শিশির আজম (বাংলাদেশ)

যদি আমি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে চাই এই বিষাক্ত ইলেকট্রিকের আলোয়, তাহলে আমাকে এ ব্যাপারে নিঃসংশয় হতে হবে যে, রবি ঠাকুরের চারুলতা না নকশালবাড়ির চারু মজুমদার, কাকে আমি বেশি অনুভব করি, অনুভব করছি এখন। আপনারা তো চারুকে চেনেন। চারুলতা, ওর দেখাটাকে চারু মজুমদারের দেখার সঙ্গে কীভাবে আমরা গুলিয়ে ফেলছি! তা, গুলিয়ে ফেললামই বা, গুলিয়ে ফেলা মানে কি ভুল করা? ভুল করা আর যাব যাব করে পায়রাবন্দে না গিযে আর্টিকেল লেখা, আর রেশমগুটির ভিতর বেড়ে ওঠা মারাত্মক মথ, আর্ট জাংগল, ভুল কে করেনি? চারুলতা, চারু মজুমদার, এরা তো ভুলের সমাহার। আর সেই ভুলগুলো এরা এমনভাবে চারিয়ে দিয়েছে আমাদের ভেতর যে, আমরা অস্বস্তিতে পড়ে গেছি, আর সন্দেহ করছি নিজেদের আর আগুন খুঁজছি, আগুন, নিজেদের ভেতর। হ্যাঁ, এ ব্যাপারে তো আমরা দ্বিধাহীন যে, এরা আগুন রেখে গেছে আমাদের ভেতর কোথাও।
