সুদীপ ঘোষাল

ঝুলু সাইকেল থামিয়ে স্যারের চরণে মাথা ঠেকাল। রিটায়ার্ড স্যার বলছেন, আরে থাক থাক, পায়ে ধুলো আছে। — এই ধুলো তো আমাদের মানুষ তৈরি করেছে স্যার। — তারপর বল, কেমন আছিস? — ভালো স্যার। — আচ্ছা, তোদের প্রিয় স্যার কে ছিলেন জানতে ইচ্ছে হয়। — আপনাকে খুব ভালো লাগত আমাদের। — সেকথা আমিও বুঝতাম। — অন্য বন্ধুরা আপনাকে আড়ালে পাই স্যার বলত। আপনার মতো শিক্ষানুরাগী স্যার হাজার হাজার প্রয়োজন দেশের। মার্চ মাসে বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের জন্ম। এই বিজ্ঞানীর জন্মদিনে খুব মজা করে আপনি বিজ্ঞান বোঝাতেন। আপনি বলতেন, বিজ্ঞানী আইনস্টাইনও খুব রসিক মানুষ ছিলেন। স্যার বললেন, হ্যাঁ ঠিক। একবার তাঁর জন্মদিনে লাফিং গ্যাসের বোতলের ঢাকনা খুলে গিয়ে হাসাহাসির কাণ্ডটা মনে পড়ে তোর? — হ্যাঁ স্যার। সকলে হাসছিলাম আমরা। হেড স্যার রেগে গিয়ে ঘরে ঢুকেই হাসতে শুরু করলেন। স্যার বললেন, হ্যাঁ, আমি দেখলাম মুখ খোলা বোতলের গায়ে লেখা ছিল, নাইট্রাস অক্সাইড। বুঝলাম, লাফিং গ্যাসের বোতল খুলে রাখায় এই বিপত্তি। আমি বন্ধ করলাম বোতলের ঢাকনা। তারপর দশ মিনিট পরে হেড স্যারকে বললাম, স্যার, লাফিং গ্যাসের বোতল খুলে ফেলেছে কেউ। তার ফলে এই হাসি। ঝুলু বলল, সেদিন স্যার হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গিয়েছিল। স্যার বললেন, কে বোতলের ঢাকনা খুলেছিল, তুই জানিস নাকি? ঝুলু বলল, অভয় দিলে বলি স্যার। আমরা আপনাকেই সন্দেহ করেছিলাম। কারণ আপনার কাছে ছিল আমাদের খুশি রাখার ঝুলি। আপনি আমাদের কাছের মানুষ ছিলেন। স্বপ্নটা ভাঙার পর ঝুলু দেখল, স্যারের লম্বা ছায়া আলোর পথে এগিয়ে চলেছে ক্রমশ।
