অজয় ভট্টাচার্য

ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী, ভারত শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য ৩ শতাংশেরও নীচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষায় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে ভারতে নারী ও পুরুষ সমতা (parity ) অর্জন করেছে। মেয়েরা এখন ছেলেদের মতোই স্কুল-কলেজে ভর্তি হচ্ছে, পড়াশোনা করছে এবং উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে। শিক্ষার সুযোগে নারী-পুরুষের ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
সব মিলিয়ে শিক্ষা অর্জন বিভাগে ভারতের স্কোর হয়েছে ৯৭.১ শতাংশ। ১০০ শতাংশ স্কোর করলে সম্পূর্ণরূপে সমতা অর্জন বোঝায়। তাই যেটুকু ফারাক এখনও রয়ে গিয়েছে, তাও আগামী দিনে থাকবে না বলে বিশেষজ্ঞদের মত। দৃষ্টান্ত হিসাবে বলা যায়, যদি ১০০ জন ছেলে স্কুলে যায়, তাহলে এখন প্রায় ৯৭ জন মেয়েও স্কুলে যাচ্ছে। আগে এই সংখ্যা ছিল ৭০-৮০-তে সীমাবদ্ধ। শিক্ষাক্ষেত্রে মেয়েরা এখন ছেলেদের
সমান সুযোগ পাচ্ছে, যা দেশের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন নারী ও পুরুষ উভয়েই সমানভাবে শিক্ষার আলো পাবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং আত্মনির্ভরতা, আত্মসম্মান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। তাই নারীর শিক্ষা আসলে ক্ষমতায়নের প্রথম ও সবচেয়ে শক্তিশালী ধাপ। শিক্ষিত নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শেখে এবং পরিবার ও সমাজে সমতার দাবিদার হয়। একজন শিক্ষিত মা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও শিক্ষার মূল্য শেখান। ফলে একজন শিক্ষিত নারী গোটা সমাজকে আলোকিত করার ক্ষমতা রাখেন।
তবে গ্রামীণ অঞ্চল ও দরিদ্র সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এখনও কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, দারিদ্র, কুসংস্কার ও অল্পবয়সে বিয়ে, যা নারীশিক্ষার পথে বড় অন্তরায়। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও মানসিক পরিবর্তনও অত্যন্ত জরুরি।
