mahashorgol.com প্রতিবেদন: শ্রীহট্ট সম্মিলনী সল্টলেকের ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারে জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে সার্ধশতবর্ষ উদ্যাপন করতে চলেছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে। চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ শাসনকালে সমাজ সংস্কার, শিক্ষা বিস্তার ও সাংস্কৃতিক জাগরণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সিলেটি সমাজের একদল দূরদর্শী ও সমাজসচেতন মনীষীর উদ্যোগে শ্রীহট্ট সম্মিলনী গড়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডা. সুন্দরীমোহন দাস, বিপিনচন্দ্র পাল, তারকিশোর চৌধুরী (স্বামী সন্তদাস বাবাজি), রেভারেন্ড জয়গোবিন্দ সোম প্রমুখ। পরবর্তী কালে গুরুসদয় দত্ত ও ডা. ত্রিগুণা সেনের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তির অবদানে প্রতিষ্ঠানটির বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও সমৃদ্ধ হয়।
প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে শ্রীহট্ট সম্মিলনী সিলেটি ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রসারে, কন্যাশিক্ষা-সহ প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তারে, সমাজসচেতনতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে এবং প্রজন্মান্তরে সামাজিক ঐক্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রাচীন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শ্রীহট্ট সম্মিলনীর সার্ধশতবর্ষ উদ্যাপন একটি বিরল ঐতিহাসিক ঘটনা। ভারতে খুব কম সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানই ১৫০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন জনসেবার ঐতিহ্য বহন করার গৌরব অর্জন করেছে। ২০২৬–’২৭-এর সাংস্কৃতিক, বৌদ্ধিক ও সমাজমুখী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতাদের ও পরবর্তী প্রজন্মের অবদানকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক ভূমিকার পুনর্মূল্যায়ন, নবীন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করা এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে শ্রীহট্ট সম্মিলনীর প্রাসঙ্গিকতা পুনর্ব্যক্ত করা হবে।

