কুন্তল চক্রবর্তী

গ্রামবাংলার গৃহস্থের হেঁসেলে একসময় অতি সাধারণ উপকরণ ছিল ঘুঁটে। রান্নার জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত এ উপাদানকে এ সময় শিল্পের উপকরণ হিসাবে কেউ কল্পনা করেনি। কিন্তু সেই অপ্রচলিত উপাদানকেই শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন শিল্পী অভীক সরকার। তাঁর সৃজনশীল ভাবনার সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করেছেন সহশিল্পী তপন কর্মকার, স্বপন কর্মকার, মনীষা কর্মকার এবং মৌমিতা কর্মকার।
বনগাঁর ইউনাইটেড ক্লাবের এবারের দুর্গাপুজো মণ্ডপে শিল্পীরা উপস্থাপন করেছেন এক অভিনব দৃশ্যায়ন, যেখানে দেবী দুর্গা এবং সমাজজীবনের নানা চরিত্র ফুটে উঠেছে ঘুঁটে দিয়ে তৈরি প্রতিমা ও অলঙ্করণে। ঐতিহ্যবাহী উপাদানকে আধুনিক শিল্পের ছোঁয়ায় সাজিয়ে তোলার এ প্রচেষ্টা দর্শকদের নজর কেড়েছে।
স্থানীয় মানুষ, দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্ত-দর্শকদের অভিমত, এটি কেবল পুজোমণ্ডপ নয়, বরং এক চলমান প্রদর্শনী। এতে প্রমাণিত হয়েছে যে, অতি সাধারণ উপাদানও শিল্পের ভাষায় মহিমামণ্ডিত হতে পারে।
শিল্পী অভীক সরকারের মন্তব্য, ‘আমরা চেয়েছি গ্রামীণ জীবনের অবহেলিত বাস্তবতাকে শিল্পের মাধ্যমে নতুন করে তুলে ধরতে। ঘুঁটে শুধুই জ্বালানি নয়, এটিও হতে পারে শিল্পকর্মের বাহক, এই বার্তাই আমাদের কাজের মধ্যে প্রতিফলিত।’
ইউনাইটেড ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের থিম শুধু দর্শনীয় নয়, সামাজিক বার্তাও বহন করেছে। গ্রামীণ সংস্কৃতির মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এ উপস্থাপনা আগামী দিনে আরও অন্যান্য শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
সার কথা, গৃহস্থের অবহেলিত ঘুঁটে এবার শিল্পের ক্যানভাসে রূপান্তরিত হয়ে দুর্গোৎসবকে দিয়েছে এক অন্য মাত্রা।
