্পর্ক শেষ করতে গেলে ফল উলটো হতে পারে।
৩) “চক্রবৎ পরিবর্তন্তে দুঃখানি চ সুখানি চ।” অর্থাৎ সুখ-দুঃখ আমাদের জীবনে চাকার মতো ঘোরে। সুতরাং বৈধ জীবনসঙ্গীর সঙ্গে অশান্তি এলেই অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে আপনি সুখী হবেন, সে চিন্তা ছাড়ুন। কারণ সুখ-দুঃখের চাকার মতো ঘোরার বিষয়টি সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
৪) গীতায় বলা আছে, পৃথিবী দুঃখালয়। অর্থাৎ এই জগতে প্রকৃত সুখ কোথাও নেই। সুতরাং সুখের আশায় পরকীয়ায় জড়িয়ে কোনও লাভ নেই, বরং ভুলভ্রান্তি, দোষ-গুণ মেনে নিয়ে বিবাহিত সম্পর্কে টিকে থাকাই মূলমন্ত্র হওয়া উচিত।
৫) এমনিতেই আমরা না চাইলেও জীবনে প্রচুর টেনশন। পরকীয়া সম্পর্কে তা আরও বেড়ে যায়। তাই পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তিরই আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক ছিন্ন করে নেওয়া উচিত।
৬) পরকীয়া থেকে দূরে থাকতে আলোচনা করুন। আগে কেন পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। তারপর দু’জন আলোচনার মাধ্যমে ঠান্ডা মাথায় বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শেষ সমস্যাটি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। আপনার আচরণ, কথা, সবকিছুতেই যেন ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। কারণ অনেকেই আছেন, যাঁরা মুখে বলেন, ভালোবাসেন, কিন্তু কাজের সময় দেখা যায়, সঙ্গীর কথার কোনও মূল্যায়ন করেন না।
৭) কাজেই স্বামী বা স্ত্রীকে সত্যিকারের ভালোবাসুন। একে অন্যকে পরকীয়া থেকে বাঁচাতে এবং শান্তিপূর্ণ দাম্পত্য জীবন যাপন করতে সঙ্গীর চাহিদার মূল্যায়ন করুন। অর্থাৎ সঙ্গী বা সঙ্গিনী কীভাবে সুখে থাকতে পারেন, সে চেষ্টায় মশগুল থাকলে আখেরে দু’জনেরই লাভ।
অন্য পোস্ট: প্লাস্টিক নিষ্ক্রিয়তায় জোর দেওয়া দরকার
৮) সঙ্গীকে নতুনভাবে ভালোবাসুন। নিজেদের মধ্যে কথা বলে সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করুন। যে কারণেই আপনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়়ুন না কেন, তা শোধরানোর চেষ্টা করুন। সঙ্গীর বিশ্বাস অর্জন করার চেষ্টা করুন। তার জন্য সব সময় সত্যি কথা বলুন ও সৎ থাকুন। স্বামী বা স্ত্রী আপনার জন্য কী করেছেন, ভাবুন। পরিবারে নিজের গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করুন। নতুন দায়িত্ব নিন। এতে আপনাদের সম্পর্ক পুনরায় আগের মতো ভালো হয়ে যাবে।
৯) নিজের সুখের জন্য স্বার্থপরের মতো অন্য জায়গায় সুখ খুঁজতে গিয়ে আপনার ওপর নির্ভরশীল ছোট-বড় সমস্ত ব্যক্তিকে ভুলে যাওয়া একজন সুস্থ মস্তিষ্কের ব্যক্তির কাজ নয়।
১০) স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রেম-ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার। বিয়ের মাধ্যমে বন্ধনে আটকে গিয়েছেন বলেই যে ভালোবাসার বন্ধন সব সময় থাকবে, এমনটা ভাবা বোকামি। একবার বিয়ে করে এই সম্পর্ককে শুধু স্রোতের দিকে ছেড়ে দিলেই হবে না, বরং একে লালন করতে হবে স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই।
