মহাশোরগোল প্রতিবেদন: বাজছে ধামসা-মাদল। মাঝেমধ্যে দমকা হাওয়া। আকাশে ঘন মেঘ। ঘূর্ণিঝড় ডানার প্রভাবে বৃষ্টিবিধ্বস্ত পথঘাট। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন। তবুও বৃহস্পতিবার তাকে উপেক্ষা করে খাতড়ায় দেখা গেল মানুষের ঢল। মনোনয়পত্র জমা দেবেন তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহবাবু। তাই বিপুল জনসমাগম।
ওইদিন হুডখোলা গাড়িতে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেন ফাল্গুনী। বাঁকুড়া জেলা নেতৃত্ব দেন ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক। উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার নেতারা। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও তৃণমূলের সমর্থনে এগিয়ে আসা মানুষের জোয়ার দেখে আপ্লুত তাঁরা।
শোভাযাত্রায় দু’টি হুডখোলা গাড়িতে ছিলেন তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরূপ চক্রবর্তী, বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায়, সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান তথা বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুমদার। উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান তথা বড়জোড়ার বিধায়ক অলক মুখোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ অর্চিতা বিদ, আইএনটিটিইউসির বাঁকুড়া জেলা সভাপতি রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্য নেতারাও। তবে অসুস্থতার কারণে কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে পারেননি রাজ্যের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি।
ওইদিন তৃণমূল প্রার্থী লক্ষ্মীসাগরের রুক্মিনী মন্দিরে পুজো দিয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে খাতড়া যান। তারপর পাপড়া মোড় থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। খাতড়া পরিক্রমা করে তা শেষ হয় পাম্প মোড়ে। সেখান থেকে দলীয় নেতাদের সঙ্গে খাতড়া মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে ফাল্গুনী মনোনয়পত্র জমা দেন।
অন্য পোস্ট: কেঞ্জাকুড়ার জাম্বো জিলিপি
অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘লোকসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর আমরা জঙ্গলমহলে এত বড় মিছিল এই প্রথম করলাম। ঘূর্ণিঝড় ডানার কারণে কর্মসূচি নিয়ে চিন্তায় ছিলাম, কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে মানুষ যেভাবে তৃণমূলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে উপনির্বাচনে আমাদের জয় নিশ্চিত।’
প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহবাবু বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ৩৬৫ দিন মানুষের পাশে আছে। আপাতত ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। প্রচারের চেয়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর তৃণমূল কংগ্রেস ৩৬৫ দিন মানুষের পাশে থাকে। আমাদের জয় রুখবে কে? ভোটের মার্জিন বাড়ানোটাই এখন তৃণমূলের লক্ষ্য।’
