কুন্তল চক্রবর্তী

বনগাঁ শহরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ইতিহাসের জীবন্ত দলিল শ্রীকৃষ্ণ চতুষ্পাঠী আজ অস্তিত্বের সংকটে। একসময়ের গৌরবময় সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র, যেখানে বিদ্যাচর্চা ও ধর্মীয় আলোচনায় মুখর থাকত গোটা এলাকা, বর্তমানে তা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জীর্ণ এবং প্রায় পরিত্যক্ত এক স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
চতুষ্পাঠীর দেওয়ালে স্থাপিত শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৩৬৩ বঙ্গাব্দের ৫ ফাল্গুন এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে ১৯৪১ সালে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়ন মহাধ্যক্ষ রমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (আইসিএস)-এর উদ্যোগে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই তথ্যই প্রমাণ করে বনগাঁর সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ চতুষ্পাঠীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব।
একসময় এখানে দূরদূরান্ত থেকে পড়ুয়ারা এসে সংস্কৃত শিক্ষা গ্রহণ করত। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক সভা ও বিদ্বজ্জনদের আলোচনায় মুখর থাকত চতুষ্পাঠী প্রাঙ্গণ। অথচ আজ এই ভবনের দেওয়ালে ফাটল, দরজা-জানালার ভগ্নদশা, খসে পড়া ছাদ এবং চারপাশে নিস্তব্ধতা— সব মিলিয়ে স্পষ্ট অবহেলার ছবি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সংস্কার বা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের আশঙ্কা, অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যে কোনও সময় এই শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, শ্রীকৃষ্ণ চতুষ্পাঠীকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার স্বীকৃতি দিয়ে অবিলম্বে সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। তা না হলে বনগাঁ ইতিহাসের এক অমূল্য অধ্যায় চিরতরে হারিয়ে ফেলবে।
প্রশ্ন উঠেছে, ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব কি শুধুই ইতিহাসের পাতায় বন্দি থাকবে, নাকি বাস্তবে তার রক্ষা নিশ্চিত করা হবে?

