অশোক বসু

শীতের মুখে সিজন চেঞ্জের সময় ডাক্তারখানায় গেলে অপেক্ষমান পেশেন্টদের ‘খক খক’ শোনা যায়। যেন মনে হয় বেনারসে এসেছি। তবে কাশির রোগীরা কাশির মধ্যেও রসিকতা করেন।
ডাক্তার একসপ্তাহের পুরোনো এক রোগীকে বললেন, ‘আপনি এখন তো অনেক ভালো আছেন। কাশিটা ইমপ্রুভ করেছে দেখছি।’
রোগী কাশতে কাশতে উত্তর দিলেন, ‘গত সাতদিন ধরে কাশি প্র্যাকটিস করেছি ডাক্তারবাবু।’ ডাক্তার হেসে ফেললেন। রোগী কাশছেন, ডাক্তার হাসছেন। মোটা ফিস দিলাম, অথচ রোগ সারল না, সেক্ষেত্রে তাই হয়। তখন ডাক্তার মনে মনে হাসেন।
না, সব ডাক্তার একরকম নয়। অনেক ডাক্তার সেক্ষেত্রে ফিস নিতে লজ্জাবোধ করেন। তাই ফিসফিস করে ফিস চান। তবে সব ডাক্তারের পসার ভালো হয় না। এরকম এক ডাক্তার একটি নামী কোম্পানির ব্যাগের বিজ্ঞাপন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের চেম্বারের বাইরে নিজের বিজ্ঞাপন লিখে একটা বোর্ড টাঙিয়ে ছিলেন। ব্যাগের বিজ্ঞাপনটা ছিল, ‘This is a first class Bag, which can withstand third class treatment.’, আর্থাৎ ‘ইনি একজন ফার্স্ট ক্লাস ডাক্তার, যিনি থার্ড ক্লাস রোগীকে সারাতে পারেন।’ কিন্তু দেখা গেল, তাঁর রোগীর সংখ্যা এতে বৃদ্ধি পাওয়ার পরিবর্তে হু হু করে কমে গেল! তারপর তাঁর কম্পাউন্ডার ভুলটা ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ডাক্তারবাবু, ওটা থার্ড ক্লাস রোগ হবে। এখানে কোনও রোগী আসছেন না, কারণ রোগীদের তো মানমর্যাদা আছে। কেউ কি নিজেকে থার্ড ক্লাস রোগী হিসাবে ভাবতে পারেন?
আবার শুনলাম, পাশের পাড়ায় এক ভুয়ো ডাক্তার ধরা পড়েছে। জামিন অযোগ্য ধারা, তাই জেলে যেতে হল। ভুয়ো ডাক্তারটি এত ভালো ট্রিটমেন্ট করতেন যে, সে পাড়ার মানুষজন হঠাৎ খুব বিপদে পড়ে গেলেন। এবার হল কী, ওই পাড়ার রোগীরা ভুয়ো ডাক্তারটির আত্মীয় সেজে জেলে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে মৌখিক প্রেসক্রিপশন নিয়ে আসতে লাগলেন। খবর পেয়ে ওই পাড়ার পাশ করা ডাক্তাররা খুব চটে গেলেন।
