শক্তিকুমার চট্টোপাধ্যায়

প্রথা ও ঐতিহ্য মেনে বাঁকুড়া জেলায় মহাসমারোহে পালিত হল এখ্যান বা আখ্যান পরব। এই উপলক্ষে ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জেলায় গৃহস্থের ঘরের উঠোন বা ‘এগনা’য় পূজিতা হন ধনদাত্রী দেবী লক্ষ্মী। এখ্যান পরব জেলার তফশিলিদের কাছে শিকার পরব নামে পরিচিত। পয়লা মাঘ অর্থাৎ এখ্যান দিন থেকেই শুরু হয় কুড়মি সম্প্রদায়ের নতুন ক্যালেন্ডার বা নতুন বছর। শুরু হয় কৃষিকাজ। তবে প্রথা ও পরম্পরা মেনে এখ্যান দিনে জগদল্লা গ্রামে শ্রীশ্রীরাধামাধবজিউর আগমন এক পবিত্র আবেগ এবং উন্মাদনা তৈরি করে।
জেলার সদর শহর থেকে মাত্র সাত-আট কিলোমিটার দূরেই রয়েছে বাঁকুড়া ১ ব্লকের অন্তর্গত জগদল্লা গ্রাম। এই গ্রামের রাসযাত্রা খুব প্রসিদ্ধ। মাঘী পূর্ণিমায় বসে চারদিনের রাসের মেলা। এখ্যান দিনেই প্রাচীন রীতি মেনে কুমিদ্যা গ্রাম থেকে ২২ কিলোমিটার পথ ভক্তদের কাঁধে পালকিতে চড়ে গ্রামে ফেরেন জগদল্লার কুলদেবতা শ্রীরাধামাধবজিউ। এবারেও রীতি মেনে জগদল্লা গ্রামে এলেন শ্রীশ্রীরাধামাধবজিউ। তিনি জগদল্লা গ্রামের বাসিন্দাদের কুলদেবতা। তিনি তিন মাস থাকেন বাঁকুড়া ১ ব্লকের কুমিদ্যা গ্রামে। বাকি ন’মাস জগদল্লা গ্রামে থাকেন।
হরিনাম সংকীর্তন ও শোভাযাত্রা সহকারে এবারেও কুমিদ্যা গ্রাম থেকে দুপুরে রওনা হয়ে পাতালখুরি, নন্দীগ্রাম, রাজগ্রাম প্রভৃতি গ্রামে পুজো-আচার শেষ করে সন্ধ্যাবেলায় জগদল্লা শীট পাড়ায় এসে পৌঁছলেন শ্রীশ্রীরাধামাধবজিউ। তাঁর আগমন উপলক্ষে মেলা বসেছিল । পরম্পরা ও রীতি অনুযায়ী জগদল্লা গ্রামের একদল শিকারি শ্রীশ্রীরাধামাধবজিউর আগমন উপলক্ষে শিকার করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় জঙ্গলে যান। শ্রীশ্রীরাধামাধবজিউ গ্রামে ঢোকার পর শিকার নিয়ে শিকারি ভক্তরা গ্রামে ঢুকে তাঁর কাছে আসেন। তারপরই প্রথা মেনে পবিত্র পুজো, অর্চনা, আরতি শেষে শ্রীশ্রীরাধামাধবজিউকে মূল মন্দিরে স্থাপন করা হয়। জগদল্লা গ্রামে শ্রীশ্রীরাধামাধবজিউর আগমন উপলক্ষে গ্রামজুড়ে প্রত্যেক গ্রামবাসীর মধ্যে ছিল প্রবল আনন্দ ও খুশির উন্মাদনা।
