তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
৪৩
হাইবারনেশনে ছিলাম দীর্ঘ শীত ঋতু,
আধেক ঘুমের মধ্যে।
কলরব করে আসে কুসুম মিছিল,
এত বেআক্কেলে কেন,
শুনতে পাওনি বসন্তের কড়া নাড়া!
রচনাকাল: ৪ মার্চ, ২০২৪
৪৪
কবিতা লিখব বলে বসে আছি
একলা নির্জনে, উদাসীন।
সাদা পাতা খোলা থাকে, কলম উদ্যত,
একটি পঙক্তিরও তবু দেখা নেই!
আঁকশি বাগিয়ে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি।
ডালে ডালে বসন্তের ফুটে ওঠা দেখি,
ফুলসাজি খালি থাকে, আঁকশি উদ্যত…
রচনাকাল: ৬ মার্চ, ২০২৪
৪৫
রোদ্দুরের খোঁজে ফেরে অর্ধেক আকাশ।
আমরা তা ফিরেও দেখি না,
আমরা এড়িয়ে যাই সবুজের আশা ও আকাঙ্ক্ষা।
প্রবল তর্জন শুনে ফিরে দেখি,
তর্জনী উঁচিয়ে আছে আরক্তনয়না।
রচনাকাল: ৮ মার্চ, ২০২৪
৪৬
প্রকৃতিকে ছোঁয় যদি হাসকুটি ফুলেল বসন্ত,
মনেও বসন্ত আর না এসে পারে!
রচনাকাল: ১১ মার্চ, ২০২৪
৪৭
জীবনযাপনে থাকি ফ্রেমবন্দি,
ওঠে নাভিশ্বাস।
ফ্রেম ভেঙে যেই না বেরিয়ে আসি,
ঢেউ ওঠে পাথরপ্রবাহে।
রচনাকাল: ১৩ মার্চ, ২০২৪
৪৮
প্রকৃতির গহন কন্দরে ফুটে থাকে বহতা অক্ষর।
চলমান এই আমি ঝুঁকে পড়ে তুলে নিই
টইটম্বুর আঁজলা,
সারা দিনমান চলে অক্ষরে অক্ষরে ফুলখেলা।
রচনাকাল: ১৫ মার্চ, ২০২৪
৪৯
শব্দে শব্দ গেঁথে এক একটি মেধার স্বর
বহুকাল ধরে বহুশ্রমে সাদা পৃষ্ঠার উপরে রেখেছি,
ভাবিনি কখনও, সেই স্পর্শমণি
তোমাকে দিয়েছে কি না উজ্জীবন।
রচনাকাল: ১৮ মার্চ, ২০২৪
৫০
সূর্যাস্ত নয়, যেন
আকাশের কমলা কপালে লাল সিঁদুরের ফোঁটা।
যেন রাঙাবউ রওনা দিয়েছে
পদ্মপুকুরের দিকে,
সারা রাত পম্ম তুলে আবার ফিরবে ভোর ভোর।
রচনাকাল: ২০ মার্চ, ২০২৪
৫১
শাখায় শাখায় পুষ্পগুচ্ছ
ঝাঁপিয়ে ভেজায় চৈত্রবেলা।
বেলা যে পড়ে এল, ফুলকে চল…
রচনাকাল: ২৩ মার্চ, ২০২৪
৫২
রংপাপড়ির ঠার ফেলে চলে গেছ
রাজপথে
দূর থেকে আরও দূর দেশে।
দৃশ্যপটে রেখে যাওয়া দিকচিহ্ন বরাবর
আমি আজও খুঁজে চলি সেই অধরাকে।
রচনাকাল: ২৬ মার্চ, ২০২৪
৫৩
আলাভোলা পথিকের বেশে
মাড়িয়ে মাড়িয়ে যাই রাঙামাটির সড়ক।
কোথায় পৌঁছব, তার ঠিকানা জানি না।
গন্তব্য না-ই বা জানলাম,
যাত্রাপথ হোক বর্ণময়।
রচনাকাল: ২৭ মার্চ, ২০২৪
৫৪
পাতার ঝরোকা দিয়ে টের পাই,
কীভাবে ঘনিয়ে আসে পার্থিব আঁধার।
হাতের মুঠোয় নড়াচড়া করে অস্থির সময়।
অপেক্ষায় থাকি, যে কোনও মুহূর্তে
টিপে দেব আলোভর্তি হোসপাইপের ট্রিগার।
রচনাকাল: ২৯ মার্চ, ২০২৪
৫৫
সংবাদপত্র খুলে চক্ষু স্থির,
নাকি জ্ঞানীদের মতিভ্রম,
পিটিআই জানাচ্ছে, আজ
ঘোষিত হয়েছে বিশ্ববুদ্ধু দিবস।
রচনাকাল: ১ এপ্রিল, ২০২৪
৫৬
চারপাশে ঝোপঝাড়, গুল্মলতা, পেলব বল্লরী।
হাসকুটি বুনোফুল শৈশবসখীর মতো
লাফ দিয়ে বলে, এতদিন কোথায় ছিলিস?
আমি পথ ভুলে ছোট্ট আমিটাকে
নেড়েচেড়ে দেখি ক্যালাইডোস্কোপে।
রচনাকাল: ৩ এপ্রিল, ২০২৪
৫৭
ফাল্গুন অলিন্দ জুড়ে পা ফেলে পা ফেলে যায়
সোনালি কাব্যের ঝিকিমিকি।
যেই না চৈত্র এল,
গদ্যের প্রবাহ আসে তীব্র দাবদাহে।
রচনাকাল: ৫ এপ্রিল, ২০২৪
৫৮
আকাশের ঝাঁপি থেকে চুরি হয়ে গেছে
যাবতীয় মেঘ।
লুণ্ঠনদ্রব্যের খোঁজে দিগ্বিদিক ছুটছে
ক্লান্তিহীন প্রকৃতি দারোগা।
রচনাকাল: ৮ এপ্রিল, ২০২৪
৫৯
দাহন ঝাপটে উড়েপুড়ে যায় চৈত্রের ধূলিবসন।
বর্ণিল আঁচলে মুড়ে বৃক্ষে বৃক্ষে সেজে ওঠে
বৈশাখী মঞ্জরী।
রচনাকাল: ১০ এপ্রিল, ২০২৪
৬০
মেধায় উড়তে থাকে রংবেরঙের কত
ভাবনা-পাপড়ি!
তাদের জাপটে ধরে একটু একটু করে
গেঁথে ফেলি এক স্বয়ংসম্পূর্ণ ফুল।
রচনাকাল: ১২ এপ্রিল, ২০২৪
