অজয় ভট্টাচার্য

ছোটবেলায় কালো টাকা দেখার খুব ইচ্ছে ছিল। তখন কুড়ি পয়সায় ঘোল মালাই আর দশ পয়সায় পানি মালাই পাওয়া যেত। স্কুলে টিফিনে তাও জুটত না। তাই কালো টাকা দূরের কথা, সাদা টাকার মুখও দেখা হয়নি।
ব্যাঙ্কের এক ক্যাশিয়ারের ছেলে ছিল আমার বন্ধু। সে বলেছিল, ‘আমার বাবাও কোনও দিন কালো টাকা দেখেনি।’ তারপর কালো টাকা দেখার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। সেবার প্রধানমন্ত্রী যখন বললেন, ‘এ দেশের যত কালো টাকা বিদেশে আছে, তা মা-বাপসমেত ধরে আনব’, তখন খুব খারাপ লেগেছিল। যে আপদ দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে, সে অশুভ শক্তিকে দেশে ফেরত আনার কী দরকার! হয়তো আমার মতো তাঁরও খারাপ লেগেছিল, তাই পরবর্তীকালে তিনি এ নিয়ে আর উচ্চবাচ্য করেননি।
কিন্তু কালো-সাদা টাকার রঙের খেলার বিষয়টি অনেকটা পরিষ্কার হল সেদিন, যেদিন আমার এক ছাত্র খবর দিল, ‘আমার বাবার কাছে কালো টাকা আছে। আপনি গেলে দেখাতে পারি।’ একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে ওর বাড়ি ছুটলাম। জমিদারি আমলের কয়েকটি কালশিটে পড়া রুপোর টাকা। ছাত্রের বাবা রুমালে একটি লিকুইড লাগিয়ে টাকার দু’দিক ঘষে দিতেই একেবারে চকচকে সাদা টাকা। আমাকে বললেন, ‘কালো টাকার কালো দুর্নাম ঘোচানোর ক্ষমতা যাঁর থাকে, কেবল তাঁর কাছেই কালো টাকা থাকে। তাই কোনও টাকাই আসলে কালো থাকে না। ঠিকমতো ঘষতে পারলে সবই সাদা হয়ে যায়।’
