Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

স্বর্ণকুমারী দেবী আধুনিক ভারতের প্রথম বিজ্ঞান বিষয়ক লেখিকা

স্বর্ণকুমারী দেবী।

Share Links:

সুদীপনারায়ণ ঘোষ

স্বর্ণকুমারী দেবী আধুনিক ভারতের প্রথম বিজ্ঞান বিষয়ক লেখিকা। ১৮৮২ সালে তিনি বিজ্ঞানের ওপর ‍‘পৃথিবী’ নামে একটি বই লিখেছিলেন। তাঁর বিজ্ঞান বিষয়ক ২৪টি প্রবন্ধের মধ্যে ১৭টি ১৮৮০ থেকে ১৮৮৯ সালের মধ্যে ভারতী  জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি নতুন বৈজ্ঞানিক পরিভাষা তৈরি করে বাংলা ভাষাকে প্রসারিত করেছিলেন, সেই সঙ্গে রাজেন্দ্রলাল মিত্র, মধুসূদন গুপ্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও বঙ্কিমচন্দ্রের তৈরি শব্দগুলিও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তাঁর বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধগুলি বিজ্ঞান শিক্ষার প্রচারে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে সাধারণ পাঠকদের জন্য লেখা হয়েছিল। তিনি বিভিন্ন জার্নালে বিজ্ঞানের ওপর আরও সতেরোটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন।

সম্প্রতি স্বর্ণকুমারী দেবীর বিজ্ঞান বিষয়ক সমস্ত প্রবন্ধ ‍‘স্বর্ণকুমারী দেবীর বিজ্ঞান রচনা সংগ্রহ’ নামে একটি বইয়ে সংকলিত হয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তিনি দাবি করেছেন যে, ভারতীয়রা গবেষণার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞান অধ্যয়নের ক্ষেত্রে পশ্চিমিদের চেয়ে বেশি এগিয়েছিলেন। সেগুলি ভারত থেকে মিশর, গ্রিস প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। স্বর্ণকুমারী দেবী আর্যভট্টের গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন যে, তিনি একহাজার বছর আগে সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর বার্ষিক উপবৃত্তাকার গতি সম্পর্কে জানতেন, যা ইউরোপ মাত্র ষোড়শ শতাব্দীতে জানতে পেরেছিল।

ভাস্করাচার্য আইজ্যাক নিউটনের আটশো বছর আগে তাঁর সিদ্ধান্ত শিরোমণিতে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন। আর্যভট্ট ইউরোপের আগে বিষুব রেখার নির্ভুলতা সম্পর্কে জানতেন। তিনি ইউরোপের আগে সৌরকলঙ্ক দেখেছিলেন। তিনি মার্কন্ড্যেয় পুরাণ থেকে উদ্ধৃত করেছেন,  তেজঃ শতানং চক্রে বিশ্বকর্মা শনোইহশানেহ তেনাস্মীনা শ্যামিকা জটা শতনোর্চিষস্তথ— অর্থাৎ বিশ্বকর্মা সূর্যের শক্তিকে একটু একটু করে কেটে ফেলেন এবং যে অংশগুলি কেটে ফেলা হয়েছিল, তা ‍‘শ্যামিকা’ অর্থাৎ কলঙ্কে পরিণত হয়।

পরবর্তী সময়ে স্বর্ণকুমারী দেবী দাবি করেছেন যে, ইউরোপের নৃ-বিজ্ঞানীরা যা আবিষ্কার করেছেন, তা হিন্দু পুরাণে পাওয়া যায়। ইউরোপীয়রা চারটি যুগে মাছ, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং মানুষের বিবর্তনকে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। স্বর্ণকুমারী লিখেছেন যে, প্রাথমিকভাবে কোনও জীবন্ত প্রাণী ছিল না, বিশাল জলাশয়ের প্রথম জীবন্ত প্রাণী ছিল মৎস্য (মাছ), দ্বিতীয় জীবন্ত প্রাণী ছিল কূর্ম (একটি সরীসৃপ), তৃতীয় ছিল বরাহ (শূকর, একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী) এবং চতুর্থটি হল নৃসিংহ (মানুষ)। রূপক ব্যবহার করে তারা স্রষ্টাকে বারবার আবির্ভূত করেছেন। এই সৃষ্টি পরমেশ্বরের ইচ্ছায় বিকশিত হয়েছে, তাই তিনি প্রতিবারই বিভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন।

এভাবে আমাদের জীবজগতের সঠিক ব্যাখ্যা ভারতের বৈজ্ঞানিক সাফল্যের অনেক আশ্চর্যজনক তথ্য প্রকাশ করতে পারে। যে কোনও হিন্দু সংগঠন যদি এ বইটি ইংরেজি এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ করার উদ্যোগ নেয়, তবে তারা ভারতীয় সভ্যতার অশেষ উপকার করবে।

3 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Angshu Pal
Angshu Pal
1 year ago

Thanks to you for letting me know some details of the outlooks of Swarna Kumari Devi. Though I find some anomalies within her viewpoints, I must look at the positive aspects of her writings.

এই বিভাগে

সফলতা কাকে বলে

বিশ্ব ক্রিকেটের উত্তরণে কেরি প্যাকারের ভূমিকা

যুগে যুগে তখন এখন (পর্ব ৮)

পথেঘাটে নাকে আঙুল সমাজের নগ্ন সত্য

ভারতীয় চলচ্চিত্রে চিরভাস্বর বাঙালি প্রতিভার আলো

আমরা দেশি কুকুরকে অবহেলা করেছি

যুগে যুগে তখন এখন (পর্ব ৭)

বাংলা সাহিত্যে নদী

ভারতীয় ক্রিকেট দল পারলে অন্যান্য খেলায় দেশ পিছিয়ে কেন 

क्या स्कूल के पाठ्यक्रम में थिएटर को शामिल किया जाना चाहिए