তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
২৬
কাকভোরে ঘুম ভেঙে আড়ামোড়া খাই।
বাইরে দৃশ্যমান কিছু ফুলেল পৃথিবী,
কোথাও যাওয়ার নেই আজ…
বাজছে না কলিং বেলও।
আলস্য শব্দটি মোটে ভালো নয়,
কিন্তু এ সব মুহূর্তে ভারী মনোরম।
রচনাকাল: ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
২৭
ফেলে যাচ্ছি দু’পাশের দৃশ্যপট, লোকালয়,
ফেলে যাচ্ছি এক-একটুকরো, আমি
ফেলে যাচ্ছি আমার গহন অস্তিত্বের রামধনু।
রচনাকাল: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
২৮
যে কেউ সুন্দর হলে তার দিকে সবাই তাকাবে,
তার সৌন্দর্যের লীলা
খুলে দেবে ভিতরের বন্ধ আগল।
রচনাকাল: ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
২৯
বিহানের স্পর্শ যেই দিগন্তের কোণে
বৃতির খোলস ছেড়ে
ফুটে ওঠে, দৃশ্যের পাপড়ি
কিছু তার সুবাস ছড়ায়,
কিছু ঝরে যায় সংকটে সংঘাতে।
রচনাকাল: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
৩০
রাতের নৈঃশব্দ্য ভেঙে উড়ে যায় রাতচরা পাখি,
নিদ্রাহীন শুনে তাই
পাখি পৃথিবীর ঘরে ফেরবার গান।
রচনাকাল: ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
৩১
যত অভিলাষ রাখা থাকে প্রকৃতির মহাফেজখানায়,
মনখারাপের দিন
ইচ্ছেমতো দোর খুলে ভিতরে ঢুকতে
একে একে ফুটে ওঠে উচ্ছ্বাস ঝরিয়ে।
রচনাকাল: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
৩২
যে আমিটা এককালে সমুদ্র শাসনে যেত
ময়ুরপঙ্খী নাও সাজিয়ে,
এখন সেদিনগুলো রূপকথা।
রচনাকাল: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
৩৩
ঘুম নয়, জেগে থাকাটাই আমার একমাত্র বিলাস।
যতক্ষণ চোখ মেলে থাকা যায়,
এই পৃথিবীর রূপ রস ছবি ও গন্ধ
শুষে নেওয়া যায় স্নায়ুতন্তুজালে।
রচনাকাল: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
৩৪
কলমের স্পর্শ পেলে প্রাণপ্রতিষ্ঠিত হয়
শব্দের শরীরে,
উড়ে আসে পুঁথির বল্কল,
আসে অজস্র শ্লোকের প্রাচীন গহনা,
চর্যাপদের এক দীর্ঘ উত্তরীয়…
রচনাকাল: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
বসন্ত পঞ্চমী
৩৫
কোলাহল থেকে বহু দূরে সরে এসে
প্রকৃতির মুখোমুখি হয়ে ধন্দে থাকি,
ধ্যানমগ্ন এই চরাচর
আমাকে নিঃশেষে গ্রহণ করবে, নাকি করবে না!
রচনাকাল: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
