সাগরময় অধিকারী

একবার দেহলিতে বিকেলবেলায় দীনেন্দ্রনাথের বাড়িতে বসে আড্ডা দিচ্ছেন জগদানন্দ, ক্ষিতিমোহন, হরিচরণ , বিধুশেখর ও প্রভাতকুমার । আকাশে তখন বৈশাখি ঝড় আসন্ন। রবীন্দ্রনাথ পথ দিয়ে যেতে যেতে লক্ষ করলেন, ওঁদের আড্ডাটা দারুণ জমে উঠেছে। এমনকী অতগুলো পণ্ডিত একত্রে থাকলে যা হয়, অর্থাৎ আড্ডাটা রীতিমতো তর্কে পরিণত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ কিছুদূর গিয়ে দেখতে পেলেন পাঠভবনের ছাত্র মুকুল দে আসছেন। উনি মুকুলকে ডেকে গম্ভীর মুখে বললেন, শোন, ওই যে ওরা দিনুর ওখানে বসে গল্প করছে, ওদের কাছে গিয়ে বলবি, গুরুদেব ঝড়ের মুখে গিয়েছেন। আপনারা এখনই যান।
এই নির্দেশ শুনে মুকুল তখনই দৌড়ে গিয়ে ওঁদের ডাকতেই ওঁরা সবাই ছুটে এসে চিন্তিত মুখে রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে দাঁড়ালেন। তিনি তখন জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ওঁদের কাছে জানতে চাইলেন, কী হয়েছে? আপনারা সবাই আড্ডা ছেড়ে হঠাৎ এমনভাবে আমার কাছে ছুটে এলেন কেন? ওঁরা তখন মুকুলের কথা বলতেই রবীন্দ্রনাথ বললেন, সে কী! আমি আপনাদের ডাকিনি তো!
রবীন্দ্রনাথের কথা শুনে ওঁরা খুব চটে গিয়ে মুকুলের দিকে তেড়ে গেলেন। মুকুল তখন বিস্ময়ে রবীন্দ্রনাথের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। অবস্থা বেগতিক দেখে রবীন্দ্রনাথ বললেন, আরে, আপনারা সবাই বড্ড বেরসিক তো ! আজ এপ্রিল মাসের কত তারিখ, সেটা কারও খেয়াল নেই!
