প্রদীপ্ত চৌধুরী

প্ল্যানচেট ব্যাপারটা কী, সে সম্পর্কে ছোটবেলায় তেমন ধারণা ছিল না। তবু স্কুলজীবনের শেষ পর্ব থেকেই আমি আর সুব্রত বিদেহী আত্মাকে ধরাধামে টেনে আনার চেষ্টা করতাম। কিন্তু চেষ্টাটুকুই সার হত। কোনওদিন কোনও আত্মাই আমাদের দিকে ফিরে তাকায়নি।
আমরা ছোটবেলার বন্ধু। ১২ বছর পাশাপাশি বসে ক্লাস করেছি। কিন্তু পরবর্তী জীবনে দু’জনে দু’দিকে ছিটকে গিয়েছি। ও এখন থাকে পুণেতে। ফোনে যোগাযোগ থাকলেও দেখা হয় কম। বছরে বড়জোর দু’-একবার। কিন্তু যখনই দেখা হয়, তখনই আমরা সেই আগের মতোই প্রায়ান্ধকার ঘরে ধূপধুনো জ্বেলে প্ল্যানচেট করতে বসি।
দিনকয়েক আগে সুব্রত ফের এসেছিল। এবার আগে থেকে কিছু জানায়নি আমাকে চমকে দেবে বলে। সেদিন বাড়িতে কেউ ছিল না। আমরা দু’-চার কথার পরেই মোবাইল ফোনের সাউন্ড-টাউন্ড অফ করে প্ল্যানচেট করতে বসে গেলাম। তবে প্ল্যানচেটে ক্রমশ আমার আস্থা কমছিল। কিন্তু সুব্রতর বিশ্বাস তখনও অটল ছিল।
অন্য পোস্ট: এবার কি দাড়ীশ্বরের পালা!
সেদিন প্ল্যানচেট যখন মাঝপথে, ঠিক তখনই হঠাৎ প্রবল বেগে ঝড় এল। জানলাগুলো বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলাম। সেগুলো প্রচণ্ড শব্দে যেন চপেটাঘাত করতে লাগল। ঘরের মধ্যেও ঢুকে এল ঘূর্ণি হাওয়া আর ধুলোর ঝাপটা। টিমটিম করে প্রাণপণে যে মোমবাতিটা এতক্ষণ জ্বলছিল, সেটাও গেল নিভে। পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র অন্ধকার।
ঠিক সে সময় আমার মোবাইল ফোনে হঠাৎ আলো জ্বলে উঠল। নাম ফুটে উঠল ‘অতসী’। সুব্রতর বউ! সুব্রতকে ফোন না করে আমাকে কেন? আমি ‘হ্যালো’ বলতেই ওপার থেকে কান্নাভেজা গলায় অতসী বলল, ‘দাদা, আপনার বন্ধু তো আজ চলে গেল। ঘণ্টাখানেক আগে। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক।’
লাইনটা কেটে দিয়েই ঘরের আলো জ্বেলে তন্নতন্ন করে সুব্রতকে খুঁজতে থাকলাম। কোথাও আর পেলাম না তাকে।

ভালো লাগলো অণুগল্প প্ল্যানচেট